২০২২ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তৎকালীন একজন প্রার্থী ডেভিড পোককের একটি ছবি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। এতে দেখা যায়, তিনি তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ভেতরের গ্রিনস পার্টির অফিসিয়াল লোগো দেখাচ্ছেন।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরির স্বতন্ত্র এই সিনেটর কখনো গ্রিনস পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
ডিজিটালি পরিবর্তন করা তাঁর সেই ছবির নিচে ছোট ফন্টে লেখা ছিল ‘অ্যাডভান্স অস্ট্রেলিয়া দ্বারা অনুমোদিত, একটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক লবি গ্রুপ’।
পোকক অস্ট্রেলিয়ান ইলেক্টোরাল কমিশনের কাছে এই ছবির ব্যাপারে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যার জবাবে তারা জানিয়েছিল - এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আইন লঙ্ঘন করা হয়নি।
অবশ্য এক মাস পরেই কমিশন তাদের মত বদলায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে এই বিজ্ঞাপনগুলো বিভ্রান্তিকর, এবং প্রদর্শনের উপযুক্ত নয়।
অ্যাডভান্স অস্ট্রেলিয়া এই সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করে, তবে তারা এই বিজ্ঞাপন প্রদর্শন না করতে সম্মত হয়েছে ... এখন পর্যন্ত।
সামনে নির্বাচন আসছে এবং রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আইনে ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যালেক্স ডাইসনকে নিয়ে নতুন বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে।
অ্যালেক্স দক্ষিণ-পশ্চিম ভিক্টোরিয়ায় ওয়ানন নির্বাচনী এলাকার জন্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটাররা তাদের মেইলবক্সে একাধিক বিভ্রান্তিকর ফ্লায়ার পেয়েছিলেন।
তার একটিতে দেখা যাচ্ছে অ্যালেক্সের শার্ট ছিঁড়ে দ্য গ্রিনস পার্টির অফিসিয়াল লোগোসহ একটি টি-শার্টের ছবি, পুরো ছবিটিই ডিজিটালি পরিবর্তন করা হয়েছে। যা আমাদেরকে ডেভিড পোককের কথা মনে করিয়ে দেয়।
কিন্তু এইসিকে ডাইসন জিজ্ঞেস করেন, এই বিজ্ঞাপন কীভাবে অনুমোদিত হয়, বিশেষ করে ২০২২ সালের সিদ্ধান্তের পরে? ডাইসন তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে অবাক হয়েছিলেন।
কারণ, এটা সম্পূর্ণ বৈধ।
এসবিএস এক্সামিনসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যাডভান্স অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে যে এইসি তাদের বলেছে ডাইসনের ফ্লায়ারের মতো বিজ্ঞাপন ‘নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে না’।
অ্যাডভান্স অস্ট্রেলিয়া বলছে যে ফ্লায়ারটি বিভ্রান্তিকর নয়, তারা আরও বলেছে যে তারা ‘মনে করে না অস্ট্রেলিয়ান ভোটাররা এতটা অপরিশীলিত যে তারা ব্যঙ্গাত্মক বিষয়টি বুঝতে পারবে না’।
মোনাশ ল স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ইয়ে-ফুই নং বলেছেন, ডাইসনের ঘটনাটি নির্বাচনী আইনে একটি দুর্বলতা প্রকাশ করে।
এইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে পোককের সেই ছবিগুলো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের মৌসুমে প্রদর্শন করা যাবে না।
তবে, যেহেতু ডাইসনের ফ্লায়ারগুলি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতরণ করা হয়েছিল, যা নির্বাচন ঘোষণার এক মাস আগে, এটি করা তাই অ্যাডভান্স অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বেঠিক নয়।
নির্বাচনী আইনের ৩২৯ ধারায় ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ভোটারকে বিভ্রান্ত বা প্রতারিত করতে পারে এমন যে-কোনও উপাদান প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে এইসি বলছে তাদের ব্যাখ্যায় এটি এমন একটি আইন যা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরেই কেবল প্রযোজ্য হবে।
অধ্যাপক নং বলছেন,
নির্বাচনী প্রচারণার সময় যখন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয় তখন তা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।
ওয়ারিংগাহ নির্বাচনী এলাকার স্বতন্ত্র প্রতিনিধি জালি স্টেগলও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন এবং রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আইনে সত্য প্রকাশে জোরের জন্য চাপ দিয়েছেন।
স্টেগল ভোক্তা বিজ্ঞাপনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের নীতির পরিবর্তন চান।
সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরির রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আইনে এ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউটের ডেমোক্রেসি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রামের পরিচালক বিল ব্রাউন বলেন, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন আইনে সঠিক তথ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান চাপ সত্ত্বেও, এই নির্বাচনী প্রচারের সময় যে বিজ্ঞাপনগুলো দেখছেন সেগুলো বিভ্রান্তিকর কিনা তা মূল্যায়ন করার দায়িত্ব শেষমেষ দর্শকদের ওপরেই বর্তাবে।
আরও তথ্যের জন্য দেখুন: sbs.com.au/sbsexamines
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারে ক্লিক করুন








