মূল বিষয়
- ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ এমন ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেয়, যারা সমাজে ব্যতিক্রমী অবদান রেখেছেন।
- এই সম্মাননা পাওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে অন্য কেউ আপনাকে মনোনীত করতে হবে।
- প্রতিটি মনোনয়নই পুঙ্খানুপুঙ্খ ও কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।
- প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া আমাদের জাতীয় সম্মাননা ব্যবস্থার একটি অংশ।
এটি সর্বোচ্চ স্বীকৃতির এমন একটি পর্যায়, যার মাধ্যমে সেইসব অস্ট্রেলিয়ানদের সম্মান জানানো হয়, যারা নিজেদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে সমাজের জন্য অসাধারণ অবদান রাখেন।
এই সম্মাননার জন্য প্রাপ্ত মনোনয়নসমূহ পর্যালোচনা করে ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া কাউন্সিল’— যেটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যারা গভর্নর-জেনারেলকে সুপারিশ করে থাকে।
রব আয়লিং, গভর্নর-জেনারেলের অফিসের একজন পরিচালক।
তিনি বলেন,
অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া আসলে সব অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য, আর এই পুরো প্রক্রিয়ার শুরুটা হয় মূলত কমিউনিটির ভেতর থেকেই কারও মনোনয়নের মাধ্যমে।

যখন আপনি কাউকে এই সম্মাননার জন্য মনোনীত করেন, তখন ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া কাউন্সিল’ পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে এবং ঠিক করে কারা এই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, এবং কোন স্তরে তা প্রদান করা হবে।
অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়ার চারটি স্তর রয়েছে—
১. কম্প্যানিয়ন অব দ্য অর্ডার (AC)
২. অফিসার অব দ্য অর্ডার (AO)
৩. মেম্বার অব দ্য অর্ডার (AM)
৪. মেডেল অব দ্য অর্ডার (OAM)
এই চারটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রদত্ত সম্মাননা হলো OAM।
মাইকেল স্মিথ হলেন এমনই একজন ব্যক্তি যিনি সময় নিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যে ব্যক্তির মনোনয়নের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সমাজের জন্য অসাধারণ সেবা করে যাচ্ছিলেন—আমার কাছে ব্যাপারটা ঠিক সেরকমই মনে হয়েছে। আর আমি ভেবেছিলাম, এই কাজটির স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। যেই ক্ষেত্রটিতে উনি কাজ করছিলেন—এবং স্বেচ্ছায় কাজ করছিলেন, এটাও আলাদাভাবে বলি—আমি আগের কোনও সম্মাননায় সেই খাতের প্রতিনিধিত্ব দেখিনি।”
যখন একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়, তখন গভর্নর-জেনারেলের অফিসের একজন গবেষক প্রার্থীর সম্পর্কে দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখেন।
মনোনয়ন ফর্মে মনোনয়নদাতাকে কিছু রেফারি (সুপারিশকারী ব্যক্তি) উল্লেখ করতে হয়, যারা মনোনীত ব্যক্তির অবদান এবং কাজের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন। এরপর গবেষকরা আরও কয়েকজন অতিরিক্ত রেফারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যারা প্রার্থীর বিষয়ে আরও তথ্য দিতে পারেন।
মি. আয়লিং বলেন,
এটি একটি কঠোর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রক্রিয়া, যার পুরোটা সম্পন্ন হতে প্রায় ১৮ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
এই সম্মাননা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গোপনীয়তা।
প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—প্রত্যেকটি ধাপই সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়, এমনকি যাঁরা এই সম্মাননা পান, তাঁদের পরিচয়ও।
টিম থর্প কমিউনিটি রেডিওতে তাঁর অবদানের জন্য OAM সম্মাননা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, অক্টোবারের দিকে আমি একটি ইমেইল পাই, যেখানে বলা হয় যে আমাকে এই বিশেষ সম্মাননার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে—এবং আমি চাইলে তা গ্রহণ করতে পারি, অথবা না চাইলে একটি চিঠি লিখে তা প্রত্যাখ্যান করতে পারি। আমি ফর্মটি পূরণ করি। আর আমাকে কঠোরভাবে গোপনীয়তা রক্ষা করার শপথ করানো হয়।

Can an Order of Australia change your life?
হিলকাত ওজগুন তুর্কি সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর অবদানের জন্য OAM সম্মাননা পেয়েছেন।
তাঁর ক্ষেত্রেও, মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করা হয়েছিল তাঁকে।
যখন আপনি কাউকে ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’র জন্য মনোনীত করেন, তখন আপনাকেও অনুরোধ করা হয় যেন আপনি সেই বিষয়ে মনোনীত ব্যক্তিকে কিছু না জানান।
এর উদ্দেশ্য হলো—তাঁদের প্রত্যাশা অকারণে না বাড়ানো, কারণ সব মনোনয়নই শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হয় না।
মি. আয়লিং বলেন, রেফারিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য—তাঁদেরকেও গোপনীয়তা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হয়।
প্রক্রিয়াটি এতটাই গোপনীয়তার মধ্যে সম্পন্ন হয় যে, মনোনীত ব্যক্তি জানতেই পারেন না তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে—এটি তিনি জানতে পারেন শুধুমাত্র ঘোষণার ঠিক আগে।
মনোনয়ন পাওয়ায় টিম থর্প শুধু যে বিস্মিত হয়েছিলেন তা-ই নয়, বরং সম্মাননা পাওয়ার পর তাঁর কমিউনিটির মানুষদের কাছ থেকে যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে, তাতেও তিনি অভিভূত হয়েছেন।
সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা একটি সোনালি রঙের ল্যাপেল পিন এবং একটি মেডেল পান।
তাঁদেরকে নিজ নিজ স্টেটের রাজধানীতে অবস্থিত গভর্নমেন্ট হাউসে একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়—এমনটাই জানান মি. আয়লিং।
চলুন জানা যাক, কোন কোন কারণে এভাবে কাউকে এই সম্মাননার জন্যে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
মাইকেল স্মিথ বলেন,
যাঁরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসছেন, অথচ প্রচারের আলোয় নেই বা খুব পরিচিত মুখ নন, এমন মানুষদের মনোনয়ন দিতে পারা এক ধরনের গভীর তৃপ্তির অনুভূতি এনে দেয়।
‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ পাওয়া শুধু কারও সমাজের প্রতি আরও বড় অবদান রাখার প্রেরণা জোগায় না—এটি প্রাপ্ত ব্যক্তিকে এমন অন্য মানুষদের কথা ভাবতেও উদ্বুদ্ধ করে, যাঁরা অনুরূপ সম্মান পাওয়ার যোগ্য।
মিজ ওজগুন আরও বলেন, “আমি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত তুর্কি সম্প্রদায়ের অনেক সদস্যসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনকেও বিভিন্ন ধরনের সম্মাননার জন্য মনোনয়ন দিয়েছি। আমি ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ মেডেলের জন্য রেফারেন্সও দিয়েছি।”
আপনি যদি কাউকে মনোনয়ন দিতে আগ্রহী হন, তাহলে ভিজিট করুন গভর্নর-জেনারেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: gg.gov.au—সেখানে আপনি গাইডলাইনগুলো দেখতে পারবেন।
মনোনয়ন ফর্ম নিখুঁত না হলেও চলবে, বলেন মি. আয়লিং। গভর্নর-জেনারেলের অফিস আপনাকে এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে সদা প্রস্তুত।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।







