বাবা-মা হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় সন্তানকে বড় করার সময়, তার জন্য আপনার সবচেয়ে মূল্যবান উপহারের অন্যতম হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও ধারাবাহিকভাবে টিকে থাকা সংস্কৃতির সঙ্গে তার সংযোগ তৈরি করে দেওয়া।
মূল বিষয়:
- অস্ট্রেলিয়ার ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠী সম্পর্কে জানা এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সন্তান ও বাবা-মা উভয়ই একসঙ্গে অংশ নিতে পারেন।
- অনলাইনে বিভিন্ন বয়স উপযোগী উপকরণ রয়েছে, যা আপনার সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিজেনাস সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে সহায়তা করতে পারে।
- বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, সচেতনভাবে ভ্রমণ করা এবং নিজে গবেষণা করা আপনার এলাকার এবং এর বাইরের ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ তৈরির উপায় হতে পারে।
- ভুল করা শেখারই অংশ। তাই কৌতূহলী থাকুন এবং অ্যাবোরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডারদের বিভিন্ন প্রথা ও রীতিনীতি বুঝতে প্রয়োজনে সাহায্য চান।
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় নতুন এসে থাকেন, তাহলে কোথা থেকে শুরু করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়তে পারেন। অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ড সিরিজের এই পর্বে আমরা জানতে পারব বয়স উপযোগী বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণ, কমিউনিটির নানা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন কিছু অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কীভাবে আপনি ও আপনার সন্তান অস্ট্রেলিয়ার ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠী, তাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ তৈরি করতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী যে কারও জন্য, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করুন বা বিদেশ থেকে আসুন, অ্যাবোরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগোষ্ঠী এবং নন-ইন্ডিজেনাস জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া একটি চলমান যাত্রা।
এসমা লিভারমোর বিগামবুল জনগোষ্ঠীর একজন নারী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার রিকনসিলিয়েশনের প্রধান জাতীয় সংস্থা Reconciliation Australia-তে কাজ করেন।
তিনি বলেন,
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় নতুন এসে থাকেন, তাহলে ফার্স্ট নেশনসের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও কমিউনিটি সম্পর্কে জানা আপনার নতুন দেশের সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
আর শুরুটা হতে পারে পরিচিত, মজার এবং সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু দিয়ে, যেমন আপনার সন্তানের সঙ্গে টেলিভিশন দেখা।
তিনি আরও বলেন, NITV, অর্থাৎ National Indigenous Television-এ অ্যাবোরিজিনাল ও টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডারদের গল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সমকালীন অভিজ্ঞতা নিয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠান রয়েছে। ছোট শিশুদের জন্য একটু বেশি সহজবোধ্য এবং বয়স উপযোগী এমন নানা ধরনের অনুষ্ঠানও আছে, যেগুলো অ্যাবোরিজিনাল ও টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার সংস্কৃতি এবং এই জনগোষ্ঠীগুলোর বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। আমার মনে হয়, এটি খুব সহজ ও স্বাভাবিকভাবে শেখার প্রথম ধাপ হতে পারে, ‘এই দেশের ফার্স্ট পিপলস কারা?’

SBS On Demand-এও ফার্স্ট নেশনস নিয়ে নানা ধরনের কনটেন্ট বিনামূল্যে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের অ্যানিমেটেড সিরিজ, তথ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র।
পর্দার বাইরেও আপনার স্থানীয় এলাকায় অ্যাবোরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার সংগঠনগুলোর আয়োজিত পরিবারবান্ধব বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম খুঁজে দেখতে পারেন।
মিজ লিভারমোর প্রতিবছর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথা বলেছেন: জুলাইয়ের NAIDOC Week এবং ২৭ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত National Reconciliation Week।

বাড়িতেও এই শেখার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। অনলাইনে এমন নানা উপকরণ রয়েছে, যেখানে ফার্স্ট নেশনসের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানা যায়।
SBS Learn-এ অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাক্রম অনুযায়ী তৈরি এমন নানা কনটেন্ট রয়েছে, যা ফাউন্ডেশন থেকে ইয়ার ১২ পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী। সন্তানের সঙ্গে বাড়িতে এগুলো দেখতে ও ব্যবহার করতে পারেন।
Reconciliation Australia-তে মিজ লিভারমোর Narragunnawali: Reconciliation in Education প্রোগ্রামের একজন ম্যানেজার।
এই প্রোগ্রামে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের জন্য অনলাইন টুলকিট রয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বাবা-মাসহ বিভিন্ন মানুষ যাতে অর্থবহভাবে রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন, সেজন্য এসব টুলকিটে বিভিন্ন তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সম্ভবত এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো স্থানীয় অ্যাবোরিজিনাল ও টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা। এখানে কীভাবে সম্পর্ক তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কিছু কার্যক্রম বা ধারণা দেওয়া হয়। অর্থাৎ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কমিউনিটির মধ্যে গিয়ে সম্পর্ক তৈরি করা।
সন্তানকে নিয়ে ভ্রমণ করাও একসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আরেকটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।
নতুন কোনো জায়গায় যাওয়ার আগে Australian Institute of Aboriginal and Torres Strait Islander Studies-এর ওয়েবসাইটে থাকা অনলাইন ম্যাপটি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন মিজ লিভারমোর।
AIATSIS-এর ম্যাপ ব্যবহার করে আপনি যে এলাকায় যাচ্ছেন, সেখানকার সঙ্গে যুক্ত অ্যাবোরিজিনাল ও টরে স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ভাষা, সামাজিক বা জাতিগোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।
এরপর অনলাইনে খোঁজ করে স্থানীয় কান্ট্রি, সেখানকার মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সম্পর্কে আরও জানতে পারেন। ভ্রমণের সময় অংশ নেওয়ার মতো ফার্স্ট নেশনস-ভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমও খুঁজে দেখতে পারেন।

তবে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী সংস্কৃতি সম্পর্কে সন্তানকে শেখানোর সময় কোনো ভুল হতে পারে, অনেকেরই এমন ভয় থাকতে পারে।
মিজ লিভারমোর বলেন, বাবা-মা কিংবা শিক্ষক, নন-ইন্ডিজেনাস প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই ভয় থাকাটা খুবই সম্ভব। তবে এর অর্থ এই নয় যে শেখার প্রক্রিয়াটি থামিয়ে দিতে হবে, এমনকি শিখতে গিয়ে কোনো ভুল হলেও নয়।
তাই ফার্স্ট নেশনসের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে একবারেই সবকিছু শিখে ফেলতে হবে, এমনটা নয়। কৌতূহলী থাকুন, মন দিয়ে শুনুন এবং সন্তানের সঙ্গে মিলে একসঙ্গে শিখতে থাকুন। তাহলেই অস্ট্রেলিয়ায় আপনার দৈনন্দিন জীবনেরই একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে এই সংযোগ।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।





