গুরুত্বপূর্ণ দিক
- প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক রয়েছে, তাই নিয়ম ও ভাড়া স্টেটভেদে ভিন্ন হতে পারে
- সব বড় শহরে প্রি-পেইড স্মার্টকার্ড পাওয়া যায়, এবং অনেক ক্ষেত্রে পেমেন্টের জন্য কন্ট্যাক্টলেস ব্যাংক কার্ড ব্যবহারের সুবিধা থাকতে পারে
- টিকেট বিষয়ক নিয়ম পালন ও নিরাপত্তা কর্মীদের মাধ্যমে এবং সকল পরিবহন নেটওয়ার্কে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়
অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ডের এই পর্বে গণপরিবহন সম্পর্কিত কিছু ধারণা আমরা জানতে পারব, দীর্ঘদিন ধরে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারকারীরা প্রায়ই যেগুলো স্বাভাবিক বলে ধরে নেন। উদাহরণস্বরূপ, টিকেট পরিদর্শক আপনার কাছে এসে কী বলতে পারে, বা যাত্রীদের কোন ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
আমরা সাধারণত কীভাবে কর্মস্থলে যাই?
অস্ট্রেলিয়ান পরিসংখ্যান ব্যুরো ১৯৭৬ সাল থেকে জাতীয় সেনসাসে এই প্রশ্নটি করে আসছে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে শীর্ষে রয়েছে এই উত্তরটি, ‘নিজে গাড়ি চালিয়ে যাই’।
ধারণা করা হয় কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিনের যাত্রার জন্য চারজনের মধ্যে মাত্র একজন অস্ট্রেলিয়ান পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করেন। আর রিজনাল এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য গণপরিবহন সেবা অনেক সীমিত হতে পারে।
কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অনেক দিক থেকে দ্রুত, সস্তা এবং অনেক ক্ষেত্রেই আরও সুবিধাজনক বা প্রয়োজনীয় হতে পারে।
বেশিরভাগ বড় শহর এবং অনেক শহরতলিতে স্মার্ট কার্ড টিকেট ও পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট ও লজিস্টিক্স স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বিভাগের চেয়ার অধ্যাপক জন নেলসন বলেন, এই সিস্টেমগুলো বিভিন্ন নামে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে কাজ করে।
বিভিন্ন স্টেট ও টেরিটরিতে ব্যবহৃত প্রে-পেইড কার্ডগুলো হচ্ছে:
- Opal card for Sydney
- Myki for Melbourne
- go card for Brisbane
- SmartRider for Perth
- metroCARD for Adelaide
- GreenCard for Hobart
- Tap and Ride Card for Darwin
- MyWay for Canberra
প্রফেসর নেলসন বলেন,
ক্যাশলেস পেমেন্টের জন্য স্মার্ট কার্ড সিস্টেম ব্যবহার করা বেশ সহজ।
কিন্তু যদি আগে কখনও ব্যবহার না করে থাকেন, তাহলে ব্যবহারের আগে আপনাকে খানিকটা খোঁজ নিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কগুলোতে ছুটির দিন এবং সপ্তাহান্তে ভ্রমণের জন্য সাধারণত ডিসকাউন্ট বা ছাড়ের প্রচলন রয়েছে।
অনেক সিস্টেমেই বেশ কিছু মূল্যসীমা প্রযোজ্য থাকে, যেমন দৈনিক সর্বোচ্চ খরচ, সাপ্তাহিক ব্যয়ের সীমা, বা দুটোই।
নিউ সাউথ ওয়েলসের ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেটর জেনারেল হাওয়ার্ড কলিন্স বলেন,
ওপাল কার্ড ব্যবহার করে নেটওয়ার্কের ভেতর সব ধরণের যানবাহনেই যাতায়াত করা যায়।
কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি যেখানে বসবাস করেন বা যেখানকার গণপরিবহন ব্যবহার করছেন, সে জায়গায় কোন নিয়ম প্রযোজ্য তা সবসময় যাচাই করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, কিছু রিজনাল বাস ও ট্রেনে এখনও কাগজের টিকেট বা ই-টিকেট প্রয়োজন হয়, যেমন রিজনাল ভিক্টোরিয়ার কিছু এলাকায়।
কিছু জায়গায়, যেমন ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ায় টিকেট কেনার জন্য এখনও ক্যাশ ব্যবহার করা যায়।
আর যেসব অঞ্চলে কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার হয়, সেখানে যাত্রীরা ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে ট্যাপ-অন ও ট্যাপ-অফ করতে পারেন।

আর যদি কোনো ভুল হয়ে যায়—যেমন ট্যাপ-অন বা ট্যাপ-অফ করতে ভুলে যাওয়া, ভুল কার্ড ব্যবহার করা বা মেশিন কাজ না করা—তাহলে স্টাফদের সাথে কথা বলতে হবে বা পরিবহণ কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
অনুমোদিত অফিসাররা টিকেট পরীক্ষা করে থাকেন, যারা নিজেদের পরিচয় দেবেন এবং আপনার স্মার্টকার্ড বা ব্যাংক কার্ড স্ক্যান করার জন্য চাইবেন।
ব্যাংক কার্ড স্ক্যান করার সময় কর্মকর্তারা কেবল টিকেট সম্পর্কিত তথ্যই দেখতে পারেন,
বলেন মি. কলিন্স।
অনেকে হয়ত কনসেশন ভাড়ার জন্য যোগ্য হন—যেমন শিক্ষার্থী, পেনশনভোগী বা কিছু ভিসা হোল্ডার—তবে সে-সম্পর্কে আগেই খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন, এবং সঙ্গে অবশ্যই প্রমাণপত্র রাখতে হবে, কারণ কনসেশন পাওয়ার যোগ্যতার নিয়ম রাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।
পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যে ধরণের অপরাধের জন্য জরিমানা বা চার্জ হতে পারে, তার মধ্যে টিকেট এবং আচরণ সংক্রান্ত অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে বৈধ টিকেট ছাড়া ভ্রমণ করা বা কনসেশন পাওয়ার যোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া ভ্রমণ করা।
এছাড়া আরও কিছু আচরণও এর মধ্যে পড়ে, যেমন ধূমপান, মদ্যপান বা আসনে পা রাখা।
যদি আপনি জরিমানা পেয়ে থাকেন এবং মনে করেন যে এটি অন্যায়ভাবে দেয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনি আইনি পরামর্শ নিতে পারেন বা আপনার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষকে আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন।
জরিমানা পরিশোধ না করা হলে তা কালেকশন এজেন্সির কাছে পাঠানো হতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের শাস্তির দিকে গড়াতে পারে।
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অথরিটির কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর শার্লট হেইস বলেন, এ স্টেটে সাধারণত একটা টিম জরিমানাগুলো তদারকি করে।
জরুরি পরিস্থিতিতে বা কখনও সার্ভিস ব্যাহত হলে, কর্তৃপক্ষের ঘোষণা ও স্টাফদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন, এবং যদি তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন হয় তবে অনবোর্ড ইন্টারকম বা হেল্প পয়েন্ট ব্যবহার করুন।
অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কগুলোতে স্টেশন এবং যানবাহনে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিফর্ম পরিহিত স্টাফরাও থাকেন যাতে সবাই নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ভ্রমণ করতে পারেন।
মিজ হেইস বলেন,
নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো উদ্বেগ থেকে থাকলে নিশ্চিন্তে স্টাফদের সাথে কথা বলুন।
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সেবায় প্রায়োরিটি সিটিং বা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আসনব্যবস্থা, স্টেপ-ফ্রি অ্যাক্সেস এবং প্রতিবন্ধী, প্রবীণ এবং প্র্যামব্যবহারকারী বাবা-মায়েদের জন্য সহায়তা থাকে, যদিও সুবিধাগুলো অবস্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে।
আর সবশেষে আমরা আলোচনা করব ভ্রমণের সময় শিষ্টাচার নিয়ে।
গণপরিবহণ সেবা সাধারণত সবচেয়ে ব্যস্ত হয় কর্মদিবসের সকাল ও বিকেলের পিক আওয়ারে, যখন অনেকক্ষেত্রেই বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করা লাগে এবং যাত্রীদের আগে ওঠা ও নামার সুযোগ দেওয়া প্রত্যাশিত আচরণ ।
এরকম শিষ্টাচারের মধ্যে আরও রয়েছে বাস চালকের মনোযোগে সমস্যা না করা, বা যার বেশি প্রয়োজন মনে হবে তাঁকে আসন ছেড়ে দেওয়া। অবশ্য এ নিয়মগুলো সহজেই বোঝা যায়।
তবে কিছু নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হয় না, যেমন শব্দের মাত্রা।
প্রফেসর নেলসন বলেন, সবসময় দেখে নিন আপনি কি কোয়ায়েট ক্যারেজে উঠেছেন কিনা।
মিজ হেইস বলেন,
কোয়ায়েট ক্যারেজ না হলেও যে-কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের সময় অন্যদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।









