গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- আপনার বাড়ির রিসাইক্লিং বিনে কখনই ব্যবহৃত পোশাক-সামগ্রী ফেলবেন না।
- বেশ কয়েকটি বড় খুচরা বিক্রেতা-প্রতিষ্ঠান পুনর্ব্যবহারের জন্য যে কোনও মান ও অবস্থার পোশাক-সামগ্রী গ্রহণ করে থাকে।
- নিম্নমানের পোশাক দান করলে সেটি রিসাইকেল করতে দাতব্য সংস্থাকে খরচ করতে হয়, এবং সেগুলি ল্যান্ডফিলে পাঠানো হয় যা পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর।
ফ্যাশন শিল্প হচ্ছে সবচেয়ে বেশি পরিবেশ দূষণকারী শিল্পগুলির মধ্যে একটি। অস্ট্রেলিয়ান ফ্যাশন কাউন্সিল জানিয়েছে যে আমরা প্রতি বছর গড়ে ৫৬টি নতুন পোশাক কিনে থাকি।
ফাস্ট ফ্যাশন হল মূলত দামে সস্তা পোশাক-সামগ্রী যা চলতি ফ্যাশনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে উৎপাদন করা হয়। এগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়ে থাকে যে চলতি ফ্যাশন বদলের সাথে সাথে মানুষ সহজেই এগুলি ছেড়ে দিতে পারে, এবং দাম কম হওয়ার কারণে ক্রেতারা ঘন ঘন এ ধরনের পোশাক কিনতে উৎসাহী হয়।
তবে দায়িত্বশীল উপায়ে ফেলে দেয়া পোশাক-সামগ্রীর ব্যবস্থা করা নির্ভর করে আমাদের ওপর। এর অর্থ হচ্ছে, ফেলে দেয়া পোশাক যেন ময়লার ভাগাড়ে বা ভূমিতে না যায়, বরং সেগুলি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী হলে, সঠিক উপায়ে তার ব্যবস্থা করা হয়।
প্ল্যানেট আর্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা গিলিং বলছেন, এ ক্ষেত্রে আপনার রিসাইক্লিং বিন সঠিক সমাধান নয়।
সৌভাগ্যবশত, অন্যান্য বিকল্পও রয়েছে।
যেমন, আপনি অনলাইনের মাধ্যমে কোনো সংগ্রহকারী পরিষেবার সাহায্য নিতে পারেন। নির্দিষ্ট একটি ফি-এর বিনিময়ে অনেক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আপনার অবাঞ্ছিত পোশাক সংগ্রহ করবে এবং সেগুলি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার ব্যবস্থা করবে।

'অপ-শপে' দান করুন
আরও একটি বিকল্প ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করতে পারেন, সেটি হল কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে আপনার পুরনো পোশাক দান করে দেয়া। এতে আপনার বাড়তি কোনো খরচ হবে না। এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে opportunity shop বা সংক্ষেপে ‘অপ শপ’ বলা হয়।
খরচহীন আরেকটি উপায় হচ্ছে আপনার এলাকায় চ্যারিটি বিন খুঁজে নিয়ে সেখানে আপনার অবাঞ্ছিত পোশাকগুলি দান করে দেয়া।
অস্ট্রেলিয়া জুড়ে বিভিন্ন অপ শপগুলি দান করা পোশাক বিক্রি করে অভাবগ্রস্তদের জন্য বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার আয় করে থাকে।
তবে মিজ গিলিং বলেন, উদ্দেশ্য যতই ভালো হোক না কেন, আমরা কোন জিনিসগুলি দান করছি সে বিষয়ে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
ওমর সোকারও এই বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছেন। তিনি চ্যারিটেবল রিসাইক্লিং অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য চ্যারিটি বিনে কী ধরনের জিনিস দেয়া যাবে, তা নির্ধারণ করার জন্যে তিনি একটি সহজ পরীক্ষার কথা আমাদের বলেন।
এ ক্ষেত্রে আমাদের বিবেচনা করতে হবে যে পোশাকটি আমরা দান করতে চাইছি, সেটি কি আমরা কোনো বন্ধুকে নিঃসঙ্কোচে দিতে পারব? এর উত্তর যদি না হয়, তাহলে সেটি দান করা আমাদের উচিত হবে না।
অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ নগর এবং শহরে স্যালভোস, ভিনিস, অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস, সেভ দ্য চিলড্রেন, লাইফলাইন, অ্যাংলিকেয়ার এবং ব্রাদারহুড অব সেন্ট লরেন্সের মতো জনপ্রিয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলি দেখতে পাওয়া যায়।
চ্যারিটেবল রিসাইক্লিং অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করা রয়েছে, সেই সাথে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য পোশাক নিয়েও অনেক বিস্তারিত তথ্য সেখানে দেয়া আছে।

রিসাইক্লিং-এর জন্যে পোশাক দান করতে পারেন
আপনার অবাঞ্ছিত পোশাক যদি দাতব্য সংস্থায় দান করার উপযোগী না হয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প উপায় হচ্ছে সেগুলি রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহারের জন্যে দিয়ে দেয়া।
বেশ কয়েকটি বড় বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আমাদের ব্যবহৃত পোশাকের জন্য রিসাইক্লিং প্রোগ্রাম পরিচালনা করে থাকে। প্ল্যানেট আর্কের রেবেকা গিলিং আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলির অনেকেই জুতা, লিনেন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য জিনিসও নিয়ে থাকে।
আপনার কাছাকাছি যেসব স্টোর এরকম অনুদান গ্রহণ করে সেগুলি খুঁজে পেতে দেখুন recyclingnearyou.com.au এই ওয়েবসাইটটি, এবং সেখানে নির্বাচন করুন 'ক্লদিং অ্যান্ড টেক্সটাইল' অপশন। সেখানে আপনার এলাকার পোস্টকোড দিয়ে রিসাইক্লিং স্টোর খোঁজ করতে পারবেন।
আবার আপনার স্থানীয় কাউন্সিল পরিচালিত কোনো জায়গাও থাকতে পারে যেখানে অবাঞ্ছিত পোশাক দান করা যায়।
মিজ গিলিং বলেছেন এমনকি স্পোর্টস শু-এর জন্যও আলাদা একটি রিসাইক্লিং প্রোগ্রাম রয়েছে।
পোশাক-বিনিময় কর্মসূচীতে যেতে পারেন
আপনি যদি আপনার জামা-কাপড়ের আলমারি ভরানোর জন্যে একটি মিতব্যয়ী ও দায়িত্বশীল উপায়ের খোঁজ করেন সে ক্ষেত্রে পোশাক বিনিময়ের কথাও বিবেচনা করতে পারেন।
পোশাক বিনিময় কর্মসূচিগুলি সম্প্রতি অনেক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, এবং এর ফলে বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং সিটি কাউন্সিল এখন ক্লদিং এক্সচেঞ্জের মতো পেশাদার আয়োজক সংস্থার সাথে মিলে কাজ করছে।
অ্যাডাম ওয়ারলিং সিটি অব সিডনির একজন কাউন্সিলর।
তিনি বলেন, এ ধরনের পোশাক বিনিময় কার্যক্রমগুলির খবর পেতে এই ওয়েবসাইটে যেতে পারেন- clothingexchange.com.au
এই কর্মসূচিগুলি তাদের জন্যে খুবই কার্যকরী যারা সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল উপায়ে নিজের কাপড়ের আলমারি পরিষ্কার করার সুযোগ খুঁজছেন।

সার্কুলার ইকোনমি প্রচলনে ভূমিকা রাখুন
কাউন্সিলর ওয়ারলিং আরও বলেন, আমাদের পোশাক-সামগ্রীর সম্পূর্ণ জীবনচক্র বিবেচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। চ্যারিটেবল রিসাইক্লিং অস্ট্রেলিয়া একটি ‘সার্কুলার ইকোনমি’-র কথা গুরুত্ব দিয়ে বলে থাকে, যার অর্থ হচ্ছে যতটা সম্ভব নতুন জিনিস কম কেনা, বরং পুরনো জিনিস যতদিন সম্ভব মেরামতের মাধ্যমে বার বার ব্যবহার করতে থাকা।
মি. সোকার বলেন, এই সার্কুলার ইকোনমি দিয়ে আমরা আসলে বোঝাতে চাইছি অপ্রয়োজনীয় নতুন জিনিস কেনার অভ্যাস পরিহার করে যা আছে সেটাকে ব্যবহার উপযোগী করার অভ্যাস গড়ে তোলা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ার লিংকে ক্লিক করুন।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।









