গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- ATO সাধারণত ট্যাক্স রিটার্নের ওয়েবসাইটে কিছু তথ্য আগে থেকে পূরণ করে রাখে, সেটি ব্যবহার করে ভুল এড়ানো ও সময় বাঁচানো সম্ভব।
- ট্যাক্স এজেন্টের সাহায্য নিয়ে রিটার্ন দাখিল করলেই বড় অংকের কর ফেরত পাওয়া যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়। এজেন্টরা সাধারণত সব নিয়ম মেনে চলে ট্যাক্স রিটার্ন প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন।
- আয়ের উপর নির্ভর করে কোনো রিবেট বা সহায়তা পাওয়া যাবে কিনা তা জানতে ট্যাক্স ক্লিনিক বা ট্যাক্স হেল্প প্রকল্পের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।
আপনি হয়ত নিয়মিত ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন, অথবা প্রথমবারের মত দিচ্ছেন, এবং সেটি ট্যাক্স এজেন্টের সাহায্য নিয়ে হোক অথবা নিজে থেকে, সব ক্ষেত্রেই নিয়মগুলো সম্পর্কে আপনার জানা থাকা জরুরি।
এটিও-র সহকারী কমিশনার রবার্ট টমসন বলেন, করদাতারা নিজেরা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেয়ার সময়সীমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত থাকে। তবে ট্যাক্স এজেন্টের মাধ্যমে জমা দিলে তার পরেও দেয়া যায়।
তবে জুলাই মাসের একেবারে শুরুর দিনগুলোতে হিসাব জমা না দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

মি. টমসন এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করলে ট্যাক্স ফরমে অনেক তথ্য আগে থেকেই পূরণ করে রাখা হয়। তখন কাজটি সহজ হয়ে যায়।
সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি ইনফরমেশন অফিসার জাস্টিন বট বলেন, আপনি যদি সেন্টারলিংক থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকেন, আগে থেকে পূরণ করে রাখা তথ্যের মধ্যে সেটিও লেখা থাকে।
যারা কোনো ফ্যামিলি ট্যাক্স বেনিফিট বা চাইল্ড কেয়ার সাবসিডি পেয়ে থাকেন, অর্থ বছরের শেষে গিয়ে এই পেমেন্টগুলোর হিসাবে ভারসাম্য আনা হয়।
এ কাজটি করে থাকে সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া। তারা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার পরে এটিও-র ট্যাক্স নোটিশ মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে সেই অর্থ বছরে আপনার যত আয় হওয়ার কথা ছিল, তার সাথে আপনার প্রকৃত আয় যত হয়েছে, সেটি তুলনা করে এই হিসাব করে থাকে।
হিসাবের পরে যদি দেখা যায় কেউ প্রাপ্যের চেয়ে বেশি অর্থ সহায়তা পেয়েছেন, সে-ক্ষেত্রে তাদেরকে সেই টাকা ফেরত দিতে হয়। আর কেউ যদি প্রাপ্যের চেয়ে কম পেয়ে থাকেন, তখন সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া তাদের বাকি টাকা এককালীন পেমেন্ট হিসেবে দিয়ে থাকে।
পূর্বে ঘোষিত আয়ের সাথে প্রকৃত আয় একেবারে মিলে গেলে এসব কিছুই করার দরকার পড়ে না।

কেউ যদি বাড়ি থেকে কাজ করে থাকেন, সে-ক্ষেত্রে কাজ-সম্পর্কিত সব ব্যয়ের হিসাব রাখা জরুরি। কারণ এসব ব্যয়ের উপরে কর ছাড় পেতে হলে প্রমাণ রাখার দরকার হতে পারে।
ব্যয় হিসাবের জন্যে ব্যবহার করা হয় বাড়ি থেকে কাজ করা প্রতি ঘন্টার জন্যে একটি নির্দিষ্ট হার, যাকে ফিক্সড রেট মেথড বলে। অথবা আপনার প্রকৃত ব্যয়, যাকে বলে অ্যাকচুয়াল কস্ট মেথড।
মাইডিডাকশনস নামে এটিও-র একটি ফ্রি অ্যাপ রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যয়ের প্রমাণ হিসেবে ছবি অথবা রিসিট ও ইনভয়েস, এগুলো সহজে সেখানে জমা করে রাখা যায়।

প্রথমবারের মত যারা অস্ট্রেলিয়ায় ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তাদের ভালো করে দেখে নেওয়া দরকার যে আগের বছরের জন্যেও ট্যাক্স রিটার্ন করার প্রয়োজন আছে কিনা।
যদি আগের বছরের ট্যাক্স রিটার্ন করা না লাগে, সে-ক্ষেত্রে এটিও-কে এই তথ্য একটি নন-লজমেন্ট অ্যাডভাইসের মাধ্যমে জানাতে হয়।
তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাদের আয় হয়েছে, এবং তার উপর ভিত্তি করে কর প্রদান করেছেন, সবাইকেই ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হয়।
মি. টমসন বলেন, ট্যাক্স রিটার্ন করার অনেক রকম উপায় রয়েছে, এবং সঠিকভাবে তা করার জন্যে বিভিন্ন রকম সাহায্যও পাওয়া যায়।
অ্যান কায়িস-কুমার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, যিনি ট্যাক্স আইন পড়ান। একই সাথে তিনি ইউএনএসডাব্লিউ ট্যাক্স অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডভাইজরি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, যাদের কাজ হলো সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে গবেষণা করা।
তিনি ট্যাক্স ক্লিনিকগুলোর পরিচালনা পদ্ধতি সম্পর্কে সার্বিক ধারণা দিয়ে জানান, এগুলো সাধারণত ট্যাক্স এজেন্টদের সহায়তায় আর্থিক সমস্যায় থাকা মানুষদের বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে থাকে।

বহু অস্ট্রেলিয়ানই ট্যাক্স রিটার্ন জমা করার জন্যে ট্যাক্স এজেন্টদের সাহায্য নিয়ে থাকে। এজেন্টদের মাধ্যমে ট্যাক্স রিটার্নের হারের ক্ষেত্রে ইটালির পরেই অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান।
প্রফেসর কায়িস-কুমার কাজ করেছেন এমন একটি গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় যে,
ট্যাক্স এজেন্টের সাহায্য নিয়ে রিটার্ন দাখিল করলেই যে নিজে দাখিল করার চেয়ে বেশি অর্থ ফেরত পাওয়া যায় এমন ধারণা সঠিক নয়।
অবশ্য কারো বার্ষিক আয় ১ লক্ষ আশি হাজারের বেশি হলে সেটি ভিন্ন ব্যাপার।
তবে, ট্যাক্স এজেন্টের সাহায্য নেওয়ার অন্যান্য কিছু সুবিধা রয়েছে।
প্রফেসর কায়িস-কুমার বলেন, ট্যাক্স এজেন্ট ঠিক করার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন যে তারা রেজিস্টার্ড, অর্থাৎ এ কাজের জন্যে নিবন্ধিত রয়েছে।
আর অবশ্যই এটিও সম্পর্কিত যেকোনো স্ক্যামের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
মি. টমসন বলেন,
২০২৩ সালে করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে স্ক্যামারদের কার্যকলাপ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
স্ক্যামাররা সাধারণত নাম, ঠিকানা, মাইগভ আইডি, ট্যাক্স ফাইল নাম্বার, ক্রেডিট কার্ড ডিটেইলস, এই ধরনের তথ্য চুরির চেষ্টা চালায়, যেগুলো ব্যবহার করে আপনার নামে সহজেই ঋণ বা অনলাইনে দ্রব্যাদি কেনাকাটা করা যায়।

দরকারী লিংক:
- ট্যাক্স-সম্পর্কিত প্রয়োজনে আপনার নিজের ভাষায় তথ্য পেতে এই লিংকে দেখুন, অথবা সেন্টারলিংকের বহুভাষিক টেলিফোন সার্ভিসে কল করুন 131 202.
- ফ্যামিলি ট্যাক্স বেনিফিট অথবা চাইল্ড কেয়ার সাবসিডি পেলে এখানে দেখুন
- অস্ট্রেলিয়া ছাড়া অন্য কোনো দেশে ট্যাক্স প্রদান করে থাকলে এখানে দেখুন।
- এটিও-র তৈরি মাইডিডাকশনস অ্যাপের জন্যে এখানে দেখুন।
- ট্যাক্স ক্লিনিক প্রকল্প খুঁজে পেতে এখানে দেখুন।
- আপনার বার্ষিক আয় ৬০ হাজার ডলারের কম হলে এখানে দেখুন।
- বিভিন্ন ভাষায় ট্যাক্স সম্পর্কিত তথ্য পেতে দেখুন এটিও-র ওয়েবসাইট।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।






