গুরুত্বপূর্ণ দিক
- কুকুর ও বিড়ালের মালিকদের জন্য মাইক্রোচিপ করানো এবং নিবন্ধন—আইন অনুযায়ী দুটিই বাধ্যতামূলক। মনে রাখবেন, এগুলো আলাদা দুটি প্রক্রিয়া, তাই উভয়ই সম্পন্ন করতে হবে।
- পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দাঁতের যত্ন, টিকা দেওয়া, এবং যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা।
- পোষা প্রাণীর দায়িত্ব নেওয়া উচিত সচেতন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, যেখানে তার যত্নে যুক্ত পরিবারের সব সদস্যের সম্মতি থাকবে।
পোষা প্রাণীরা অস্ট্রেলিয়ার বহু মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি প্রায় তিনটি পরিবারের মধ্যে অন্তত দুটি পরিবার তাদের বাড়িতে কোনো না কোনো পোষা প্রাণীকে প্রিয় সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে থাকেন।
তবে কেউ যদি আগে কখনও পোষা প্রাণী না রেখে থাকেন, তাহলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
পোষা প্রাণী আছে এমন অনেকেই একমত হবেন যে, বাড়িতে সেগুলোর উপস্থিতি অনেক আনন্দদায়ক, তবে দায়িত্বের প্রসঙ্গ এলে এ-ব্যাপারটিকে প্রায়ই সন্তান লালন-পালনের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
তিন বছর আগে বিন্ধিয়া নিভেনহাললেট্জ ও তার সঙ্গী জেমস তাদের বাড়িতে একটি কুকুর পোষার সিদ্ধান্ত নেন।
তাদের কুকুরটির নাম অ্যালগট। তারা বলেন, অ্যালগটকে বাড়িতে আনার পর থেকে এমন একটি দিনও যায়নি যেদিন তারা সেটির সুফল অনুভব করেননি।
কিন্তু ভালো দিকগুলোর পাশাপাশি, পোষা প্রাণী রাখার সঙ্গে জুড়ে থাকে অনেক দায়িত্বও।
মাঝেমধ্যে ভ্রমণে গেলে সেটির দেখাশোনার জন্য কাউকে খোঁজা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের দায়িত্ব—যেমন, প্রাণীটিকে দীর্ঘ সময় একা বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় না রাখা, এরকম সবকিছুই আগে থেকে পরিকল্পনা ও অঙ্গীকারের দাবি রাখে।
মিজ নিভেনহাললেট্জ আরও বলেন, এসব কিছুই আগে থেকে অনেক পরিকল্পনা করে রাখা লাগে।

পোষা বা সঙ্গী প্রাণীর তালিকায় গিনিপিগ, খরগোশ থেকে শুরু করে এমনকি ঘোড়াও থাকতে পারে—তবে অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে কুকুর ও বিড়াল। তাই তাদের যত্নের জন্য রয়েছে বিশেষ আইন।
টারা ওয়ার্ড হলেন অ্যানিমেল ডিফেন্ডার্স অফিসের স্বেচ্ছাসেবী ম্যানেজিং সলিসিটর, এটি প্রাণী-সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য একটি কমিউনিটি লিগ্যাল সেন্টার।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, পোষা প্রাণী সম্পর্কিত আইন স্টেট ও কাউন্সিলভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে কুকুর ও বিড়ালের মালিকদের জন্য কিছু আইন সারা দেশেই প্রযোজ্য।
এর মধ্যে একটি হলো পোষা প্রাণীর দেহে মাইক্রোচিপ প্রবেশ করানো।
সব কুকুর ও বিড়াল-মালিকের জন্যই স্থানীয় কাউন্সিলে তাদের পোষা প্রাণীর নিবন্ধন করানো বাধ্যতামূলক।
মিজ ওয়ার্ড বলেন, একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো মাইক্রোচিপ করানো ও নিবন্ধন একই জিনিস—কিন্তু আসলে তা নয়।

পোষা প্রাণীর প্রজননক্ষমতা রোধ বা ‘ডি-সেক্সিং’-এর ক্ষেত্রে এক একটি অঞ্চলের আইন এক এক রকম হতে পারে।
পোষা প্রাণীর মালিকদের জন্যে মিজ ওয়ার্ড-এর পরামর্শ হচ্ছে, তারা যেন নিজেদের স্থানীয় কাউন্সিল এলাকার নির্দিষ্ট আইন পরীক্ষা করে নেন, কারণ বিড়াল ও কুকুর রাখার আইন প্রয়োগের দায়িত্ব কাউন্সিলের ওপরই বর্তায়।

আপনার স্টেট বা টেরিটরিতে তথ্য সহায়তার জনে দেখুন:
- New South Wales
- Australian Capital Territory
- Victoria
- South Australia
- Western Australia
- Tasmania
- Queensland
- Northern Territory
আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, পোষা কুকুরকে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে জোরালো পরামর্শ দেয়া হয়।
আরএসপিসিএ ভিক্টোরিয়ার সিনিয়র অ্যানিমেল কেয়ার ম্যানেজার নাদিয়া পিয়ারিস এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, এই প্রশিক্ষণ নির্দিষ্ট নিয়ম ও কৌশল মেনে দেয়া হয়ে থাকে। তাই এর কার্যকারিতা সুদূরপ্রসারী।
মিজ পিয়ারিসের মতে, কুকুর ও বিড়ালের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে দুটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। প্রথমত, অনেকেই মনে করেন পোষা প্রাণীর দাঁতের যত্নের প্রয়োজন হয় না। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, পোকা বা ফ্লি সংক্রান্ত চিকিৎসা অপ্রয়োজনীয়।

কুকুর ও বিড়ালের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি, আর যেসব প্রাণীর স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আরও নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
লর্ট স্মিথ অ্যানিমেল হসপিটালের ক্যাম্পবেলফিল্ড শাখার ভেট ডিরেক্টর ড. কেট গলাশেভস্কি এ বিষয়ে বলেন, প্রথম দিকে প্রতি দুই বা তিনমাস পর পর পোষা প্রাণীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসা উচিত। খানিকটা বড়ো হবার পরে এই পরীক্ষা বছরে একবার করালেই চলে।

ড. গলাশেভস্কির মতে, মানুষের মতই আপনার পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্যে কোনো উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা দিলে অবশ্যই সেটিকে পশুচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। হঠাৎ অলস হয়ে পড়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়লে—সবচেয়ে ভালো হয় সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া।
আপনার পোষা প্রাণীর বিষয়ে স্থানীয় আইন নিয়ে অনিশ্চিত থাকলে, বা পোষা প্রাণীর মালিক হিসেবে কোনও আইনি সমস্যায় পড়লে, পরামর্শের জন্য অ্যানিমেল ডিফেন্ডার্স অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।
আপনি যদি আপনার পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও যত্নে সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন, অথবা প্রাণীটি হস্তান্তরের কথা ভাবেন, তবে তথ্য ও সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে আপনার স্টেট ও টেরিটরির আরএসপিসিএ (RSPCA) ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।









