অস্ট্রেলিয়ায় আপনি প্রায়ই তিনটি পতাকা একসঙ্গে উড়তে দেখতে পাবেন: অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ, এবোরিজিনাল ফ্ল্যাগ এবং টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ফ্ল্যাগ। অস্ট্রেলিয়ার তিনটি পতাকা কেন আছে? এর উত্তর পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ার ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে। এবোরিজিনাল জনগণ এবং টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগণ অস্ট্রেলিয়ার দুটি স্বতন্ত্র ইন্ডিজিনাস জনগোষ্ঠী। তাদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা এবং পতাকা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার পতাকা ভূমি, সমুদ্র এবং মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
- এই পতাকাটি ১৯৯২ সালে টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার শিল্পী আঙ্কেল বার্নার্ড নামক সিনিয়র (Uncle Bernard Namok Snr) ডিজাইন করেন। বর্তমানে এটি অস্ট্রেলিয়ার তিনটি জাতীয় পতাকার একটি।
- পতাকার সবুজ, নীল, কালো ও সাদা রঙের নকশায় একটি ডারি (মাথার ঐতিহ্যবাহী অলংকার) এবং একটি পাঁচ-কোণা তারা রয়েছে, যা টরে' স্ট্রেইটের পাঁচটি দ্বীপগোষ্ঠীর প্রতীক।
- অনেকের কাছে এই পতাকাটি পরিচয়, গর্ব এবং টিকে থাকার প্রতীক। বর্তমানে এটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান।
টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ফ্ল্যাগ-এর রং হলো সবুজ, নীল, কালো ও সাদা। এতে একটি সাদা ঐতিহ্যবাহী মাথার অলংকার রয়েছে, যা ‘ডারি (Dari)’ নামে পরিচিত, এবং মাঝখানে একটি সাদা তারা আছে।
এই পতাকা টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগণ এবং তাদের ভূমি, সাগর, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রতিনিধিত্ব করে।
অনেক টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার মানুষের কাছে এই পতাকা তাদের পরিচয় ও অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী প্রতীক, তারা দ্বীপে, মূল ভূখণ্ডে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন।
কেন এই পতাকাটি এত মানুষের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে আমাদের শুরু করতে হবে টরে' স্ট্রেইট থেকে। ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পর্ব থেকে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন।

টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ড হলো কুইন্সল্যান্ডের কেপ ইয়র্ক-এর উত্তর প্রান্ত এবং পাপুয়া নিউ গিনির মাঝখানে অবস্থিত একগুচ্ছ দ্বীপ। দ্বীপগুলো অস্ট্রেলিয়ার অংশ এবং টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগণের আবাসস্থল। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভাষা রয়েছে।
১৯৯২ সালে আইল্যান্ড কোঅর্ডিনেটিং কাউন্সিল (Island Coordinating Council), টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগণের জন্য একটি কমিউনিটি পতাকা ডিজাইনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বিজয়ী নকশাটি তৈরি করেছিলেন থার্সডে আইল্যান্ড-এর আঙ্কেল বার্নার্ড নামক।
প্রতিযোগিতার কিছুদিন পরই আঙ্কেল বার্নার্ড মারা যান। ফলে তার নকশাটি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতীকে পরিণত হতে দেখার সুযোগ তিনি পাননি। তবে তার ছেলে বার্নার্ড নামক জুনিয়রের জন্য এই পতাকা তাকে তার বাবার স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখে। পতাকাটি দেখলেই তার শৈশবের কথা এবং বাবাকে রাত জেগে আঁকতে দেখার স্মৃতি মনে পড়ে।
পতাকার প্রতিটি রং ও প্রতীকের একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে। সবুজ ভূমির প্রতীক, নীল টরে' স্ট্রেইট-এর জলরাশির প্রতীক এবং কালো টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে। সাদা ‘Dari’ টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক, আর সাদা পাঁচ-কোণা তারা টরে' স্ট্রেইট-এর পাঁচটি প্রধান দ্বীপগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে।
এবোরিজিনাল এবং টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার বংশোদ্ভূত আইন শিক্ষার্থী টাইরিল ভিটি জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন থার্সডে আইল্যান্ড-এ। বর্তমানে তিনি কুইন্সল্যান্ডেরর টাউন্সভিলে থাকেন। তিনি বলেন, এই পতাকা টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে।

বার্নার্ড জুনিয়র এবং টাইরেল দুজনেই থার্সডে আইল্যান্ডে বড় হয়েছেন। তাদের ভাষায়, এটি ছোট হলেও পরিবার ও সংস্কৃতিতে ভরপুর একটি প্রাণবন্ত সম্প্রদায়।
টাইরেলের কাছে এই পতাকা দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ।
বার্নার্ড জুনিয়র সেই সময়ের কথা মনে করতে পারেন, যখন এই পতাকাটি এখনও ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তিনি দেখেছেন কীভাবে ১৯৯০-এর দশকের প্রতিযোগিতার পর ধীরে ধীরে এটি দ্বীপগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

আজ টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ফ্ল্যাগ সারা অস্ট্রেলিয়াজুড়ে উড়তে দেখা যায়। আপনি এটি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, পার্লামেন্ট, স্থানীয় কাউন্সিল এবং আদালতের বাইরে দেখতে পাবেন। অনেক সময় এটি এবোরিজিনাল ফ্ল্যাগ এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ-এর পাশাপাশি উড়তে দেখা যায়।
বর্তমানে কেয়ার্নসে ব্যবসা ও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা টাইরেল-এর কাছে এই দৃশ্যমান উপস্থিতি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
বার্নার্ড জুনিয়রও নিজের এলাকা থেকে বহু দূরে এই পতাকাকে দেখতে পেয়েছেন। তিনি তার প্রামাণ্যচিত্র ক্যারিং দ্য ফ্ল্যাগ নিয়ে বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে গিয়েছেন এবং লন্ডন, প্যারিস ও নিউ ইয়র্কে অস্ট্রেলিয়ান এম্বেসীতেও এই পতাকা উড়তে দেখেছেন।
প্রতিবারই, তিনি বলেন, এটি তাকে থার্সডে আইল্যান্ড-এর সেই শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যখন তিনি তার বাবাকে প্রথম দিকের নকশাগুলো নিয়ে কাজ করতে দেখতেন।
বার্নার্ড জুনিয়র চান, শিশুরা যেন টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ফ্ল্যাগ-এর পেছনের গল্প জানতে জানতে বড় হয়। এ উদ্দেশ্যে তিনি টমাস মেয়োর সঙ্গে মিলে আওয়ার ফ্ল্যাগ, আওয়ার স্টোরি নামে একটি শিশুতোষ বই লিখেছেন, যার অলংকরণ করেছেন টোরি-জে মর্ডে।
আপনি যখন টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার ফ্ল্যাগ দেখেন, তখন আপনি আসলে ভূমি, সাগর ও মানুষের একটি জীবন্ত প্রতীক দেখছেন।
এটি এমন সব সংস্কৃতির প্রতিফলন, যা এখনও টরে' স্ট্রেইট, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে বিকশিত হচ্ছে ও টিকে আছে।
টাইরেলের কাছে এই পতাকা অতীত ও বর্তমানের গল্প বলে, একই সঙ্গে ভবিষ্যতের গল্পগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা জোগায়।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
এই লিঙ্কে ক্লিক করে নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
Read more about SBS’s use of AI





