গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- দেউলিয়াত্বের মেয়াদ সাধারণত তিন বছর, কিন্তু এর প্রভাব থাকে বহুদিন
- দেউলিয়া ঘোষণা কাউকে তার সব ঋণ থেকে মুক্ত করে না
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ বা পেশাদার পরামর্শকের সাথে কথা বলে নিন
দেউলিয়াত্ব একটি আইনি প্রক্রিয়া যা ঋণগ্রহীতাকে বেশিরভাগ ঋণ থেকে মুক্তি দিয়ে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে এবং নতুন করে সব শুরু করতে সহায়তা দিতে পারে।
কেউ দেউলিয়া হতে স্বেচ্ছায় আবেদন করতে পারেন, অথবা উক্ত ব্যক্তি যাদের কাছে ঋণী, সেই ঋণদাতাদের অনুরোধে আদালত কর্তৃক কাউকে দেউলিয়া ঘোষণা করা যেতে পারে।
দেউলিয়াত্বকে ঘিরে থাকা লজ্জা ও কলঙ্কের তুলনায় এর ইতিবাচক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই বেশি হতে পারে।
তারপরেও অনেকের জন্যে দেউলিয়াত্ব গুরুতর পরিণতি নিয়ে আসে। ফাইন্ডারের সিনিয়র মানি এক্সপার্ট সারাহ মেগিনসন পরামর্শ দেন, দেউলিয়া আইনের আওতায় আসা অন্যান্য বিকল্পগুলির দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর প্রথম বিকল্প হতে পারে একটি ডেট এগ্রিমেন্ট বা ঋণ চুক্তি।
দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করার আগে একটি ঋণ চুক্তি করা যায় কিনা তা বিবেচনা করা উচিত, তবে সব ক্ষেত্রে নয়, শুধুমাত্র যদি কেউ কিছু ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হন, তখনি।
দ্বিতীয় বিকল্পটি হলো ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব চুক্তি বা পিআইএ। এটি ঋণগ্রহীতা এবং ঋণদাতার মধ্যে একটি আইনগত চুক্তি।

দেউলিয়াত্ব ঘোষণা ঋণ চুক্তি এবং পিআইএ থেকে আলাদা, কারণ এটি আপনার বেশিরভাগ ঋণ মওকুফ করে দেয়। তবে, দেউলিয়া ঘোষণার প্রভাব সুদূরপ্রসারী, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর্থিক পরামর্শদাতার সাথে কথা বলে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় ঋণ হেল্পলাইনে সোমবার থেকে শুক্রবার 1800 007 007 নম্বরে কল করে কথা বলা যায়। বর্তমানে জীবনযাত্রার অত্যধিক ব্যয় অনেক মানুষকেই ভোগান্তির শিকার করছে, তাই মিজ মেগিনসন বলেন, এই পরিস্থিতিতে কেউ একা নয়।
দেউলিয়া হওয়ার জন্য আবেদন করার সময় অস্ট্রেলিয়ান ফাইনান্সিয়াল সিকিউরিটি অথরিটি (AFSA) প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে, বলেছেন ব্যাঙ্করাপসির রেজিস্টার্ড ট্রাস্টি ক্লেয়ার করিগান।
তারপরে আবেদনকারীকে একজন ব্যাঙ্করাপসি ট্রাস্টি নিয়োগ দেয়া হবে - বা কেউ নিজেই অন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন।

ট্রাস্টির মূল ভূমিকা হলো ঋণদাতাসহ সমস্ত পক্ষের স্বার্থ যেন ন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হয় তা নিশ্চিত করা।
মিজ করিগান বলেন, ট্রাস্টিরা দেউলিয়া ব্যক্তির আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে, ঋণ পরিশোধের জন্য তাদের সম্পদ বিক্রি করে এবং তাদের আর্থিক আচরণ তদন্ত করে থাকে।
দেউলিয়াত্বের মেয়াদ সাধারণত তিন বছর এক দিন হয়, তবে মনে রাখতে হবে যে এর ফলাফল বহু বছর ধরে চলতে পারে।
দেউলিয়া ঘোষণাকারীর নাম ন্যাশনাল পার্সোনাল ইনসলভেন্সি ইনডেক্সে যোগ করা হয়। আর তখন এটি সেই ব্যক্তির ক্রেডিট রেটিং এবং দেউলিয়াত্ব শেষ হওয়ার পরেও কারও ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি চলাফেরার স্বাধীনতাকেও প্রভাবিত করে।
ম্যাথিউ, যিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, এ সম্পর্কে বলেন, দেউলিয়া থাকার সময় কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করা অপরাধ বলে বিবেচিত হয়।
সাধারণত দেউলিয়াত্ব কারও কাজ করার অধিকারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। আর অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভবত নিয়োগকর্তার এ বিষয়ে জানারও দরকার পড়ে না।
তবে, কেউ যদি কোনও বাণিজ্যিক বা অ্যাকাউন্টেন্সি অথবা আইন বিষয়ক কোনও শিল্পে কাজ করে তবে কাজের অধিকারের শর্তগুলি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রাসঙ্গিক সরকারী সংস্থা বা পেশাদার সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে নেয়া উচিত হবে।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও কোনও সংস্থা পরিচালনা করা যায় না বা নির্দিষ্ট কিছু সরকারী পদে থাকা যায় না।
আর কেউ যদি নিজের ব্যবসা পরিচালনা করে, যেমনটা ম্যাথিউ জানতে পেরেছেন, সে ক্ষেত্রে তাকে কিছু বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হবে।
ক্রেডিট রিপোর্টিং এজেন্সিগুলি দেউলিয়া হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা দেউলিয়াত্ব শেষ হওয়ার পর থেকে দুই বছরের জন্য কারও দেউলিয়া হওয়ার রেকর্ড সংরক্ষণ করে। এটি সেই ব্যক্তির ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষমতা এবং তার ঋণের জন্যে সুদের হারকেও প্রভাবিত করে।

সবকিছুর পরেও দেউলিয়াত্ব কি কাউকে কারও সমস্ত ঋণ থেকে মুক্তি দেয়? এর উত্তর হলো, না।
এই ঋণ ট্রাস্টির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারপরে দেউলিয়া ব্যক্তি বেশিরভাগ অরক্ষিত ঋণ থেকে মুক্তি পায়, যেমন, ক্রেডিট কার্ড, মেডিকেল বিল এবং কোনও সম্পদ বন্ধক রেখে যেসব ঋণ নেয়া হয়নি, সেগুলি।
ট্রাস্টিকে অবশ্যই দেউলিয়া ব্যক্তির আর্থিক পরিস্থিতিতে যে কোনও পরিবর্তন, যেমন তার আয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
সারাহ মেগিনসন বলেন, পাওনাদারদের অর্থ প্রদানের জন্য তারা কিছু সম্পদও বিক্রি করতে পারে।
ক্লেয়ার করিগান নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার কলঙ্কের চেয়েও এর ফলে আসা আর্থিক মুক্তি ও নতুন করে শুরু করার সুযোগের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করার ওপরে জোর দেন, বিশেষ করে যারা কঠিন আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে নিজেকে একা ভাবার কোনো কারণ নেই।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ার লিঙ্কে ক্লিক করুন।







