অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ১৮ মিলিয়ন নাগরিক নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় একটি স্বাধীন সংস্থা নির্বাচনী ব্যবস্থা পরিচালনা করে। সমস্ত যোগ্য নাগরিক যেন আমাদের ফেডারেল সরকার গঠনে সহায়তা করার সুযোগ পায় এ ব্যাপারটি নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ান ইলেক্টোরাল কমিশন। অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ডের এই পর্বে আমরা জানব কীভাবে আসন্ন ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক
- আপনার নির্বাচনী এলাকা এবং ভোটকেন্দ্র খুঁজে পেতে সহায়তা করে AEC বা অস্ট্রেলিয়ান ইলেক্টোরাল কমিশন।
- নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন একাধিক উপায়ে ভোট দেয়া যায়।
- ভোট দেয়ার নিয়মাবলীর তথ্য একাধিক ভাষায় পাওয়া যায়।
- ভোট প্রদানে সহায়তা করার জন্য টেলিফোনে দোভাষী পরিষেবা সরবরাহ করে থাকে AEC.
নির্বাচনের দিন অস্ট্রেলিয়ান ইলেক্টোরাল কমিশন বা এইসি প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১০ লাখ ভোটার তাদের নির্বাচন কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোট দিবে বলে আশা করছে।
ভোটার তালিকায় নাম থাকলে আপনার জন্যে ভোটদান বাধ্যতামূলক। এইসির মুখপাত্র জেস লিলি বলেন, আপনাকে অবশ্যই আপনার নিজের ইলেক্টোরেট বা নির্বাচনী এলাকায় ভোট দিতে হবে।
এইসি কয়েক হাজার ভোটকেন্দ্র পরিচালনা করে থাকে। নির্বাচনের দিন স্থানীয় স্কুল এবং গির্জার হলগুলি সাধারণত ভোটকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়।
এইসি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান জানা যায়,
বলেন মিজ লিলি।
ভোটকেন্দ্রগুলিতে একাধিক ভাষায় নির্বাচন সম্পর্কিত নির্দেশাবলী এবং অন্যান্য সহায়তা পাওয়া যায়।
এইসি মুখপাত্র ইভান একিন-স্মিথ বলেন, এইসি ওয়েবসাইটে ভোটদান প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে সে-বিষয়ে আপনাকে গাইড করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য দেয়া রয়েছে।

এইসি মোবাইল ভোটিং দলগুলি আবাসিক কেয়ার হোম এবং প্রত্যন্ত কমিউনিটির মানুষদের কাছে গিয়ে ভোট সংগ্রহ করবে যেন কেউ বাদ না পড়ে।
যেসব ভোটার নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন না, তারা অন্য উপায়ে ভোট দিতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, সেদিন যদি আপনাকে বাড়ি থেকে দূরে কোথাও থাকতে হয়, কাজের জন্যে বা অন্য কোনো কারণে, তাদের জন্যে বিকল্প উপায় রয়েছে। যেমন, আগাম ভোট এবং পোস্টাল ভোট।
পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করতে হলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরে এইসি-র ওয়েবসাইটটি দেখুন।
আপনি যদি নির্বাচনের দিন অন্য স্টেটে অবস্থান করেন, তাহলে আপনি পোস্টাল ভোট ব্যবহার করতে পারেন অথবা যে কোনো একটি ইন্টারস্টেট ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন ভোট দেয়ার জন্যে।
আপনি দেশের বাইরে থাকলেও ভোট দিতে পারবেন।
আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন উপায় ভাল হবে সে-সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে এইসি-র ওয়েবসাইটে। সেখানে আরও রয়েছে ওভারসিজ নোটিফিকেশন ফর্ম। বিদেশে অবস্থিত অনেক অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনে গিয়েও ভোট দেয়ার ব্যবস্থা থাকে।

ভোটের দিন দেখা যায় রাজনৈতিক দলগুলি কেন্দ্রের বাইরে ভোট কীভাবে দিতে হবে সে-বিষয়ে নানা তথ্য বিতরণ করছে। তবে তাদের তথ্যে বিভ্রান্ত হবেন না, বলেন নির্বাচনী বিশ্লেষক উইলিয়াম বো।
মি. বো বলেন, ফেডারেল নির্বাচনে আপনি আপনার স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য ভোট দেবেন।
ভোট দেওয়ার সময় আপনাকে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে, একটি সবুজ এবং অন্যটি সাদা।
সবুজ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আপনি আপনার নির্বাচনী এলাকার একজনকে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যোগদানের জন্য ভোট দিতে পারবেন, যেটিকে আমরা সংসদের লোয়ার হাউস বলি।
লোয়ার হাউসে বর্তমানে ১৫০টি আসন রয়েছে, যা প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে। লোয়ার হাউসে বেশি আসন জিতে যারা সরকার গঠন করে, সেই দল বা জোটের নেতা হন প্রাইম মিনিস্টার।
সবুজ ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য আপনি আপনার পছন্দের প্রার্থীর পাশে '1' নম্বরটি লিখুন, তারপরে আপনার দ্বিতীয় পছন্দের পাশে '2' লিখুন, এভাবে সমস্ত বাক্স পূরণ করে ফেলুন।
সাদা ব্যালট পেপারে সিনেট বা আপার হাউসের ৭৬টি আসনের মধ্যে একটি নির্বাচন করতে হয়। আপনাকে নিজের স্টেট বা টেরিটরি থেকে একজন সিনেটর নির্বাচিত করতে ভোট দিতে হবে, তাই এই ভোট কিছুটা আলাদা, বলেন মি. বো।
সেই ব্যালট পেপার আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে, কারণ পুরো স্টেটের প্রতিটি প্রার্থীর নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই ভোটিং সিস্টেমকে বলা হয় 'প্রেফারেন্সিয়াল ভোটিং'। আপনার পছন্দ মত বাক্সগুলি নম্বর বসিয়ে দিলে ভোটের কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়।
কীভাবে প্রার্থীরা একটি আসনে জয়ী হন সে-ব্যাপারে মি. বো বলেন, জিততে হলে প্রার্থীকে অন্ততপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ ভোট পেতে হয়।

ভোটের নির্দেশাবলী সাবধানে অনুসরণ করতে ভুলবেন না। আপনার ব্যালট পেপারটি যদি সঠিকভাবে পূরণ না করা হয় তবে এটি একটি ‘ইনফরমাল ভোট' হয়ে যায় এবং এটি আর তখন গণনা করা হয় না, তাই নির্বাচনের ফলাফলেও এর কোনো ভূমিকা থাকে না।
ইনফরমাল ভোট অনেক কারণেই হতে পারে। যেমন, সংখ্যার পরিবর্তে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে বাক্সগুলি পূরণ করা বা ব্যালট পেপারে এমন কিছু লেখা যা আপনার পরিচয় সনাক্ত করতে পারে।
ভোটদান বাধ্যতামূলক।
ভোট না দেওয়ার বৈধ কারণ একমাত্র বিবেচনা করতে পারে নির্বাচন কমিশন, তারা আপনার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবে। উদাহরণস্বরূপ, এইসি জানে যে যারা বিদেশে আছেন তারা ভোট দিতে পারবেন না।
তবে ভোট দিতে ব্যর্থ হলে জরিমানা হতে পারে বলে জানান মি. একিন-স্মিথ।
তবে ভোট দিতে না পারলে আপনি আপনার নাগরিক অধিকার চর্চা থেকেও বঞ্চিত হবেন। তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভাল করে খোঁজখবর করুন এবং তারপরে ভোট দিতে যান।
আরও তথ্য জানতে দেখুন www.aec.gov.au অথবা কল করুন 13 23 26 এই নম্বরে।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।





