গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- ডিসেম্বরের ২৬ থেকে শুরু করে প্রায় সপ্তাহ খানেক পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানে বক্সিং ডে-র মূল্যছাড় চলে
- অস্ট্রেলিয়ায় কেনা বেশিরভাগ দ্রব্যের সাথেই নির্দিষ্ট কিছু গ্যারান্টি পাওয়া যায়
- এই ছুটির মৌসুমে প্রায় ২৩-২৫ বিলিয়ন ডলারের কেনাবেচা হয়ে থাকে, যেখানে শুধু বক্সিং ডে-তেই হয় প্রায় ৩-৪ বিলিয়ন ডলার
বক্সিং ডে অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর, পশ্চিমা বিশ্বে খ্রিস্টানদের ক্রিসমাস উদযাপনের পরের দিন। এই দিনটি অস্ট্রেলিয়ায় সরকারী ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হয়।
এই দিনটির শেকড় ব্রিটিশ ইতিহাসে গাঁথা রয়েছে। ইতিহাস অনুসারে এই দিনে সার্ভিস ওয়ার্কার বা পরিষেবা-কর্মীদের উপহার হিসেবে ‘ক্রিসমাস বক্স’ দেওয়া হতো।
মনাশ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর রিলিজিয়াস স্টাডিজের অধ্যাপক কনস্ট্যান্ট মিউস বলেন, ক্রিসমাস বক্স দেওয়ার ঐতিহ্য আসলে ষোড়শ শতাব্দী থেকেই চলে আসছে।
প্রফেসর মিউসের মতে, বিগত ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে এই দিনটি ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্রাম, খেলাধুলা এবং বিখ্যাত বক্সিং ডে সেল বা মূল্যছাড়ের দিনে রূপান্তরিত হয়েছিল।

অন্যের জন্য উপহার বা নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্যে এই দিনে অস্ট্রেলিয়া জুড়েই লক্ষ লক্ষ মানুষ কেনাকাটা করে বেড়ায়।
তার ভেতরে বেশিরভাগই বক্সিং ডে-তে মূল্যছাড়ের সুযোগে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী থেকে শুরু করে পোশাক-আশাক সহ অন্যান্য জিনিস কেনার সুযোগ নেয়।
রিটেইল ডক্টরস গ্রুপের সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান ওয়াকার বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এই মূল্যছাড় বেশ উল্লেখযোগ্য একটি ব্যাপার, কারণ একইদিনে অসংখ্য স্টোরে এই ছাড় দেয়া হয়।
মি. ওয়াকার আরও বলেন যে, বক্সিং ডে-র এই সংস্কৃতি মূলত আশি ও নব্বইয়ের দশক থেকে আমরা এ দেশে দেখে আসছি। আর বর্তমানে বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রচলন আরও বেশি চোখে পড়ছে।
বক্সিং ডে-র কেনাকাটা অনেকের জন্যেই খুব আনন্দের একটি অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে যারা দর কষাকষি করে কম দামে জিনিস কিনতে বেশি পছন্দ করেন।

অস্ট্রেলিয়ান স্টাইল ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা লরেন ডি বার্তোলো বলেছেন, বক্সিং ডে কেনাকাটার জন্যে অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
তবে শুধু এই সময়েই মূল্যছাড় থাকে ব্যাপারটা তা নয়। বক্সিং ডে-র আগেও অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ক্লিক ফ্রেঞ্জি, নভেম্বরের শেষের দিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে এবং সাইবার মানডে-তে অনেক মূল্যছাড় থাকে।
মেলবোর্ন বিজনেস স্কুলের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক নাদিয়া মাসুদ বলেন, কেনাকাটা বেশ উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে, তাই লাগামছাড়া খরচ না করে একটি বাজেট তৈরি করা অপরিহার্য। সব মিলিয়ে কত টাকার কেনাকাটা করবেন তা ঠিক করে রাখুন এবং সেটাতেই স্থির থাকুন।
তিনি ভোক্তাদের পরামর্শ দেন, বক্সিং ডে-র মূল্যছাড়ের সুবিধা ব্যবহার করে বরং পরিবারের খরচের মোট বাজেট কমিয়ে ফেলার সুযোগ নিতে।
মি. ওয়াকারের মতে, প্রতি বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত বড়সড় মূল্যছাড়ের মৌসুম শুরু হয়। আর এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়ে থাকে।
বক্সিং ডে-তে অনলাইনে এবং শপিং মলের দোকানগুলিতে বিভিন্ন ডিল ও মূল্যছাড় খুঁজে পাওয়া যায়। আপনি কোথা থেকে কিনবেন তা একান্তই আপনার পছন্দের ব্যাপার। তবে বর্তমান সময়ে অনলাইনে কেনাকাটার হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মি. ওয়াকার বলেন, অনলাইনে কেনাকাটার সময় অনেক বেশি সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি নিজেই দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করার সিদ্ধান্ত নেন তবে আগে থেকে পরিকল্পনা ও খোঁজখবর করে নিলে বক্সিং ডে-র মূল্যছাড়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা সম্ভবপর হবে।
আর যদি আপনি আগে থেকে পরিকল্পনার বদলে সরাসরি দোকানে বা শপিং সেন্টারে গিয়ে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন, তাহলে আপনার কোন জিনিসটি প্রয়োজন এবং আপনার বাজেট কত, সেটি মনে রাখার পরামর্শ দেন মিজ ডি বার্তোলো।
ভোক্তা হিসাবে এটি জানা অপরিহার্য যে অস্ট্রেলিয়ায় আপনার ভোক্তা অধিকারগুলি সুরক্ষিত থাকে। আপনার অধিকার সম্পর্কে জানা থাকলে তা আপনাকে অনেক ঝামেলা থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান কনজুমার ল বা ভোক্তা আইনের অধীনে, আপনি ত্রুটিযুক্ত, পণ্যের বিবরণের সাথে মেলে না এমন অথবা অনিরাপদ পণ্যের জন্য অর্থ ফেরত, মেরামত বা প্রতিস্থাপনের অধিকার রাখেন। কেনার পরে আপনার রিসিট বা রশিদ নিরাপদে রেখে দিন, এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিয়ে আপনার বিক্রেতাকে জানাতে দ্বিধা করবেন না।
নিউ সাউথ ওয়েলস ফেয়ার ট্রেডিং কমিশনার নাতাশা মান ব্যাখ্যা করে বলেন, আপনি দ্রব্যটি অনলাইনে নাকি দোকানে গিয়ে কিনেছেন তা জরুরী নয়, সব ক্ষেত্রেই ক্রেতার অধিকার একই থাকে।
তবে এটি কিছুটা জটিল হতে পারে যদি আপনি কোনও বিদেশী বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে থাকেন। সেক্ষেত্রে এমন হওয়া সম্ভব যে আপনি হয়ত অর্থ ফেরতের জন্য যোগ্য না-ও হতে পারেন।
দোকান ঘুরে কেনাকাটা অস্ট্রেলিয়ায় বক্সিং ডে সংস্কৃতির একটি বড় অংশ, তবে সেই সাথে এর কিছু সামাজিক দিকও রয়েছে। মিজ ডি বার্তোলো বলেন, এই দিনে মানুষ একত্র হয়ে বিশ্রাম নেয়, এবং ক্রিসমাস ডে-র বেঁচে যাওয়া অবশিষ্ট খাবার আনন্দ সহকারে গ্রহণ করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের লিঙ্কে ক্লিক করুন।
এসবিএস রেডিও সম্প্রচার-সূচী হালনাগাদ করেছে, এখন থেকে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টায়, এসবিএস পপদেশীতে আমাদের অনুষ্ঠান শুনুন, লাইভ।
কিংবা, পুরনো সময়সূচীতেও আপনি আমাদের অনুষ্ঠান শোনা চালিয়ে যেতে পারেন। প্রতি সোম ও শনিবার, সন্ধ্যা ৬টায়, এসবিএস-২ তে।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
এ সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন: sbs.com.au/audio
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।







