'এটিও (অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিস) ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স' সম্পর্কে মিঃ ফাইজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যমান ট্যাক্স আইন অনুসরণ করে যে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা হয় সেটি আইন অনুসারে সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেয় অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্স অফিস।’
তিনি বলেন, "ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে ১৬ পাতার একটি ফর্ম শুদ্ধভাবে কর আইনের ধারা মোতাবেক পূরণ করতে হয়, এটিই হচ্ছে ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স।"
এছাড়া ট্যাক্স রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রতিবছর এটিও যেসব বিষয়ের ওপর নজর দেয় এবং সেগুলো কিভাবে উল্লেখ করতে হবে সেবিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়ে থাকে, এটিকে সাধারণত কম্পাইয়েন্স ফোকাস বা স্পটলাইট বলা হয়।
ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে মিঃ ইসলাম বলেন, "এবার এটিও যেসব নির্দেশনা দিয়েছে তার মধ্যে আছে মোটর ভেহিকল খরচ, এখানে কোভিড পরিস্থিতিতে মানুষ মোটর গাড়ি কম ব্যবহার করছে, তাই এটিও নজর দেবে এই খাতে খরচটি করদাতারা সঠিকভাবে দাখিল করছেন কিনা।"
তিনি বলেন, এছাড়া রেন্টাল প্রপার্টির খরচ, হালের শেয়ারিং ইকোনমির একোমোডেশনের ক্ষেত্রে প্রপার্টির ব্যক্তিগত ব্যবহার, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বিশেষ করে শেয়ার ট্রেডিং বা ক্রিপ্টোকারেন্সীর ট্রেডিং যারা করছেন তারা যাতে এটি ট্যাক্স রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করেন।
অনেকেই ব্যবসায়িক কাজে মোটর গাড়ি ব্যবহার করলেও তারা অনেক সময় ব্যক্তিগত কাজেও এটি ব্যবহার করেন।
মিঃ ইসলাম বলেন, মোটর গাড়ির এই ব্যক্তিগত ব্যবহারের অংশটি বিয়োগ করে নেয়া হয়েছে কিনা এটিও ভালোভাবে এবিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

তাছাড়া ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের সিঙ্গেল টাচ পে-রোল, রেকর্ড কিপিং ডকুমেন্টেশন এই বিষয়গুলোও এটিও দেখবে।
অস্থায়ী অভিবাসী বা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে মিঃ ফাইজুল ইসলাম বলেন, তারা যেদিন থেকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করবেন সেদিন থেকেই তারা 'ট্যাক্স প্রসঙ্গে রেসিডেন্ট' বা তাদেরও অস্ট্রেলিয়ায় আয় করলে ট্যাক্স রিটার্ন পেশ করতে হবে।
"ট্যাক্স রিটার্নে তাদেরকে সকল প্রকার আয়, যেমন এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সী বা শেয়ার ট্রেডিং থেকে আয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে," বলেন তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এবং অস্থায়ী অভিবাসীদের মধ্যে যাদের মেডিকেয়ার সুবিধা নেই, তাদের ২% মেডিকেয়ার লেভি ছাড়ের সুযোগ আছে বলে উল্লেখ করেন মিঃ ফাইজুল। এজন্য তাদেরকে মেডিকেয়ার অস্ট্রেলিয়ায় আবেদন করতে হবে, এটির অনুমোদন পেতে প্রায় ছয় সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
তবে এই সুযোগ তাদেরই জন্য যাদের আয় 'মেডিকেয়ার লেভি থ্রেশোল্ড' ২৩,২২৬ ডলারের ওপরে।
অস্ট্রেলিয়ার পারমানেন্ট রেসিডেন্ট বা সিটিজেনদের যারা ট্যাক্স রেসিডেন্ট তাদের বিদেশে সম্পদ এবং আয় থাকলে অবশ্যই ট্যাক্স রিটার্নে তা উল্লেখ করতে হয় বলে মিঃ ইসলাম জানান।
তবে অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ী ভিসাধারীদের মধ্যে বিনিয়োগকারী ক্যাটাগরিতে যারা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন তাদের বিদেশে আয়ের ওপর ট্যাক্স দিতে হয় না।
মিঃ ফাইজুল ইসলামের পুরো সাক্ষাৎকারটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার রেডিও অনুষ্ঠান শুনুন প্রতি সোমবার এবং শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় এবং আরও খবরের জন্য আমাদের ফেইসবুক পেইজটি ভিজিট করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
আরো দেখুন:










