মেলবোর্নের ২৪ বছর বয়সী এক পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারাল পুলিস। বলা হচ্ছে যে, রিমোট অ্যাকসেস ট্রোজান স্পাইওয়্যার তৈরি করার সময়ে তার বয়স ছিল ১৫ বছর। এই স্পাইওয়্যারটি বিশ্ব জুড়ে বিক্রি হয়েছে এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্স বা ঘরোয়া সহিংসতাকারী ব্যক্তি ও অন্যান্য অপরাধীরা এটি ব্যবহার করেছে।
একটি বহুজাতিক সাইবার-সিকিউরিটি ফার্ম এবং এফ-বি-আই-এর কাছ থেকে পাঁচ বছর আগে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক পুলিশী তদন্ত শুরু হয়।
রিমোট অ্যাকসেস ট্রোজান স্পাইওয়্যারটি RAT নামেও পরিচিত। এটাকে ইমিন্যান্ট মনিটরও বলা হয়। এর পেছনে কারা রয়েছে সেটা জানতে খোঁজ করা হতে থাকে।
কমান্ডার ক্রিস গোল্ডসমিড কাজ করেন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারাল পুলিস-এর সাইবার-ক্রাইম অপারেশন্স-এ। তিনি বলেন, এই স্পাইওয়্যারটি কারও ডিভাইসে তার অজান্তেই ইনস্টল করা হতে পারে। আর, এভাবে সেই ব্যক্তির ডিভাইসটি মনিটর করা যায়, তার ওয়েবক্যাম অ্যাকসেস করা যায় এবং তার ফাইলগুলো দেখা যায়। আর এ সবকিছুই ঘটে তার অজান্তে। এভাবে পরিচয় চুরি এবং আর্থিক অপরাধসহ কারও পিছু নেওয়া এবং ঘরোয়া সহিংসতার মতো অপরাধগুলোতেও এই স্পাইওয়্যারটি ব্যবহৃত হতে পারে।
২০১৯ সালে, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারাল পুলিস তাদের ‘অপারেশন সেফিয়াস’ এর মাধ্যমে এই স্পাইওয়্যারটিকে বন্ধ করতে সমর্থ হয় এবং এর ব্যবহার ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করতে সমর্থ হয়।
সেই একই বছরে, তদন্তকারীরা বেশ কিছু ডিভাইস জব্দ করে, যেগুলোর মধ্যে ছিল একটি কাস্টম-বিল্ট কম্পিউটার, যেখানে এই স্পাইওয়্যারটির উন্নয়ন ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কোড ছিল।
কমান্ডার ক্রিস গোল্ডসমিড বলেন, এই কম্পিউটারটির মালিক, বর্তমানে ২৪ বছর বয়সী, একজন অস্ট্রেলিয়ান পুরুষ।
দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
এই স্পাইওয়্যারটি তৈরি করার সময়ে অভিযুক্ত এই ব্যক্তির বয়স ১৫ বছর ছিল, বলা হচ্ছে। আর, এটি ১২০ টিরও বেশি দেশের ১৪,৫০০ ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় এটি বিক্রি হয়েছে ২০১ বার। ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে সে রকম ব্যক্তিরা যাদের ওপরে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স অর্ডার রয়েছে এবং এমন একজন ব্যক্তিও রয়েছে, চাইল্ড সেক্স অফেন্ডার রেজিস্টারে যার নাম আছে।
পুলিশ মনে করে বিশ্ব জুড়ে প্রায় লাখ খানেক লোক এই স্পাইওয়্যারটির শিকারে পরিণত হয়েছেন।
তবে, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আক্রমণ সনাক্ত করাটা দিনকে দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইউনিভার্সিটি অফ নিউ সাউথ ওয়েলসের ইনস্টিটিউট ফর সাইবার সিকিউরিটির নাইজেল ফেয়ার বলেন, মানুষ যেসব ডাউনলোড করে সেসব সম্পর্কে সচেতন থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ডিভাইসগুলো সবসময় আপ-টু-ডেট বা হাল নাগাদ রাখাটাও জরুরি।
পুলিশের তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্ব জুড়ে ৮৫টি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি ও সার্চ করা হয়েছে এবং শতাধিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, এক ডজনেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুরো প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।





