কনসেন্ট টু হ্যাভ সেক্স: “এখানকার আইন বলে, ১৬ বছর বয়সী একটা ছেলে বা মেয়ে এ ব্যাপারে পূর্ণ সম্মতি দিতে পারে, যেটা বাংলাদেশে নেই”

ARCHIVO - The Kid Laroi llega a la 64a entrega anual de los Grammy en la MGM Grand Garden Arena el 3 de abril de 2022 en Las Vegas. (Foto Jordan Strauss/Invision/AP, archivo)

Source: AAP, AP / AAP Image/Jordan Strauss/Invision/AP

কোনো একটি দেশে অভিবাসনের পর সন্তান মানুষ করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। কেন? নতুন সমাজ, নতুন মূল্যবোধ ও আইন-কানুনের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে দেওয়া যাবে? এসবিএস বাংলার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ম্যাকোয়েরি ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলাম।


আর্কাইভস থেকে

ম্যাকোয়েরি ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলাম অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

সন্তান কার সঙ্গে মেলামেশা করবে সেটা কি বাবা-মা নির্ধারণ করতে পারেন? এ প্রশ্নের জবাবে ড. রফিক বলেন,

“অবশ্যই পারেন। সম্ভবত আপটু ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত উনারা করতে পারেন। তবে, বাবা-মায়েদের একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, এখানকার যে-সব আইন আছে, সেগুলো আপনাকে সমর্থন দিবে, যদি আপনি দেখেন, আপনার ছেলে বা মেয়ে কোনো ভায়োলেন্স বা এক্সপ্লয়টেশন বা এ রকম কোনো একটা এনভায়রনমেন্টে মিশছে, সেগুলো আপনি তাকে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তবে, ল আবার এটাও বলছে যে, যত কম সম্ভব তাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা।”

তিনি আরও বলেন,

“তবে, সিদ্ধান্তে যে হস্তক্ষেপ করা যে যাবে না, এমন কিছু বলা নেই। অন্তত আপটু ১৮ বছর পর্যন্ত।”

হোম কান্ট্রি বা ছেড়ে আসা দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির মিল-অমিল ও মানিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“এখানের আইন কিন্তু আপনাকে কালচার বিসর্জন দিয়ে এদের সঙ্গে মিশতে বলে নি। কিংবা রিলিজয়নকে বিসর্জন দিয়ে আপনাকে ওদের সঙ্গে মিশতে বলে নি।”

তার মতে,

“নিজেদের কালচার এবং রিলিজিয়ন মেনটেইন করেও এই সমাজে মেলামেশা করা যায়, চলাফেরা করা যায়। শুধু যদি এদের আইনকে আপনি ঠিকভাবে মেনে চলেন।”

ছোটবেলা থেকে সন্তানদের মাঝে বিভিন্ন মূল্যবোধ জাগ্রত করার প্রতি জোর দেন তিনি। সন্তানদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,

“বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার এখানে কোনো এজ নাই। একটা ছেলে বা মেয়ে যে কোনো সময়ে আপনার বাড়ি থেকে চলে যেতে পারে।”

তারা চাইলে তাদের পড়াশোনাও ছেড়ে দিতে পারে, বলেন তিনি।

“একটা বাচ্চা ইচ্ছা করলে ইয়ার-টেন-এর পর সে স্কুলে ছেড়ে দিতে পারে।”

“কনসেন্ট টু হ্যাভ সেক্স” বা যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি প্রদানের বিষয়ে ড. রফিক বলেন,

“এখানকার আইন বলে, ১৬ বছর বয়সী একটা ছেলে বা মেয়ে এ ব্যাপারে পূর্ণ সম্মতি দিতে পারে, যেটা বাংলাদেশে নেই।”

এদেশে সন্তানকে কতোটুকু শাসন করা যাবে? এর সীমারেখাটা কী? তাদেরকে কি মারপিট করা যাবে?

সন্তানের গায়ে হাত তোলার বিষয়ে ড. রফিক বলেন,

“এটাকে এখানকার আইনে অ্যাসাল্ট হিসেবে দেখে।”

“শাসন করা মানে এই না যে, মারধোর করা বা ফিজিকাল টর্চার করা। আপনি বিভিন্নভাবে শাসন করতে পারেন। এখানকার আইন সবচেয়ে বেশি যেটার প্রতি গুরুত্ব দেয় সেটা হচ্ছে, পারসুয়েশন। ছেলে বা মেয়েকে বোঝানো।”

এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন,

“আমাদের দেশের সিস্টেমে মারপিট বা চড়-থাপ্পড়ও কিন্তু সবসময় কাজ করে না। অনেকসময় হিতে বিপরীত হয়ে যায়।”

“এখানকার আইন মারপিট কখনই প্রমোট করে না।”

ড. রফিকের মতে, সন্তানের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাদের গড়ে তোলার পেছনে অভিভাবকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে, শাসন করতে গিয়ে সহিংস হওয়া যাবে না, বলেন তিনি।

“গাইড করতে গিয়ে আপনি যদি সহিংস হন, তাহলে সেটা আবার আইন সমর্থন করে না।”

প্রফেসর এম রফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকারটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।

অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান প্রতিপালন নিয়ে আমরা আপনার আশা-আকাঙ্ক্ষা, উদ্বেগ এবং অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই। আমাদেরকে ইমেইল করুন bangla.program@sbs.com.au ঠিকানায় কিংবা যোগাযোগ করুন এসবিএস বাংলার ফেসবুক পেজে।

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.

এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট

আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?

এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।

এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.

আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস

Read more about SBS’s use of AI

সিকদার তাহের আহমদ: কোনো একটি দেশে অভিবাসনের পর সন্তান মানুষ করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। কেন? নতুন সমাজ, নতুন মূল্যবোধ ও আইন-কানুনের সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নেওয়া যাবে? শ্রোতা বন্ধুরা, আজ আমরা কথা বলছি ম্যাকোয়ারি ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। [মিউজিক] ডক্টর রফিকুল ইসলাম, এসবিএস বাংলায় আপনাকে স্বাগত।

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: সন্তান কার সঙ্গে মেলামেশা করবে সেটা কি বাবা-মা নির্ধারণ করতে পারেন?

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: এটা তো কঠিন প্রশ্ন। তবে, অবশ্যই পারেন। সম্ভবত আপ টু আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত ওনারা করতে পারেন। তবে বাবা-মার একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, এখানকার যেসব আইন আছে সেগুলো আপনাকে সমর্থন দেবে। যদি আপনি দেখেন আপনার ছেলে বা মেয়ে কোন ভায়োলেন্স বা এক্সপ্লোইটেশন বা এরকম কোন একটা এনভায়রনমেন্টে মিশছে, সেগুলো তাকে আপনি এক্সপ্লেইন করতে পারেন। তবে, ল আবার এটাও বলছে যে, যত কম সম্ভব তাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা বা সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা যে যাবে না এমন কিছু বলা নেই, অন্তত আপ টু আঠারো বছর পর্যন্ত।

সিকদার তাহের আহমদ: বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান আইন সুনির্দিষ্টভাবে কিছু কি বলেছে?

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়ার আইন কয়েকটি আছে ব্যাপারে। যেমন ধরেন, একটা প্রধান আইন হচ্ছে দি কেয়ার অ্যাক্ট চিলড্রেন এন্ড ইয়ং পার্সন প্রটেকশন অ্যাক্ট নাইনটিন নাইন্টি এইট। আবার আছে চিলড্রেন প্রটেকশন অ্যাক্ট টু থাউজেন্ড, চিলড্রেনস গার্ডিয়ান অ্যাক্ট আছে টু থাউজেন্ড নাইনটিন। যে মেসেজটা সেখানে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বলছে সবগুলোর মূল বক্তব্য হচ্ছে, বেস্ট ইন্টারেস্ট অব দি চিলড্রেন কে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সে বিষয়ে তাদের সেফটি, তাদের ওয়েলফেয়ার, তাদের ওয়েলবিং কে সর্বাধিক সর্বাধিকার দিতে হবে। তাদেরকে ফ্রিলি তাদের মতামত পোষণ করতে দিতে হবে। তবে ল এটাও বলেছে, আমি কোট করতে পারি, "অ্যাকর্ডিং টু দি কালচার, রিলিজিয়ন, ডিজাবিলিটি, ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন।" সুতরাং, আপনারা তো খুব ভালো করেই জানেন এবং আপনার শ্রোতা বন্ধুরাও ভালো করে জানেন যে, অস্ট্রেলিয়াতে মাল্টি কালচারাল সোসাইটি, মাল্টি রিলিজিয়াস, মাল্টিলিঙ্গুয়াল সোসাইটি। এখানের আইন কিন্তু আপনাকে কালচার বিসর্জন দিয়ে এদের সঙ্গে মিশতে বলেনি বা রিলিজিয়নকে বিসর্জন দিয়ে আপনাকে এদের সঙ্গে মিশতে বলেনি। কথা হচ্ছে, নিজেদের কালচার এবং রিলিজিয়নকে মেইনটেইন করেও এই সমাজে মেলামেশা করা যায়, চলাফেরা করা যায় শুধু যদি এদের আইনকে আপনি ঠিকভাবে মেনে চলেন। যেটা আমার উপলব্ধি হচ্ছে, প্যারেন্টের প্রথম এবং প্রধান যে জিনিসটি অবলম্বন করা উচিত ছোটবেলা থেকে ছেলেমেয়েদেরকে যদি ভ্যালুজ আপনি ইনজেক্ট করতে পারেন, তাদের ভিতরে যদি মূল্যবোধের ডেভেলপ করাতে পারেন তাহলে হয়তো বিভিন্ন অন্যান্য কালচার বা যেটা আমাদের কালচারের সঙ্গে যায় না বা কোন পার্টিকুলার ধর্মের সঙ্গে যায় না সেগুলোকে হয়তো তারা উইথস্ট্যান্ড করতে পারবে। সুতরাং সেটুকু দিকে আমাদের মনে হয় নজর রাখা উচিত, অন্তত আঠারো বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত।

সিকদার তাহের আহমদ: আপনি বলছিলেন হোম কান্ট্রির ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক দিকগুলোর কথা। এই বিষয়ে আরেকটু জানতে চাচ্ছি যে, ধরা যাক আমাদের বাংলাদেশ বা যারা ভারত থেকে এসেছে সেই ভারতীয় বাংলাভাষী যারা, এসব দেশে কি এ বিষয়ে কোন আইনকানুন ছিল বা আছে? আর অস্ট্রেলিয়ায় যে বিদ্যমান আইন সেটার সঙ্গে কি এগুলো সাংঘর্ষিক নাকি মিল পাওয়া যায় অনেক?

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: দেখুন, এখন তো চিলড্রেন সংক্রান্ত আইনগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। উনিশশো উননব্বই সালের যে আইন জাতিসংঘ তৈরি করেছে, চিলড্রেনস অ্যাক্ট যেটা, ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস কনভেনশন যেটা, সেখানে কিন্তু ধরেন অধিকাংশ প্রায় সব দেশই ইনক্লুডিং অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া যাদের কথা বলছেন, এরা সবাই কিন্তু এর স্বাক্ষরকারী এবং র‍্যাটিফাইং মেম্বার। এবং এখানেই একটা হারমোনিয়াস সিস্টেম চালু করার চেষ্টা করা হয়েছে বিশ্বের সমস্ত বাচ্চাদের ছেলেমেয়েদের জন্যে। সেটাও কিন্তু ওই একই কথা বলে, আমি কোর্ট করতে পারি সেটাতে বলে, "বেস্ট ইন্টারেস্ট অব দি চাইল্ড।" এই জিনিসটার দিকে আপনাকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। এখানে এই পয়েন্টের উপরে মামলাও পর্যন্ত হয়েছে, এমনকি ফেডারেল সরি, এখানকার শীর্ষ কোর্ট হাইকোর্ট পর্যন্ত ক্যানবেরায় গিয়েছে। কিও কেস যদি যারা... সেটা সেখানেও একই জিনিস বলা হয়েছে যে, "বেস্ট ইন্টারেস্ট অব দি চাইল্ড ইজ প্যারামাউন্ট।" এটাকে কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। এটাকে সঠিক রাখতে গিয়ে চিলড্রেনের হেলথ ডেভেলপমেন্ট নিড, স্পিরিচুয়ালিটি, সেলফ রেসপেক্ট, ডিগনিটি এগুলো সম্পর্কে আপনি অবশ্যই আপনার ছেলেমেয়েদেরকে লেসন দিতে পারেন, তাদেরকে শিখাতে পারেন। এগুলোই হচ্ছে ডেভেলপমেন্টাল পেজেস যেগুলো আইন প্রমোট করে। এখন আপনার বাংলাদেশের স্পেসিফিক আইন তো চিলড্রেনদের জন্য রয়েছে এবং ইন্ডিয়ারটা আমি অত শিওর না। নিশ্চয়ই আছে আমার মনে হয়, না হলেও এই উনিশশো উননব্বই সালের ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন কনভেনশন সেখানে অ্যাপ্লিকেবল এবং সাংঘর্ষিক দিক থেকে যেগুলো...... এখানে কতগুলো জিনিস সেট করা হয়েছে। যেমন, একটা ছেলে, সরি, একটা ছেলে বা মেয়ে যদি কোন ফৌজদারি অপরাধ করে, ক্রাইম যেটাকে আমরা বলি। এখানে দশ বছরের নিচে হলে সেটা আইন গ্রহণযোগ্য করে না, কগনিজেবল নয়। বাংলাদেশে এরকম ফিক্সড কিছু নেই। তারপরে ধরেন, অ্যাডাল্টহুড এখানেও আঠারো বৎসর। ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ সবখানেই আঠারো বৎসর যখন একটা ছেলে বা মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আইন স্বীকৃতি দেয় এবং তারা পূর্ণ সম্মতি জ্ঞাপনের অধিকার তাদের আছে, তখন আর প্যারেন্ট বা গার্জিয়ান এর কোন রোল থাকে না। অনুরূপভাবে ধরেন, এখানে আরেকটা জিনিস যেটা আছে, যেটা বাংলাদেশের সঙ্গে সংঘর্ষিক আপনি বলতে পারেন সেটা হচ্ছে, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার এখানে কোন এজ নাই। একটা ছেলে বা মেয়ে যেকোনো সময় আপনার বাড়ি থেকে চলে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক রেস্ট্রিকশন এ ব্যাপারে আছে। তাছাড়াও ধরেন, আরও কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো ধরেন আমি বলব স্কুল লিভিং। একটা বাচ্চা ইচ্ছে করলে ইয়ার টেনের পর সে স্কুল লিভ করতে পারে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি। সেখানে গার্জিয়ান এরা এখানকার আমি হোস্টেলের কথা বলছি, তেমন কিছু ইন্টারফেয়ার করতে পারবে না। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা সম্ভব। আর এখানে আরও একটা জিনিস আছে যেটা বাংলাদেশে নেই সেটা, সেটা হচ্ছে কনসেন্ট টু হ্যাভ সেক্স। এখানকার আইন বলে, সিক্সটিন ইয়ার্সের একটা ছেলে বা মেয়ে এ ব্যাপারে পূর্ণ সম্মতি দিতে পারে, যেটা বাংলাদেশে নেই। ভোটিং এর দিক থেকে দ্যা সেম এখানেও আঠারো বৎসর, বাংলাদেশেও আঠারো বৎসর। এগুলো আপনি বলতে পারেন কিছু কিছু কালচারাল এবং ধর্মীয় দিক থেকে আমাদের দেশে কিছু বাধ্যবাধকতা আছে যেগুলো এখানে নেই বা আছে কিন্তু সীমিত আকারে আছে।

সিকদার তাহের আহমদ: আমরা কথা বলছিলাম যে, আঠারো বছরের কম বয়সী শিশুদের বিষয়ে। তো, আঠারো বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের নিয়ে আলাপ করার আগে আমি আরেকটা বিষয় ছোট্ট করে জানতে চাচ্ছি। সেটা হচ্ছে যে, আমাদের হোম কান্ট্রিগুলোতে কোন কোন কালচারে, কোন কোন পরিবারে বা ধর্মীয়ভাবেও দেখা যায় যে সন্তানকে শাসন করার বিষয়টা আমরা দেখতে পাই। তো কতটুকু শাসন করা যাবে এবং শাসনের সীমারেখাটা কি? যে কখনো মারপিট করা হয়, স্কুলে ও মারপিট করা হয়। তো এ দেশে অস্ট্রেলিয়ান আইনে এটা কি বলে? যারা এই দেশে আসেন তারা এটা বিভাগে পড়েন যে, আমি কি আমার সন্তানকে শাসন করতে পারব না? একটা চড়-থাপ্পড়ও লাগাতে পারব না। এটা আবার কেমন দেশে এলাম?

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: এটাকে এখানকার আইন হিসেবে অ্যাসল্ট হিসেবে দেখে।

সিকদার তাহের আহমদ: মানে অনুমতি নেই।

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: না, শাসন করা মানে এই নয় যে মারধর করা বা ফিজিক্যাল টর্চার করা। আপনি বিভিন্নভাবে শাসন করতে পারেন। এখানকার আইন সব থেকে বেশি যেটা এমফ্যাসিস বা গুরুত্ব দেয় সেটা হচ্ছে, পারসুয়েশন। ছেলে বা মেয়েকে বোঝানো যে, তুমি যেটা করছো সেটা এই ব্যাপারে রং। এখন হয়তো অনেক সময় এটা কাজ করে না এবং একইভাবে আপনি যদি দেখেন আমাদের দেশের সিস্টেমে মারপিট বা চড়-থাপ্পড়ও কিন্তু সব সময় কাজ করে না, অনেক সময় এতে বিপরীত হয়ে যায়। সুতরাং সব সিস্টেমেরই আপস এন্ড ডাউন আছে। আমি এখানকার আইন আপনাকে মারপিট কখনোই প্রমোট করে না। এটা একটা অ্যাসল্টের পর্যায়ে পড়ে।

সিকদার তাহের আহমদ: যদি কোন বাবা বা মা তার সন্তানকে চড়-থাপ্পড় দেন এবং কেউ যদি এটা রিপোর্ট করে, সেই সন্তান নিজেই পুলিশকে কল করুক বা কোন প্রতিবেশী বলে দিক, তো তাহলে কি সমস্যা হতে পারে?

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: সমস্যা হতে পারে। তবে মেজর কোন, আপনি যদি ফিজিক্যাল কোন হার্মফুল কিছু না করেন, চড়-থাপ্পড় এ হয়তো আপনি ওয়ার্নিং পেতে পারেন। বাট আমি অনুরোধ করব বা সাজেশন দিব যে সেটা না করা। বেস্ট অপশন হচ্ছে ছেলে বা মেয়েকে বুঝিয়ে বলা। একটা জিনিস আপনাকে মনে রাখতে হবে, আঠারো বৎসর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত কিন্তু গার্জিয়ান বা প্যারেন্টের একটা বিগ রোল আছে। ছেলে বা মেয়ের ফরমেটিভ এজকে প্রপারলি গাইড করা। সেখানে গাইড করতে গিয়ে আপনি যদি ভায়োলেন্ট হন, সেটা আবার আইন কন্ডন করে না, আইন সেটাকে গ্রহণ করে না।

সিকদার তাহের আহমদ: ডক্টর রফিকুল ইসলাম, এসবিএস বাংলাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ডক্টর রফিকুল ইসলাম: আপনাকে এবং আপনার শ্রোতা বন্ধুদেরকে অনেক ধন্যবাদ।

সিকদার তাহের আহমদ: ডক্টর রফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকারটি শুনলেন। অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান প্রতিপালন নিয়ে আমরা আপনার আশা, আকাঙ্ক্ষা, উদ্বেগ এবং অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই। আমাদেরকে ইমেইল করুন বাংলা ডট প্রোগ্রাম অ্যাট এসবিএস ডট কম ডট এইউ ঠিকানায় কিংবা যোগাযোগ করুন এসবিএস বাংলার ফেসবুক পেজে।

END OF TRANSCRIPT

Share
Follow SBS Bangla

Download our apps
SBS Audio
SBS On Demand

Listen to our podcasts
Independent news and stories connecting you to life in Australia and Bangla-speaking Australians.
Ease into the English language and Australian culture. We make learning English convenient, fun and practical.
Get the latest with our exclusive in-language podcasts on your favourite podcast apps.

Watch on SBS
SBS Bangla News

SBS Bangla News

Watch it onDemand