READ MORE

নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত তথ্য অনুসারে, অস্ট্রেলিয়া থেকে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন মোট ১১,১৫৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭,৮০৩ জন এবং মহিলা ৩,৩৫৫ জন। অনুমোদিত ভোটার ১১,১১৪ জন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৪৪ জন। Source: ABACA / Habibur Rahman/ABACA/PA/Alamy

নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
[মিউজিক] আপনারা আছেন এসবিএস বাংলার সঙ্গে। আরও স্টোরির জন্য দেখুন, এসবিএস ডটকম ডট এ ইউ স্ল্যাশ বাংলা। বারোই ফেব্রুয়ারি দুই হাজার ছাব্বিশ তারিখে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলা হচ্ছে। আসন্ন এই নির্বাচনটি ঘিরে দেশে বিদেশে বাংলাদেশিদের মাঝে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের বাইরে থেকেও প্রবাসী ভোটারদের একটি অংশ এই নির্বাচনে ভোটদানে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এজন্য যথাযথ নিয়ম মেনে নিবন্ধনও করেছেন। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি প্রতিবেদন। [নিউজ মিউজিক]
২০২৪ সালের জুলাই -আগস্ট মাসের গণ আন্দোলনে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পতন হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয় প্রত্যাশা এবং শঙ্কাও। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। ১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫ বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ, রোজ বৃহস্পতিবার তিনশত আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচন এবং একই সাথে জুলাই জাতীয় সংসদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা আর গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি। আর প্রবাসী ভোটাররাও এবারই প্রথম পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে এতে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের অন্যতম চালিকাশক্তি আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা তথা প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের প্রথমবারের মতো ভোটের আওতায় আনা হচ্ছে। একইভাবে প্রথমবারের মতো ভোটের আওতায় আসছেন আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারগণ।
আসন্ন এই নির্বাচনটি ঘিরে দেশে বিদেশে বাংলাদেশিদের মাঝে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের বাইরে থেকেও প্রবাসী ভোটারদের একটি অংশ এই নির্বাচনে ভোটদানে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এজন্য যথাযথ নিয়ম মেনে নিবন্ধনও করেছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত তথ্য অনুসারে, পোস্টাল ভোটের জন্য এ পর্যন্ত মোট নিবন্ধন করেছেন ১৫,৩৩,৬৮৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১২,৮১,৪৩৫ জন এবং মহিলা ২,৫২,২৪৬ জন। অনুমোদিত ভোটার ১৪,৮৪,৩৬৮ জন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৪৯,৩১৫ জন। অস্ট্রেলিয়া থেকে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন মোট ১১,১৫৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭,৮০৩ এবং মহিলা ৩,৩৫৫ জন। অনুমোদিত ভোটার ১১,১১৪ জন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৪৪ জন। অস্ট্রেলিয়া থেকে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করার শুরুর তারিখ ছিল ২৭, ২০২৫ থেকে, আর শেষ তারিখ ছিল ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রদান করা বাধ্যতামূলক নয়। তাহলে পোস্টাল ভোটের জন্য তারা কেন নিবন্ধন করলেন? এ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসিন্দা ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইংল্যান্ডের লেকচারার তাসমিহা তরফদার বলেন-
প্রথমত, এই ভোটটা আমার জন্য প্রথম আমি বাংলাদেশে ভোট দিচ্ছি। কারণ, গত
যতবারই ভোট হয়েছে আমি দেশের বাইরে ছিলাম। তো, এটা আমার জন্য একটা অসম্ভব একটা
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ছিল এবং আই রিয়েলি ওয়ান্টেড টু ডু ইট, যে আমি কবে বাংলাদেশে ভোট দিব? বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়াটা হয়ে ওঠে নাই। তো, এবার যেহেতু প্রথম পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেটা কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে এটা তো অনেক আগ থেকেই হয়ে থাকে, যখন আমরা ভোট দিতে পারি না, আমরা সেন্টারে গিয়ে আমরা একটা পোস্টাল ভোট দিয়ে দিই। এই সুযোগটা যখন করেছে এবং আই থিংক ইটস ভেরি পজিটিভ চেঞ্জ, এ গুড চেঞ্জ, তখন বললাম ভাবলাম যে এই সুযোগটা আমি নিয়ে নিই। তো আমি অ্যাপ ডাউনলোড এর মাধ্যমে নিজেকে রেজিস্টার করে তারপরে আমি ভোটে নিবন্ধন হই এবং খুবই তাড়াতাড়ি উইদিন টু উইকস আমার কাছে এসব কাগজপত্র চলে আসে এবং আমি আমার ভোটটা কাস্ট করি।
মেলবোর্নের মামুন বদরুদ্দোজা পলাশ এ সম্পর্কে বলেন, ভোট দেওয়া একটি নাগরিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন যে, প্রবাসীদের দাবি ছিল যেন তারা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারেন।
আসলে ভোট দেওয়া তো একটা নাগরিক দায়িত্ব। আমরা যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক বা ডুয়েল সিটিজেন হিসেবে অস্ট্রেলিয়াতে আছি অনেকদিন ধরেই, তো এটা একটা অনেক প্রবাসীদের একটা দাবি ছিল। সরকারের আমলেই বা অনেক দিন থেকেই, যে হচ্ছে যেন আমরা ভোট দিতে পারি বিদেশ থেকেও। যেহেতু আমরা বিদেশিরা বিদেশে থেকে অনেকে রেমিটেন্সের মাধ্যমে বা নানাভাবে কন্ট্রিবিউশন করতেছে, তো সেই কারণে আমাদের মতামতটা যেন প্রতিফলিত হয় এবং সরকার যেন এটার একটাকে আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয় বা রাজনৈতিক দলগুলো যারা দাঁড়িয়েছে। তো সেই কারণে প্রবাসীদের একটা দাবি ছিল যেন আমরা বিদেশ থেকেও ভোট দিতে পারি এবং আমরা এই প্রথমবার এই সুযোগটা পেয়েছি। সেই জন্য অবশ্যই আমাদের সবারই এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত এবং আমাদের এই নাগরিক দায়িত্বটা পালন করা উচিত। সেই হিসেবে আসলে ভোট দেওয়ার জন্য আমরা উদগ্রীব হয়ে আছি।
মেলবোর্নের সালমান আরিফ বলেন, এবারই প্রথম তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন।
যেহেতু বাংলাদেশে জন্ম, সেজন্য একটা দায়িত্ববোধ ফিল করি যে, যেহেতু কখনো ইলেকশন মানে কখনো ভোট দেই নাই, প্রথম দিচ্ছি। এবং
বাংলাদেশি জন্মগ্রহণকারী হিসেবে একটু ভ্যালু পাচ্ছি এবং হচ্ছে যে আমার...... আমার মতামতের একটা দাম আছে। সো, আই, আই ফেল্ট মেবি আই ক্যান বি স্মল পার্ট অফ সামথিং বিগ, বিগ চেঞ্জ, এইজন্যই ভোট দেওয়া।
পোস্টাল ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাসমিহা বলেন।
যখন, এহ, অনলাইনে যখন আমি ওয়েবসাইটে খুব ভালোমতো করে দেখে নিয়েছিলাম যে, বাংলাদেশ ইলেকশনের ব্যাপারটা সোশ্যাল মিডিয়াতে যেহেতু অনেক এ ব্যাপারে কথা হচ্ছিলো, আমি বাংলাদেশ ইলেকশনের ব্যাপারে, তো ওটার জন্য আমি খুব আপডেটেড ছিলাম এবং বিভিন্ন গ্রুপেও আমরা খুব আপডেটেড থাকতাম যে, কখন বাংলাদেশে ভোট কাস্ট হবে? বাংলাদেশে যখন ভোট কাস্ট হলো তখন যে একটা অ্যাপ ছিল, ইলেকশন অ্যাপ তো-
মানে, এটা কি বাংলাদেশ, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের কথা বলছেন?
জি, জি, কেবল কারণ অনেকেই যারা নিবন্ধন করেছিল তাদের কাছে
পোস্টাল ভোটের যে কাগজ পত্র চলে এসেছে এবং তারা তাদের ভোটগুলো কিন্তু এখন পোস্ট করে পাঠায়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে।
মামুন বদরুদ্দোজা পলাশ বলেন।
যেহেতু বিদেশে আমরা আছি অস্ট্রেলিয়াতে মেলবোর্নে, তো আমরা মূলত সোশ্যাল মিডিয়ামের মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে আসলে কমিউনিকেট হয় আমাদের। তো, এখানে দেখলাম যে, যেমন দাবি জানিয়েছে এবং আমাদের বাংলাদেশি নিউজ পেপারগুলোতেও ছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বলা হয়েছিল যে কি, পোস্টাল ব্যালট বিডি পোস্টাল পোস্টাল ব্যালট বিডি নামে একটা অ্যাপ ডাউনলোড করতে এবং ওখানে অনেকেই এই জিনিসটা শেয়ার করছে, যে কি কিভাবে এই প্রসেসটা করা যায়। তো, আমিও আসলে ওইভাবে ফলো করেই অ্যাপটা ডাউনলোড করছি আমার আইফোনে। তারপরে ওইটা থেকেই ন্যাশনাল আইডি কার্ডের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ভোটারের জন্য। ছবি টবি সব তোলা হয়েছে। তো, ওইভাবেই আসলে জিনিসটা করা হয়েছে এবং আমার অস্ট্রেলিয়ার ঠিকানা দেওয়া হয়েছে যাতে হইতেছে তারা আমাকে পোস্টাল ব্যালটটা আমার ঠিকানায় পাঠাইতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় ভোট প্রদান করা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের নির্বাচনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনের তুলনা করে সালমান আরিিব বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে রমরমা ও থমথমে ভাব থাকে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে খুব সাদামাটা ভোট হয়।
হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়াতে গত দশ বছর, দশ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। তো, বাংলাদেশে যেটা হয় প্রচুর মিছিল মিটিং হয়। নির্বাচনের আগে একটা রমরমা থমথমে ভাব থাকে, অনেক ভয়ভীতি থাকে, যেটা অস্ট্রেলিয়ায় কখনো দেখি না। অস্ট্রেলিয়ায় খুব সাদামাটা হয়, সবাই যার যার মতো ভোট দিয়ে চলে আসে, এন্ড ইটস ভেরি সেফ হিয়ার। এটাই মেইন ডিফারেন্স আমি পাচ্ছি আর কি!
এ প্রসঙ্গে তাসমিহা বলেন।
প্রথমত, এখানে তো ভোটটা তো ম্যান্ডেটরি। আপনি অস্ট্রেলিয়াতে ভোটটা তো একদম বাধ্যতামূলক এবং এখানে আপনি যদি ভোট না দেন তাহলে আপনার একটা ফাইন হবে। তো, এই জিনিসটা আমার কাছে খুব ভালো লাগছে, সেভেন্টি সিক্স বা সেভেন্টি সেভেন ডলার। তো, আপনাকে ভোটটা দিতেই হবে এবং আরেকটা এইটা আমার কাছে খুব ভালো লাগে যে, আমার রাইট বা আমার ভয়েসটা একদম এখানে এস্টাবলিশ হচ্ছে। আমার যে আমি যাকে মনে করি যে, দ্য বেস্ট পার্সন, তো এটা এটা বাধ্যতামূলক। ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডে এটা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক না, কিন্তু করলে ভালো হয় আমার মনে হয়। এটা একটা মেজর ডিফারেন্স আমি, আমি মনে করি। সেকেন্ড ডিফারেন্স হচ্ছে যে, আমরা যেরকম এখন যদিও সেম আমরা আগেই ভোটটা দিতে পারি। অস্ট্রেলিয়াতে একমাস আগে থেকেও আপনি ভোট দিতে পারেন। আপনি শনিবারে গিয়েই যখন ভোটটা হয়, ওইদিন না গেলেও হয়। তো ওইটা অনেকটা ফ্লেক্সিবিলিটি দিয়ে দেয়, ইটস ভেরি ফ্লেক্সিবল। নাম্বার থ্রি, আমার একটা জিনিস খুব ভালো লাগে অস্ট্রেলিয়ার ইলেকশন টাইমে, এখানে কোন ক্যাম্পেইন ব্যানার প্রাচীরে ওয়ালে লেখা বা এটা নিয়ে যে কোন ডিভিশন ক্রিয়েট হয় না। পলিটিক্স নিয়ে কোন কথাই হয় না। এটা একটা খুব পার্সোনাল ব্যাপার এবং আমি গিয়ে মানে নিশ্চিন্তে নিঃশব্দে আমি আমার ভোটটা দিতে পারছি। আমি জানি যে, এটা প্রপারলি ইট উইল বি কাউন্টেড এন্ড আমার যে, যে ভয়েসটা রিফ্লেক্টেড হবে ইন দ্য রাইট পার্টি সিলেকশনে। তো, বাংলাদেশে আমার এখানে একটু ডাউট থাকে সব সময় যে, আমি আমার যে ভোটটা দিলাম, এটা কি রাইটলি এপ্রোপ্রিয়েটলি কাউন্টেড হবে কিনা বা রিফ্লেক্ট করবে কিনা আমার রেজাল্টটা? রেজাল্ট নিয়ে আমার, আমার মতো অনেকেরই অনেক ডাউট আছে যে, রাইট পার্টির ভোট আমি যে দিচ্ছি সেই কি আসছে কিনা এবং সে দেশটা ঠিকমতো চালাতেও পারবে কিনা। এটা তো পরের ব্যাপার। কিন্তু আমার ভোট নির্বাচনের যে, যে মেকানিজমটা ওটা নিয়ে আমার মনে হয় অনেক ট্রান্সপারেন্সি থাকা উচিত।
মামুন বদরুদ্দোজা পলাশ এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার প্রেফারেন্সিয়াল ভোটিং সিস্টেমের কথা বলেন।
বাংলাদেশে তো আসলে আগে ভোট দিয়েছি, সতেরো বা আমরা দুই হাজার ছয় আমি অস্ট্রেলিয়া আসার আগে অনেকগুলা ভোট, লোকাল কাউন্সিল বলেন বা জাতীয় ইলেকশন বলেন। আবার অস্ট্রেলিয়া আসার পরে অস্ট্রেলিয়ারও বিভিন্ন জায়গায় ভোট দিয়েছি। কোনটা পোস্টালে কোনটা সামনাসামনি গিয়ে। দুটোর তুলনা আসলে দুই রকম। বাংলাদেশে যেমন অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা থাকে এবং একটা গম বোঝা যায় যে, সব জায়গায় একটা পোস্টারিং চিকামাড়া সবকিছুই-
মানে, নির্বাচন নিয়ে আবহ।
আবার এখানে একটু ভয়ভীতিও কাজ করে, যেটা হইতেছে মানে খুব খারাপ দিক আর কি! আচ্ছা তো, আর এইখানে যেরকম আসলে খুব একটা বোঝা যায় না, সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে যতটুকু দেখা যায় বা নিউজ টিভি নিউজ চ্যানেলগুলোতে যতটুকু দেখা যায়। তো মাঝে মাঝে আমাদের অ্যাড্রেসে, আমাদের যে পোস্ট বক্সে বাসায় পাঠিয়ে দেয় যার যার, তো তারপরে ওইটার উপর বেস করে আমরা দেই। এটা অনেকটা জাস্ট হইল দেওয়া। আরেকটা জিনিসের পার্থক্য হচ্ছে বাংলাদেশে যেমন আমাদের মার্কা দিয়ে, আমরা মার্কা দিয়েই আমরা ভোট দেই এবং একটা মার্কা সিলেক্ট করতে পারি, এখানে দেখা যায় সবার নামগুলো থাকে এবং নামের পিছনে আমাদের ওয়ান টু দশ জন ক্যান্ডিডেট থাকে, ওয়ান টু টেন প্রেফারেন্স দিতে হয়। এটা আমি লোকাল গভর্নমেন্টে বলেন আর ন্যাশনাল-
হ্যা, প্রেফারেন্সিয়াল সিস্টেম যেটা আরকি!
দিতে হয়, যেটা বাংলাদেশে এটাই পার্থক্য। আমি ভোট আবার ভোট কেন্দ্রে যখন যাই ওখানেও দেখা যায় লম্বা লাইন হয়। বাট কোন মানে উৎসাহ ওরকম থাকে কিছুটা কিন্তু কখনো ভীতি কাজ করে না। অস্ট্রেলিয়াতে যেটা বাংলাদেশে অনেক সময় মনে হয় যেন অনেক ক্ষেত্রে অনেক সময় হয়ে যেতে পারে আর কি এটা ইন্সিডেন্টের মতো, যেটা এখানে হয় না। এই হচ্ছে পার্থক্য আমার কাছে মনে হয়েছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রতিবেদনটি শুনলেন। সঙ্গে ছিলাম আমি সিকদার তাহের আহমদ।