অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বাবা-মা হতে চলেছেন, এমন দম্পতিদের জন্য কোথায় এবং কীভাবে সন্তান জন্ম দেবেন, তা ঠিক করা বেশ কঠিন মনে হতে পারে। আপনি সরকারি কিংবা বেসরকারি যে-ধরনের স্বাস্থ্যসেবাই বেছে নিন না কেন, আপনার এবং আপনার শিশুর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আপনার হাতে কী কী বিকল্প রয়েছে এবং পরামর্শের জন্য কোথায় যোগাযোগ করবেন, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
মূল বিষয়
- আপনার স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন ও আপনি কোথায় থাকেন, তার ওপর নির্ভর করে হাসপাতালে, বার্থিং সেন্টারে বা বাড়িতে সন্তান জন্ম দিতে পারেন।
- একই চিকিৎসক বা মিডওয়াইফদের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে সেবা নিলে তা ইতিবাচক প্রসব-অভিজ্ঞতা এবং মা ও শিশুর ভালো স্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বাড়ায়।
- গর্ভাবস্থায় আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী আপনার চিকিৎসার ইতিহাস ও পছন্দ অনুযায়ী নির্দিষ্ট তথ্য ও পরামর্শ দিতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ায় মাতৃত্বকালীন সেবার বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি কোথায় থাকেন, সেখানে কী ধরনের সেবা পাওয়া যায়, আপনার চিকিৎসাগত প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে আপনি এগুলোর মধ্য থেকে যে-কোনও বিকল্প বেছে নিতে পারেন।
‘Pregnancy, Birth and Baby’ হচ্ছে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট ও হেল্পলাইন। মাতৃত্বকালীন সেবার বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য এই ওয়েবসাইট কাজে আসতে পারে।
র্যাচেল ওয়ারবয়েজ ‘Pregnancy, Birth and Baby’ সার্ভিসের ক্লিনিক্যাল লিড। আপনার চিকিৎসার ইতিহাস, প্রয়োজন এবং আপনি কোথায় থাকেন, তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট তথ্যের জন্য তিনি জিপি বা জেনারেল প্র্যাকটিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
আপনি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে অথবা বেসরকারি রোগী হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
অপ্রত্যাশিত খরচ এড়াতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় ফি সম্পর্কে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যোগ্য সরকারি রোগীদের জন্য, সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার খরচ এবং গর্ভাবস্থায় নিয়মিত বেশিরভাগ চিকিৎসার খরচ মেডিকেয়ার বহন করে।
মিজ ওয়ারবয়েজ কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাধারণত মিডওয়াইফ বা চিকিৎসকের সঙ্গে গর্ভকালীন নিয়মিত সাক্ষাতের জন্য আলাদা করে কোনো খরচ দিতে হয় না। গর্ভকালীন দলগত শিক্ষা কার্যক্রম, ডায়েটিশিয়ান ও সমাজকর্মীর মতো সহযোগী স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাও এর মধ্যে থাকতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় মাতৃত্বকালীন সেবার বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা রয়েছে।
আপনার প্রয়োজন, সেবার প্রাপ্যতা এবং কোথায় সন্তান জন্ম দিতে চান, তার ওপর নির্ভর করে মিডওয়াইফ, জিপি, অবস্টেট্রিশিয়ান অথবা একাধিক স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বিত একটি দলের কাছ থেকে আপনি সেবা পেতে পারেন।
আপনি যদি সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে গর্ভাবস্থায় জটিলতার ঝুঁকি থাকলেই হয়তো আপনাকে অবস্টেট্রিশিয়ানের কাছে যেতে হবে। আপনি যে ধরনের সেবাই বেছে নিন না কেন, কোনো না কোনো পর্যায়ে সম্ভবত একজন মিডওয়াইফের সঙ্গে আপনার দেখা হবে। মিজ ওয়ারবয়েজ বলেন, মিডওয়াইফ আপনার প্রধান সেবাদানকারী না হলেও এটা হতে পারে।
ধারাবাহিক সেবা বলতে বোঝায়, গর্ভকালীন পুরো সময়জুড়ে একই চিকিৎসক, মিডওয়াইফ বা অল্পসংখ্যক মিডওয়াইফের একটি দলের কাছ থেকে সেবা পাওয়া।
গবেষণায় দেখা গেছে, মা ও শিশু উভয়ের জন্যই এর সুফল রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পরিচিত একজন মিডওয়াইফের কাছ থেকে ধারাবাহিক সেবা পেলে সময়ের আগে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি কমে যেতে পারে, এমন শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।
ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির মিডউইফারি বিভাগের অধ্যাপক হান্না ডালেন জানিয়েছেন মিডওয়াইফদের কাছ থেকে ধারাবাহিক সেবা কীভাবে দেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় বেশিরভাগ শিশুর জন্ম হয় হাসপাতালে। আপনার এলাকায় সুযোগ থাকলে বার্থিং সেন্টারেও সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বার্থিং সেন্টারগুলো মূলত জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় যতটা সম্ভব কম চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রসবের ওপর গুরুত্ব দেয়।
কম ঝুঁকির গর্ভাবস্থায় বাড়িতে সন্তান জন্ম দেওয়াও আরেকটি বিকল্প। এর সুবিধা ও ঝুঁকি সম্পর্কে আপনার মিডওয়াইফ বা চিকিৎসক আপনার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
অধ্যাপক ডালেন জানিয়েছেন বাড়িতে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কীভাবে হয় এবং কখন এটি পরামর্শযোগ্য নয়।
বাড়িতে সন্তান জন্ম দেওয়া আর ‘ফ্রিবার্থ’ এক বিষয় নয়। ফ্রিবার্থের ক্ষেত্রে একজন নারী এমনভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, যেখানে কোনো প্রশিক্ষিত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তি উপস্থিত থাকেন না, এমনকি কোনো জটিলতা দেখা দিলেও ক্লিনিক্যাল সেবা দেওয়ার মতো কেউ থাকেন না।
অধ্যাপক ডালেন বলেন, ফ্রিবার্থে সন্তান জন্মের সময় কোনো নিবন্ধিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী উপস্থিত থাকেন না। এটাই বড় পার্থক্য।

ম্যাথিউ অ্যাকুইলিনা হচ্ছেন Gidget Foundation Australia-এর ক্লিনিক্যাল টিম ম্যানেজার। এটি প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি জাতীয় সংস্থা।
তিনি বলেন,
নতুন এবং সন্তান প্রত্যাশী বাবা-মায়েদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের অভিজ্ঞতা বেশ সাধারণ।
মনে রাখবেন, গর্ভাবস্থাসহ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য রেফারেলের ক্ষেত্রে আপনার জিপিই প্রথম যোগাযোগের জায়গা।
সন্তান জন্মদানের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অনেক আগে থেকেই ভাবা শুরু করা ভালো, বলেন মি. অ্যাকুইলিনা।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হলো জেনে-বুঝে সন্তান জন্মদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বলেন 'প্রেগন্যান্সি, বার্থ অ্যান্ড বেবি'-এর ক্লিনিক্যাল লিড মিজ ওয়ারবয়েজ।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।





