অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ডের এই পর্বে আমরা জানতে পারব, আপনার সন্তান যেন ন্যায্য আচরণ পায় এবং প্রথম চাকরির অভিজ্ঞতা যেন ইতিবাচক হয়, এবং এগুলো নিশ্চিত করতে আমাদের কী জানা প্রয়োজন।
মূল বিষয়
- অস্ট্রেলিয়ায় কাজ শুরু করার জন্য জাতীয় পর্যায়ে কোনো ন্যূনতম বয়স নেই।
- শিশুদের কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত আইন নির্দিষ্ট করে দেয়, তারা কী ধরনের কাজ করতে পারবে এবং কত ঘণ্টা কাজ করতে পারবে।
- নিশ্চিত করুন যে আপনার সন্তান বেতন পাওয়ার সময় পে-স্লিপ পাচ্ছে এবং নিজের কাজের হিসাবও রাখছে।
- কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে অভিভাবকরা ফেয়ার ওয়ার্ক ওমবাডসম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বা আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
খণ্ডকালীন চাকরি হিসেবে কাজ শুরু করা একজন কিশোর-কিশোরীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হতে পারে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, নতুন দক্ষতা শেখা যায় এবং জীবনের প্রথম উপার্জন করার সুযোগ হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুরা কিছু নির্দিষ্ট শর্তে বেতনভুক্ত কাজ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় তরুণ কর্মীদের সুরক্ষার জন্য বিস্তারিত আইন রয়েছে। এসব আইনে তারা কী ধরনের কাজ করতে পারবে, কর্মক্ষেত্রে কী সুরক্ষা পাবে এবং কোন বয়সে কাজ শুরু করতে পারবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাজ শুরু করার ন্যূনতম বয়স নিয়ে প্রতিটি স্টেট ও টেরিটরির আলাদা আইন রয়েছে।
আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা জানতে প্রথমে ফেয়ার ওয়ার্ক ওমবাডসম্যানের ওয়েবসাইটে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আনাস্তাসিয়া কোরোনিও।
তিনি ইয়ুথ ল অস্ট্রেলিয়া-র একজন সিনিয়র সলিসিটর। এটি ২৫ বছরের কম বয়সী শিশু ও তরুণদের বিনামূল্যে এবং গোপনীয় আইনি পরামর্শ দেওয়া একটি জাতীয় আইনি সেবা। তিনি বলেন, "ফেয়ার ওয়ার্ক ওমবাডসম্যানের ওয়েবসাইট থেকে শুরু করাই ভালো। কারণ সেখানে সাধারণ তথ্য পাওয়া যায় এবং ন্যূনতম কাজের বয়স নিয়ে আলাদা একটি পেজও রয়েছে।“

আপনি কোথায় থাকেন, তার ওপর কাজ শুরু করার ন্যূনতম বয়স নির্ভর করলেও সব স্টেট ও টেরিটরিতে এমন নিয়ম রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো কাজের সঙ্গে শিক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখা।
তরুণ কর্মীদের কাজের সময় ও দিনের ওপর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যাতে চাকরি তাদের পড়াশোনায় বাধা না দেয়।
সাধারণভাবে, যে বয়স পর্যন্ত স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক, সেই বয়সের শিশুরা স্কুল চলাকালীন স্বাভাবিক সময়ে বা স্কুলের আগের রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর কাজ করতে পারে না।
তবে স্কুলের ছুটি বা অন্য কিছু পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রম হতে পারে।
আনাস্তাসিয়া কোরোনিও আরও বলেন,"হোম-স্কুলিং করা শিশুদের অভিভাবকেরা মাঝে মাঝে জানতে চান, স্কুলে থাকার স্বাভাবিক সময়ে তাদের সন্তান কাজ করতে পারবে কি না। তবে এটি নির্ভর করবে তাদের হোম-স্কুলিংয়ের জন্য কী ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার ওপর।"
কোনো চাকরি আইন মেনে চললেও কখনও কখনও আপনার মনে হতে পারে, কাজটির কিছু শর্ত আপনার সন্তানের জন্য উপযুক্ত নয়।

কিছু স্টেট ও টেরিটরিতে ১৮ বছরের কম বয়সী কর্মী নিয়োগের আগে নিয়োগকর্তাকে শিশু-কর্মসংস্থানের লাইসেন্স নিতে হয়।
শিশুরা কিছু নির্দিষ্ট ধরনের কাজ করতে পারে না। তবে এরও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটি-র কর্মসংস্থান ও শিল্পবিষয়ক অধ্যাপক কেরি ব্রাউন কিছু উদাহরণ দিয়েছেন।
"সাধারণত ১৮ বছরের কম বয়সী কর্মীরা সিগারেট বা অ্যালকোহল বিক্রি করতে পারে না। শিশুদের শুধু হালকা ধরনের কাজ করার অনুমতি থাকে। যেমন, তারা নির্মাণশিল্পে কাজ করতে পারে না।"
শিশুদের কাজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়সের কোনো শর্ত নেই, এমন একমাত্র খাত হলো বিনোদনশিল্প।
যেকোনো বয়সের অভিনয়শিল্পী, অভিনেতা বা মডেলকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর লাইসেন্স এবং শিল্পভিত্তিক অন্যান্য নিয়ম রয়েছে।
অধ্যাপক ব্রাউন বলেন, বিনোদনশিল্পে কাজ করা শিশুদের জন্য যে সুরক্ষা রয়েছে, সে বিষয়ে অনেক অভিভাবকই জানেন না।
আপনার সন্তান কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে সহায়তার জন্য ফেয়ার ওয়ার্ক ওমবাডসম্যানের কাছে যেতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় কর্মক্ষেত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে এই সংস্থা কম বেতন দেওয়া এবং সাধারণ কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা করতে পারে।
ম্যাথিউ র্যাগাট ফেয়ার ওয়ার্ক ওমবাডসম্যানের মিডিয়া ডিরেক্টর।
তিনি বলেন, অভিভাবকদের প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের সন্তান ন্যায্য বেতন পাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট খাত ও বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম বেতনের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছে না। এই নির্ধারিত বেতনকে অ্যাওয়ার্ড রেট বলা হয়।
এছাড়া, সন্তান যখনই বেতন পাবে, নিয়োগকর্তা যেন লিখিত বা ইলেকট্রনিক পে-স্লিপ দেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার সন্তানের নিজের কাজের হিসাব রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে প্রয়োজন হলে সে কত ঘণ্টা কাজ করেছে, তা প্রমাণ করতে পারে।
এটি করার একটি উপায় হলো ফেয়ার ওয়ার্ক ওমবাডসম্যানের Record My Hours অ্যাপ ব্যবহার করা।
ম্যাথিউ র্যাগাট আরও বলেন,"নিয়োগকর্তাদের কাজের সময়ের হিসাব রাখতে হয় এবং কাজের সময় অনুযায়ী সঠিক পে-স্লিপ দিতে হয়। তবে তারা তা না করলে কর্মীদের নিজেদের হিসাব রাখাও কাজে আসতে পারে।“
তরুণ কর্মীরা তাদের কর্মক্ষেত্রের অধিকার সম্পর্কে না জানলে কম বেতন পাওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
ম্যাথিউ র্যাগাট বলেন,
কিছু প্রচলিত ভুল ধারণার কারণে তরুণ কর্মীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
আনাস্তাসিয়া কোরোনিও বলেন, কম বেতন পাওয়ার পাশাপাশি কাজের সময়, অন্যায্য আচরণ, বুলিং ও হয়রানি নিয়ে উদ্বেগও ইয়ুথ ল অস্ট্রেলিয়ার হেল্পলাইনে অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে সাধারণ অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সবশেষে, কর্মক্ষেত্রে আপনার সন্তানের অভিজ্ঞতা নিয়ে তার সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মনে রাখতে হবে, সন্তানকে সহায়তা করার অর্থ সরাসরি তার নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা নয়, ব্যাখ্যা করেছেন আনাস্তাসিয়া কোরোনিও।
প্রথম চাকরি তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা গড়ে তুলতে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
নিয়মগুলো বুঝে এবং সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে আপনি নিশ্চিত করতে পারেন, তার প্রথম চাকরির অভিজ্ঞতা যেন শুরু থেকেই ইতিবাচক হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।





