এ বছর অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ান কামরুজ্জামান বালার্ক

Mohammad Kamruzzaman Balark.jpeg

শিল্পকলায় এবং মেলবোর্নের বাঙালি সম্প্রদায়ের সেবায় অবদানের জন্য এ বছর (২০২৬ সালে) অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া জেনারেল ডিভিশনে মেডাল অব দ্য অর্ডার (OAM) অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মেলবোর্নের মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক। Credit: Mohammad kamruzzaman Balark

শিল্পকলায় এবং মেলবোর্নের বাঙালি সম্প্রদায়ের সেবায় অবদানের জন্য এ বছর অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া জেনারেল ডিভিশনে মেডাল অব দ্য অর্ডার (OAM) অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মেলবোর্নের মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক। এসবিএস বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।


গভর্নর-জেনারেল অস্ট্রেলিয়া ডে ২০২৬ অনার্স লিস্ট ঘোষণা করেছেন। এতে ৯৪৯ জন অস্ট্রেলিয়ানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়ার (সাধারণ ও সামরিক বিভাগ) পুরস্কার, কৃতিত্বপূর্ণ পুরস্কার এবং বিশিষ্ট ও সুপরিচিত সেবার স্বীকৃতি। এটি গত বছরের অস্ট্রেলিয়া ডে’র তুলনায় ২০০টিরও বেশি পুরস্কারের বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

“আপনার গভর্নর-জেনারেল হিসেবে আমার দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান ডেতে, আমি অস্ট্রেলিয়ান ডে ২০২৬ অনার্স লিস্ট ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত,” বলেছেন গভর্নর-জেনারেল।

মূলত তিনটি ক্যাটাগোরিতে এসব অনার ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এগুলো হলো, অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া অনার্স (জেনারেল অ্যান্ড মিলিটারি ডিভিশন্স); মেরিটোরিয়াস অ্যাওয়ার্ডস; এবং ডিস্টিংগুইশড অ্যান্ড কন্সপিকিউয়াস অ্যাওয়ার্ডস (মিলিটারি)।

অস্ট্রেলিয়া ডে ২০২৬ অনার্স লিস্টে অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া জেনারেল ডিভিশন-এ সর্বমোট ৬৮০ জন স্থান পেয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ জন পেয়েছেন কোম্পানিয়ন অব দ্য অর্ডার (AC); ৩৮ জন পেয়েছেন অফিসার অব দ্য অর্ডার (AO); ১৬০ জন পেয়েছেন মেম্বার অব দ্য অর্ডার (AM); এবং ৪৭২ জন পেয়েছেন মেডাল অব দ্য অর্ডার (OAM)।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৯৬ জন পুরুষ, ১৮৪ জন নারী এবং ১ জন এমন তথ্য প্রদান করতে চায়নি।

তালিকায় স্থানপ্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সীর বয়স ৩২ বছর এবং সবচেয়ে বেশি ৯৯ বছর বয়সী ব্যক্তি রয়েছেন।

ওএএম মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্কের সাক্ষাৎকারটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।

অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান প্রতিপালন নিয়ে আমরা আপনার আশা-আকাঙ্ক্ষা, উদ্বেগ এবং অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই। আমাদেরকে ইমেইল করুন bangla.program@sbs.com.au ঠিকানায় কিংবা যোগাযোগ করুন এসবিএস বাংলার ফেসবুক পেজে।

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.

এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট

আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?

এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।

এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.

আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস

Read more about SBS’s use of AI

সিকদার তাহের আহমদ: অস্ট্রেলিয়া ডে ২০২৬ (দুই হাজার ছাব্বিশ) অনার্স লিস্ট ঘোষণা করেছেন গভর্নর জেনারেল। এতে নয়শ উনপঞ্চাশ জন অস্ট্রেলিয়ানদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ ও সামরিক বিভাগ, পুরস্কার, কৃতিত্বপূর্ণ পুরস্কার এবং বিশিষ্ট ও সুপরিচিত সেবার স্বীকৃতি। এটি গত বছরের অস্ট্রেলিয়া ডে'র তুলনায় দুইশটিরও বেশি পুরস্কারের বৃদ্ধি নির্দেশ করে। আপনার গভর্নর জেনারেল হিসেবে আমার দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়া ডেতে আমি অস্ট্রেলিয়া ডে দুই হাজার ছাব্বিশ অনার্স লিস্ট ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত, বলেছেন গভর্নর জেনারেল। মূলত তিনটি ক্যাটাগরিতে এসব অনার ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এগুলো হলো অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া, অনার্স জেনারেল এন্ড মিলিটারি ডিভিশন্স, মেরিটোরিয়াস অ্যাওয়ার্ডস এবং ডিস্টিংগুইশড এন্ড কনস্পিকিউয়াস অ্যাওয়ার্ডস মিলিটারি। অস্ট্রেলিয়া ডে দুই হাজার ছাব্বিশ অনার্স লিস্টে অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়ার জেনারেল ডিভিশনে সর্বমোট ছয়শ আশি জন স্থান পেয়েছেন। এদের মধ্যে দশ জন পেয়েছেন কম্পানিয়ন অফ দ্য অর্ডার বা এসি, আটত্রিশ জন পেয়েছেন অফিসার অফ দ্য অর্ডার বা এও, একশ ষাট জন পেয়েছেন মেম্বার অফ দ্য অর্ডার বা এএম এবং চারশ বাহাত্তর জন পেয়েছেন মেডেল অফ দ্য অর্ডার বা ওএএম। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে চারশ ছিয়ানব্বই জন পুরুষ এবং একশ চুরাশি জন নারী এবং একজন এমন তথ্য প্রদান করতে চাননি। তালিকায় স্থানপ্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সের বয়স বত্রিশ বছর এবং সবচেয়ে বেশি নিরানব্বই বছর বয়সী ব্যক্তি রয়েছেন। [মিউজিক] শিল্পকলায় এবং মেলবোর্নের বাঙালি সম্প্রদায়ের সেবায় অবদানের জন্য এ বছর অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া জেনারেল ডিভিশনে মেডেল অফ দ্য অর্ডার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মেলবোর্নের মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক। শ্রোতা বন্ধুরা, এখন আমরা কথা বলছি তার সঙ্গে। [মিউজিক] মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক, এসবিএস বাংলায় আপনাকে স্বাগত।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: আপনাকে ধন্যবাদ।

সিকদার তাহের আহমদ: আপনি এ বছর অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া জেনারেল ডিভিশনে মেডেল অফ দ্য অর্ডার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এরকম স্বীকৃতি পেয়ে কেমন লাগছে?

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: যেকোনো স্বীকৃতিই নতুনভাবে প্রেরণা জোগায় কাজ করার জন্য। তবে আমি আমার মনের আনন্দেই কাজ করি। স্বীকৃতিটা পাই আর না পাই সেটা মুখ্য নয়। আমার কাজের আনন্দ থেকেই আমি কাজ করি।

সিকদার তাহের আহমদ: এবার আপনার সম্পর্কে একটু জানতে চাই। অস্ট্রেলিয়ায় কবে এসেছেন?

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: আমার মাইগ্রেশন নাইনটিন নাইন্টি টু ফেব্রুয়ারি।

সিকদার তাহের আহমদ: শুরুতে কি সিডনিতে না মেলবোর্নে?

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: না, আমি প্রথমে সিডনিতে ছিলাম। নব্বই দশকের প্রায় শেষ পর্যন্ত, নাইনটি নাইনে আমি মেলবোর্নে মুখ করি। আমার, আমি কাজ করতাম ক্যালিস্টা তে, তো ওখান থেকে আর কি আমাকে এখানে ট্রান্সফার করে মেলবোর্নে। তারপর থেকে আমি আছি গত

ছাব্বিশ সাতাশ বছর।

সিকদার তাহের আহমদ: আপনি কি এসবিএস বা এসবিএস বাংলা সম্পর্কে জানতেন?

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: হ্যাঁ, খুব জানতাম। আমাদের এসবিএস বাংলাতে নব্বই দশকে আমাদের

বেশ কয়েকজন পরিচিত মানুষ ছিলেন। একজন তো আমার বন্ধু আব্দুল্লাহ আল মামুন ইঞ্জিনিয়ার। উনি মাঝে মাঝে এসবিএস এ প্রোগ্রাম করতেন। আর আমাদের দাদা ছিলেন, উনার নামটা সম্ভবত আমার ঠিক মনে আসতেছে না এই মুহূর্তে।

সিকদার তাহের আহমদ: রথীন মুখোপাধ্যায়।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: রাইট, রথীন দা, হ্যাঁ! রথীন দা অনেক কাল থেকেই এসবিএস এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তো,

সে সময়ে ডেফিনিটলি এসবিএস এর স্টুডিওতে গিয়ে আমরা বেশ কিছু প্রোগ্রাম করেছিলাম। আমার খুব মনে পড়ছে, আমরা নজরুলকে নিয়ে একটা গীতি আলোক আমি লিখেছিলাম, সেটা সেখানে করেছিলাম এবং

নজরুলের নাটক, আলেয়া নাটক সেখানে আমরা করেছিলাম। আর এছাড়া মেলবোর্নেও আমরা বেশ কিছু প্রোগ্রাম করেছি।

সিকদার তাহের আহমদ: তো, এ বিষয়ে আর কোন অভিজ্ঞতা?

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: যখন মেলবোর্নে চলে আসি, তারপরও দুই একবার আমরা এসবিএস রেডিওতে প্রোগ্রাম করেছি। বাট অন্যান্য আরও কিছু রেডিও, ওখানে একটা রেডিও স্টেশন আছে মেলবোর্নে ট্রিপল জেড বলে। রেডিওতে আমরা শুরু করেছিলাম প্রোগ্রাম। বেশ কিছুকাল আমি ওখানেও ইনভলভ ছিলাম

অরগানাইজিং এর সাথে। বাট মূল দায়িত্ব আমাদেরই আরেকজন বড় ভাই ছিলেন, আতিকুর রহমান, উনি করতেন। এই আরকি! এবিসি রেডিওর সাথে আমরা প্রোগ্রাম করেছি। আমাদের নাটকের দল থেকে আমরা বেশ বড় একটা প্রোগ্রাম করেছিলাম। বাংলাদেশে একসময় একটা যে বন্যা হয়, আইলা, আপনার মনে থাকবে হয়তো। আইলা নামে একটা ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল উপকূলীয় অঞ্চল। তো, ওইটার উপরে এবিসি রেডিও অস্ট্রেলিয়া একটা ডকুমেন্টারি তৈরি করে। তো, সেখানে আমরা আমি সহ আমাদের দলের নাটকের দলের আমরা অনেকেই অংশগ্রহণ করেছিলাম।

সিকদার তাহের আহমদ: আপনি নাট্যচর্চার বিষয়ে বলছিলেন। রেনেসাঁ ড্রামা সোসাইটির কথা একটু বলবেন?

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: হ্যা, রেনেসাঁ ড্রামা সোসাইটি এখানে আমরা শুরু করি দুই হাজার সালের জুলাইতে এবং দুই হাজার এক সাল থেকে আমাদের নিয়মিত প্রযোজনা হয়ে আসছে মেলবোর্নে এবং আমরা এখনও কন্টিনিউ করছি। আমাদের একুশটা বা বাইশটা প্রোডাকশন এ পর্যন্ত আমরা এই ড্রামা সোসাইটি থেকে আমরা মেলবোর্নের নাট্যদৃষ্টদেরকে উপহার দিয়েছি এবং এখনও চলছে। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন সময়ে স্পেশাল ওকেশনগুলিতে আমাদের দল থেকে যেমন পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি এসব এগুলিতে আমরা বিভিন্ন ধরনের নাট্যাংশ, নাটিকা নিজেরা লিখে এবং অন্য কারো করেছি।

সিকদার তাহের আহমদ: আপনি তো বাংলা সাহিত্য সংসদের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: হ্যাঁ, হ্যাঁ, সে আরেক ইতিহাস।... দুই হাজার এক সালে আমাদের বিখ্যাত সাহিত্যিক, কবি ও সাহিত্যিক সুনীল গাঙ্গুলি এসেছিলেন সিডনিতে। তো, সিডনিতে আমাদের আমার আরেক দাদা, বড় ভাই বন্ধু বলতে পারেন শ্রীমন্ত মুখার্জি, যিনি কলকাতা থেকে কলকাতার পাবলিকেশন গুলি নিয়ে আসছেন। যেমন, আনন্দালোক এবং আদর্শ এই বাংলা পিরিয়ডিক্যালগুলি সেগুলি উনি আনেন এবং মাঝে মাঝে উনি আগে দেখতাম, বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী করতেন। তা আমার খুব ক্লোজ ছিলেন। তো, আমি যখন এখানে চলে আসি মেলবোর্নে, তখন একজন নালা ফোন করলে যে বালাক সাহেব, আমরা সুনীল গাঙ্গুলি কে আনছি সিডনিতে, আপনি মেলবোর্নে যদি চান তাহলে নিতে পারেন। তখন আমি মেলবোর্নে

যারা শিল্প সংস্কৃতির সাথে জড়িত দুই বাংলারই আর কি! এরকম দশটি পরিবার, বাংলাদেশের পাঁচটি এবং পশ্চিম বাংলার পাঁচটি নিয়ে আমরা একটা অ্যাডহক কমিটি করি, সুনীল গাঙ্গুলি কে প্রোগ্রামটা করার জন্য। সেটা দুই হাজার এক সালে এবং ঐ প্রোগ্রামটা আমরা খুব সাকসেসফুলি করি। আমি সুনীল গাঙ্গুলির দুইটা উপন্যাস থেকে প্রথম আলো এবং সেই সময় সেখান থেকে দুইটা অংশ নিয়ে দুটো নাটিকা করি। তো, দুই বাংলার সবাই বেশ কয়েকজন যারা নাটক বা শিল্পকলার সাথে জড়িত, এরকম বেশ কয়েকজন মিলে আমরা পুরা পুরি প্রোগ্রামটা করি। তো, ঐ প্রোগ্রামটা সাকসেসফুলি করার পর সবাই আমরা ডিসিশন নিলাম যে, এটাকে আমরা একটা স্থায়ী রূপ দেই। তখন এই বাংলা সাহিত্য সংসদ আমরা তৈরি করি। বাংলাদেশ থেকে পাঁচটা পরিবার এবং পশ্চিম বাংলা থেকে পাঁচটা পরিবার এবং এই পর্বেতে এখনও সাহিত্য সঞ্চরটা চলছে মেলবোর্নে। আমি অবশ্য আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেই সংগঠনের সাথে জড়িত নেই। আমার নাটকের দল নিয়ে বা অন্যান্য কর্মে ব্যস্ত থাকার কারণে পরবর্তীতে আমি এটা ম্যানেজমেন্টের থেকে সরে যাই। বাট সঞ্চরটা এখনও চলছে, ভালো চলছে। সাহিত্য সংসদ প্রতি বছরই বাংলাদেশ এবং কলকাতা থেকে খ্যাতনামা সাহিত্যিকদের এখানে নিয়ে আসে এবং ইয়ারলি একটা পিরিয়ডিক্যালও বের করে সংকলন। খুব ভালো চলছে, বাংলা সাহিত্য সংসদ প্রতি ছাব্বিশ বছর।

সিকদার তাহের আহমদ: আপনি তো একজন ইঞ্জিনিয়ার, টিপিজি টেলিকমে কাজ করেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সব দিক কিভাবে রক্ষা করে চলেন?

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: এটা আসলে শিল্প চর্চাটা আমার নেশা এবং এই নেশাটা আমার শৈশব থেকেই। তো, বলতে পারেন শিল্প চর্চাটা হইলো আমার ফার্স্ট প্রফেশন আর রুটি রোজিটা সেকেন্ড প্রফেশনাল হবি। এটা মর্যাদা মানে, আমার এই এক জীবনে আমার বয়স সিক্সটি ফোর, সিক্সটি ফাইভ এরকম। তো, আমি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছিলাম। ওয়ান্স অফ এ টাইম, আই ওয়াজ এ ম্যারিন ইঞ্জিনিয়ার। সো, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেছি, পড়াশোনার জন্যও গেছি। যখন যেখানেই গেছি, শিল্প চর্চাটা আমার সাথেই ছিল। মানে, কখনো লেখালেখি, কখনো পারফর্মিং আর্ট, আবৃত্তি, অভিনয়

অথবা পত্রিকা বের করা। এই সবকিছুই সব সময় আমার সাথে ছিল। ওটাই মনে হয় যেন আমি বিদেশে মানে বাঁচিয়ে রেখেছে আমাকে। এটা যেভাবেই বলি, কারণ এখানে আমরা যখন আশির দশকে দেশ ছাড়ি, আমাদের মনের খোলা মনন মনমননের জন্যেই শিল্প চর্চাকে বেছে নিয়েছিলাম। যেটা আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম। সেই ছোটবেলা থেকেই আমি একটা লিটল ম্যাগ বের করতাম কলেজ লাইফে ঢাকা থেকে। তো, লেখালেখির কাজটা সেই ছোটবেলা থেকেই এবং এদেশে যখন আসলাম, প্রথম দিকে লেখালেখি করেছি। একটা পত্রিকা সম্পাদকের সাথে ছিলাম। বিভিন্ন স্পেশাল অংকের সামনে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করতাম। গীতি-আলেখ্য,

বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম। তো, এগুলো কিভাবে ম্যানেজ করি? আসলে, শিল্প চর্চাটা করি মনের রুচির জন্য, বাঁচার জন্য, মননের জন্য। আর রুটি রোজি হলো পেটের জন্য। তো, ওইটা সব সময়ই চলছে। কারণ, ওটা ছাড়া বাঁচা যায় না, বাঁচতে পারি না।

সিকদার তাহের আহমদ: মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক, এসবিএস বাংলাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তো শেষ করার আগে আমি একটা কথা বলতে চাই, আমার প্রফেশনাল নেম মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক:, বাট আমার পেন নেম পেন নেম হইলো কামরুজ্জামান বালার্ক। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ।

END OF TRANSCRIPT

Share
Follow SBS Bangla

Download our apps
SBS Audio
SBS On Demand

Listen to our podcasts
Independent news and stories connecting you to life in Australia and Bangla-speaking Australians.
Ease into the English language and Australian culture. We make learning English convenient, fun and practical.
Get the latest with our exclusive in-language podcasts on your favourite podcast apps.

Watch on SBS
SBS Bangla News

SBS Bangla News

Watch it onDemand