ঘরে থেকে কাজ করা কি নিউ নরমাল?

Businesswoman writing in diary at home office

Businessman writing in diary while discussing during video conference. Multiracial male and female colleagues attending online meeting. They are planning business strategy. Source: Getty / Morsa Images/Getty Images

বিশ্বজুড়ে অফিস বা কর্মস্থলে গিয়ে কাজ করেন কোটি কোটি মানুষ। তবে, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে অফিসে গিয়ে কম সময় কাজ করতে হয়। এমনকি, লকডাউন উঠে যাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদেরকে সপ্তাহের কোনো কোনো দিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু, এই ধারা কতদিন বজায় থাকবে? বিশ্বজুড়ে আজকাল এ রকম প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। ব্রিটেনে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, এ রকম পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বড় শহরগুলো ছেড়ে ছোট ছোট শহরে চলে যাচ্ছেন।


আপনি হয়তো বাডলি সলটার্টান-এর নাম শোনেন নি। ইংলিশ কাউন্টি ডেভন-এর সমুদ্র-তীরবর্তী ছোট একটি শহর এটি। এখানে ছয় হাজারেরও কম বাসিন্দা রয়েছেন। তবে, ব্রিটেনের বর্তমান চিত্র বোঝা যায় এর মাধ্যমে।

বাডলি সলটার্টান এর লংবোট ক্যাফের ম্যাট বলেন, তার এই ক্যাফেটি এখন যা করছে তা তারা এর আগে কখনও করে নি। নর্দার্ন উইন্টারের মাঝেও তারা এটি এখন খোলা রেখেছেন।

আর, বাডলি সলটার্টান-এর হাই স্ট্রিটের কোনো দোকানই এখন খালি নেই। গ্রিন গ্রোসারস-এর অ্যালেন বলেন, ২০২২ সাল ভালই কেটেছে।

আর, হাউজিং মার্কেটের কথা উঠলে, রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা এটিকে বয়ান্ট বা তেজি বলেই বর্ণনা করবেন।

বাডলি সলটার্টান-এ মানুষ সাধারণত অবসরে যাওয়ার পরই এসে বাস করতেন। তবে, কারও কারও জন্য এটি এখন ‘ওয়ার্কিং ফ্রম হোম’ বা ঘরে থেকে কাজ করার জন্য ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি এখানে এসেছেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অ্যাডাম সুইটস এবং মার্ক গডফ্রে, যিনি একটি ওয়েডিং ভেন্যু চালান।

যুক্তরাজ্যের পাঁচ শতাধিক স্থানে মানুষ কতবার আনাগোনা করেন সেই সব তথ্য সংগ্রহ করা হয় মোবাইল ফোনের তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে। এসব তথ্য-উপাত্ত থেকে কিছু মজার বিষয় উঠে এসেছে। যেমন, ২০১৯ সালের তুলনায়, সিটি সেন্টারগুলোতে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে। লন্ডন শহরে এটি কমেছে শতকরা ৫০ ভাগ।

এর বিপরীতে, ওয়ার্কিং ফ্রম হোম বা ঘরে থেকে কাজ করার এই নতুন যুগে, এই বিশ্লেষণ অনুসারে দেখা যায়, জনগণের আনাগোনা ও ব্যস্ততা বেড়েছে বড় শহরগুলোর নিকটবর্তী কমিউটার টাউনগুলোতে, বড় শহরগুলোর বাইরের সাবার্বগুলোতে, যেগুলোতে স্থানীয় দোকান-পাট রয়েছে এবং বাডলি সলটার্টান-এর মতো পুরনো স্টাইলের শহরগুলোতে।

আর, এই প্রবণতা শুধু ব্রিটেনেই নয়, আমাদের অস্ট্রেলিয়াতেও দেখা যায়।

ভিক্টোরিয়ান চেম্বার অফ কমার্স এর পল গুয়েরা বলেন, রিজিওনাল অস্ট্রেলিয়ায় জনগণের আনাগোনা বাড়ছে।

তবে, সাবার্ব এবং রিজিওনগুলোতে জনগণের আনাগোণা বৃদ্ধির বিষয়টিকে কিন্তু সবাই সুনজরে দেখছে না। সিডনি সিবিডি-তে একটি ক্যাফে চালান ম্যারিনো প্লেগিয়োটিস। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এসবিএস ওয়ার্ল্ড নিউজকে তিনি বলেন, ঘরে থেকে কাজ করার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সিটি সেন্টারের ব্যবসাগুলোতে।

প্রপার্টি কাউন্সিল অফ অস্ট্রেলিয়ার লুক আখটারস্ট্রাট বলেন, অনেকেই হাইব্রিড ওয়ার্কপ্লেস মেনে নিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে উইকডের কোনো একটি দিনের বিকাল পাঁচটার সময়ে, লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে এটা বলা সহজ হবে না যে, এটি একটি রাশ আওয়ার বা কর্মব্যস্ত সময়।

ব্রিটিশ প্রপার্টি ফার্ম ল্যান্ডসেক-এর সিইও মার্ক অ্যালান বলেন, নতুন ওয়ার্কিং উইক-এর বিষয়টিকে মেনে নিয়েছে অফিসগুলো।

এখানে অস্ট্রেলিয়ায়, লকডাউনের সময়ে বহু নিয়োগদাতা উদ্বিগ্ন ছিল যে, কর্মীরা যেহেতু ঘরে থেকে কাজ করছে, সেজন্য হয়তো বা উৎপাদনশীলতা বা কাজের হার কমে যাবে।

বস্তুত, এর বিপরীত চিত্রই দেখা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়া সরকারের “ওয়ার্কিং ফ্রম হোম” গবেষণাপত্রে। এতে বলা হয়েছে, বহু লোক ঘরে থেকে তাদের কাজ করতে সক্ষম, যেভাবে তারা অফিসে গিয়ে কাজ করে থাকে।

এতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের খরচ বাঁচাতে পারে এবং বাস্তবিকভাবে তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্ক অ্যালান বলেন, ব্রিটিশ অভিজ্ঞতা বলছে, নিয়োগদাতারা সে রকম কর্মস্থলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে যাচ্ছে, যেগুলো বাস্তবিকভাবে তাদের কর্মীদেরকে আকৃষ্ট করবে।

ইংল্যান্ডের ওটারি সেইন্ট মেরি শহরের ভলান্টিয়ার ইন-এর মালিক মাইক ডাউন বলেন, লোকজনের আনাগোণার ক্ষেত্রে তিনিও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখতে পেয়েছেন।

বাধ্য হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, আজকাল অনেকের কাছেই, দৃশ্যত অফিস হচ্ছে এ রকম একটি কর্মস্থল যেখানে আমরা যখন খুশি তখন যেতে পারি।

প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।

এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা

আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে


Share
Follow SBS Bangla

Download our apps
SBS Audio
SBS On Demand

Listen to our podcasts
Independent news and stories connecting you to life in Australia and Bangla-speaking Australians.
Ease into the English language and Australian culture. We make learning English convenient, fun and practical.
Get the latest with our exclusive in-language podcasts on your favourite podcast apps.

Watch on SBS
SBS Bangla News

SBS Bangla News

Watch it onDemand