সুযোগ পেলে আবারও ব্রাজিলের সাও পাওলোতে যেতে চান মেলবোর্নের পাভেল সিদ্দিকী

মেলবোর্নের পাভেল সিদ্দিকী সম্প্রতি ঘুরে এলেন ব্রাজিল ও অ্যামাজনের জঙ্গল।

মেলবোর্নের পাভেল সিদ্দিকী সম্প্রতি ঘুরে এলেন ব্রাজিল ও অ্যামাজনের জঙ্গল। Credit: Pavel Siddique

মেলবোর্ন-নিবাসী পাভেল সিদ্দিকী ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়িয়ে সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পছন্দ করেন তিনি। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে গিয়ে বিখ্যাত অ্যামাজনের জঙ্গল ঘুরে এসেছেন পাভেল সিদ্দিকী। অস্ট্রেলিয়া থেকে দক্ষিণ আমেরিকা যাত্রা ও ভ্রমণের বিভিন্ন দিক নিয়ে এসবিএস বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এখানে থাকছে সাক্ষাৎকারের তৃতীয় ও শেষ পর্ব।


সাক্ষাৎকারটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারে ক্লিক করুন।

এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট

আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?

এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।

এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla

আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস

Read more about SBS’s use of AI

তারেক নূরুল হাসান: সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে গিয়ে বিখ্যাত অ্যামাজনের জঙ্গল ঘুরে এসেছেন মেলবোর্নের বাসিন্দা পাভেল সিদ্দিকী। অস্ট্রেলিয়া থেকে দক্ষিণ আমেরিকা যাত্রা ও ভ্রমণের বিভিন্ন দিক নিয়ে এসবিএস বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছি আমি তারেক নুরুল হাসান। আজ শুনবেন সাক্ষাৎকারের তৃতীয় ও শেষ পর্ব। [মিউজিক] আমরা আলাপ করছিলাম ডেড সাইজের কোকোনাটের ব্যাপারে। আপনি বলছিলেন যে, এটা একটা রহস্য আছে। আচ্ছা, রহস্যটা বলুন।

পাভেল সিদ্দিকী: রহস্যটা হচ্ছে, আমি জানিনা যে কিভাবে ওই গ্লো ওয়ার্ম যেটা জোনাকি পোকা বলে, জোনাকি পোকা ডিম পারে ওর মধ্যে। ডিম পারার পরে ওই কোকোনাট যখন পরিপূর্ণ হয় এবং ভেতরে ঢোকার কোন ওয়ে নাই, তো ওর ভিতরে লাভা তৈরি হয়। তো, লাভা, লাভাটা হচ্ছে এটা হচ্ছে খুব সুস্বাদু একটা খাবার। যে লোকজন যখন সারভাইভাল ইয়াতে চলে যায় তখন ওরা এটা ফাইন্ড আউট করে। আমি টেস্ট করে দেখেছি, খুব কেমন যেন লাগে। যে লাভাটা বিগ সাইজ লাইক এ ওয়ান ইঞ্চি বিগ সাইজ, এটা টেস্ট যদি বলি তাহলে আমি বলব যে ওয়ার্ম মিল্ক চকলেটের মতো। কোকোনাট মিল্ক চকলেট এর মতো টেস্ট, খুবই সুস্বাদু, ইটস ভেরি অ্যামেজিং!

তারেক নূরুল হাসান: আপনারা, আপনি যে বলেন যে, বিভিন্ন প্রাণী দেখেছেন এটা কি একটা এক্সিডেন্টাল দেখা নাকি একটা রিজার্ভের মধ্যে আপনাদেরকে নিয়ে গিয়েছিল যে, আপনারা বিভিন্ন রকম প্রাণী দেখেছেন সেখানে?

পাভেল সিদ্দিকী: ওদের একটা নির্দিষ্ট এরিয়া আছে। যেমন হচ্ছে যে, অ্যামাজন ফরেস্ট এরকম ডিজাইন যে, আপনি গেলে ইজিলি লস্ট হয়ে যাবেন। কারণ যেদিকে আপনি তাকান না কেন, আপনি মোর ওর লেস সেম, লুক লাইক সেম। একবার যদি, ইভেন আমাদের গাইড ছিল, বলে যে স্টে ক্লোজার, স্টে ক্লোজার। সো, ওদের একটা এরিয়া আছে, ওই এরিয়ার মধ্যে ওরা সম্ভবত টুরিস্টদেরকে নিয়ে যায় যেন টুরিস্টরা কোন, হ্যাঁ, কোন কোন রকম যেন ইয়া না হয়, এক্সিডেন্ট, এক্সিডেন্টে লস্ট না হয়ে যায়। কারণ লস্ট হয়ে গেলে ইটস হার্ড টু সারভাইভ, ইউ ডো নট হাউ টু কাম ব্যাক।

তারেক নূরুল হাসান: সব মিলে কত, কতদিন ছিলেন আপনারা এক্সপ্লোর করার জন্য অ্যামাজনে?

পাভেল সিদ্দিকী: অ্যামাজনে আমরা ছিলাম উইক এন্ড হাফ ইয়াতে ছিলাম। তবে আমার মনে হয় যে, সময়টা আরেকটু বাড়াতে পারলে ভালো হতো। যেহেতু আমাদের লিমিটেড টাইম ছিল, আমরা আরও অন্য কিছু এক্সপ্লোর করেছি। এ কারণে এই সময়টা, তো ওখানে যাবার আরও কিছু ইয়া আছে। যেমন, আমাদের সাথে আরেকজন সোহাatraী ছিল, সে একজন টেকনিশিয়ান। ফরেস্টের মধ্যে কোন ইলেকট্রিসিটি নাই, কোন ইন্টারনেট বা সবকিছু নাই। তো, ও হচ্ছে মেকানিক, ডিজেল মেকানিক। তো, ও এপ্লাই করেছিল জবের জন্য যে, সে ভলেন্টিয়ারি সে ডিজেল মেকানিক। যেহেতু ওখানে

ইয়ে করতে হয় আরকি, যে ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাইয়ের জন্য ও ইয়েতে, তো এটা ইয়ে করার জন্য এবং ও প্রায় একমাস থাকবে আরকি অ্যামাজন ফরেস্টের মধ্যে। অ্যালিগেশন দেখেছি আমরা এবং আমাদের গাইড রাত্রেবেলা ঘুটঘুটে অন্ধকার বনের মধ্যে গিয়ে অ্যালিগেশন ধরছি আমরা। ধরে আমরা সেটাকে সবাই ফিল করেছি, ছোট সাইজ যেহেতু ছিল। তারপর পিরানহা ফিশিং করেছি। পিরানহা জানেন তো, খুব ডেঞ্জারাস ফিশ ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। কেউ যদি ব্লিডিং অবস্থায় পানিতে পড়ে যায় তাহলে হার্ড টু সারভাইভ। তো অনেক রহস্য ছিল অ্যামাজন ফরেস্টে।

তারেক নূরুল হাসান: আচ্ছা।

পাভেল সিদ্দিকী: ব্রাজিলের কথা যদি আমি ধরি যে, অ্যামাজন ফরেস্টের কথা তো বললাম যে, ওখানে ফুড হ্যাবিটের কথা যেটা বলি যে, ম্যানাও সিটিতে ওদের ফুড হ্যাবিটটা একটু ডিফারেন্ট। আপনি যদি ডিফারেন্ট সিটিতে যান তাহলে দেখবেন যে, ওদের ডিফারেন্ট সিটিতে ডিফারেন্ট রকম ফুড হ্যাবিট। দ্যা স্যাং পলু যেটা কুইট বলব যে মর্ডান সিটি, আমার কাছে লাগছে যে এক্সাক্টলি লুক লাইক মেলবোর্ন, ভেরি ওয়াইট, নাইস এন্ড ক্লিন। ওখানে কফি কালচার, কফি কালচার আছে। আমি কফি শপে গিয়েছিলাম, আই হ্যাভ দ্যা সেম ফিলিংস অ্যাজ মেলবোর্ন। স্যাং পলুতে ফুড হ্যাবিট হচ্ছে ওরা মিক্সড ফুড খায়। যেমন ভেজিটেবল থেকে শুরু করে সবকিছুই ওরা কনজিউম করে। আবার ম্যানাও সিটিতে ধরেন যে, ব্রেকফাস্ট বা ইয়ে করে, ওদের দেখলাম যে ওদের পেস্ট্রি ফুডটা খুব পপুলার। সবকিছুতে পেস্ট্রি এবং ডোটা হচ্ছে কুইট র ইনসাইড এবং লোকজন কিন্তু অত হেলদি না। যেমন স্যাং পলু পিপল মোর হেলদিরা। ফিশ খোঁজার জন্য আমরা যেটিতে গিয়েছি যেখানে যেটিতে ওখানে অনেক ফিশ, অ্যামাজন রিভারের ফিশ আমরা করেছি, খুব সুন্দর। অ্যাসাই বেরি অ্যাভেইলেবল এভরিহোয়্যার। ওরা একটা স্মুথির মতো তৈরি করে, হট ওয়েদার অবভিয়াসলি এবং এটা ওরা সাইড ডিশ হিসেবে খায় যেকোনো কিছুর সাথে। ওর সাথে সল্ট কিংবা সুগার মিক্স করে জাস্ট ওরা কনজিউম করে। মানে ইটসেল্ফ কোন ইয়ে নাই, ফ্লেভার বা টেস্ট কিন্তু ওরকম নাই। ওরা ফ্লেভার বা টেস্ট মিক্স করে। তো এটা নরমালি ওরা করে। এটা সুপার ফুড, হাই ইন ফাইবার, এটা খুব ভালো ইয়ে আরকি।

তারেক নূরুল হাসান: তো সেখান থেকে ফিরে আসার পরে আপনার অনুভূতি কি? আপনি কি আবার যেতে চান অ্যামাজনে?

পাভেল সিদ্দিকী: অবশ্যই! [হাসি] আমার যদি, আমার যদি চান্স মিলে আমি ওয়ানা গো ব্যাক এগেইন এবং এই নেক্সট বারে গেলে অবশ্যই আমি লম্বা সময়ের জন্য যাব। স্যাং পলু সিটিটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আমি যদি বলি যে, ইফ থট কারণ মেলবোর্নে আমি খুব পছন্দ করি। মেলবোর্নে বসবাস করতেছি লাস্ট টুয়েন্টি ইয়ার্স। আমি যদি বলি যে, সেকেন্ড থট, ইফ ইউ ওয়ানা লিভ সামহোয়্যার ডেফিনেটলি স্যাং পলু সিটি ইন ব্রাজিল। খুবই নাইস, ওয়েদার ইজ নাইস, ভেরি স্টেডি। ওখানে জানেন, সেকেন্ড ওয়ারের পরে জাপান একটা সিটি আছে, ওভার টু মিলিয়ন জাপানিজ আর লিভিং ইন দ্য সিটি ফর লাস্ট আফটার সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার।

তারেক নূরুল হাসান: আচ্ছা, আর এখন ফিরে যাওয়ার কথা যেহেতু আসলো, অন্য কেউ যদি এখান থেকে যেতে চায় অ্যামাজন ঘুরতে যাওয়ার জন্য বা এক্সপ্লোর করতে যাওয়ার জন্য, আপনার পরামর্শ কি হবে তাদের জন্য?

পাভেল সিদ্দিকী: পরামর্শ হচ্ছে, প্রথমত আপনাকে ফিট হতে হবে। কারণ অসুখ বিসুখ, এনিওয়ান ক্যান গেট সিক। তো সিক যদি হয়ে যান তাহলে আপনার পুরা জিনিসটা ড্রপ হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে, ভ্যাকসিনের ব্যাপারটা। এখন ম্যান্ডেটরি না, বাট আমি স্ট্রংলি রিকমেন্ড করব যে, আপনার ভ্যাকসিনেশন টা যেন প্রপারলি থেকে যায় আরকি। নিয়ে যাওয়া ভালো বুকিং ইন অ্যাডভান্স, অ্যাট লিস্ট, অ্যাট লিস্ট এক বছর আগে থেকে প্ল্যান করেন যাওয়ার জন্য। টুয়েন্টি থার্টি পার্সেন্ট, ইটস নট এ চিপ জার্নি। সব মিলে কারণ সবকিছু ভেরি এক্সপেনসিভ। আমি হয়তো পরিমাণটা বলতে পারছি না, পার পারসন ইটস কুইট কস্টলি, গো এন্ড কাম ব্যাক। অনেক জিনিসপত্র নিয়ে আসা আছে, সুভেনিরস। স্পেশালি আমি কফি বিন্স নিয়ে আসছিলাম, অ্যামেজিং। ব্রাজিলের কফি বিখ্যাত, ব্রাজিলের নাট বিখ্যাত, কোকোা, এসাই বেরি, এসাই বেরি তো নিয়ে এসে কোন ইয়া নাই, বাট ইটস কুইট অ্যাভেইলেবল হিয়ার। এছাড়া আমি বলব যে, অ্যামেজিং পিপল। আরেকটা ব্যাপার যেটা আমি মেনশন করি নাই সেটা হচ্ছে যে, ট্রাভেলের ক্ষেত্রে কারণ আমরা যখন ট্রাভেল করি আমাদের, আমাদের সাথে এক্সেসরিজ থাকে। যেমন ক্যামেরা এক্সপেনসিভ, ক্যামেরা তারপরে ক্রেডিট কার্ড থাকে। এগুলো সাবধানে রাখা ভালো। কারণ আমি দেখেছি যে, লোকাল পিপল না কোয়াইট অ্যাংশাস অ্যাবাউট লাইক সিকিউরিটি। যে বলছে, তোমরা একলা একলা হেটো না, অন্য দিকে যেও না, জাস্ট ফলো দ্য মেইন রোড। চিন্তায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ, ব্যড পিপল অ্যান্ড গুড পিপল এভরিহোয়্যার, ইউ নো! আর অস্ট্রেলিয়ান ডলার এক্সচেঞ্জে যে আমরা অনেক সময় ট্রাভেল করি এশিয়াতে, সেখানে অস্ট্রেলিয়ান ডলার এক্সচেঞ্জ কিন্তু খুব ইজিলি পাওয়া যায়। সব জায়গাতেই মানি এক্সচেঞ্জ পাওয়া যায়। কিন্তু ওখানে কিন্তু এরকম ফ্যাসিলিটিস নাই। বেটার ইউ টেক দ্যা ট্রাভেল কার্ড, এটিএম মেশিন থেকে। কারণ অনেক অনেক ব্যাংক আছে যারা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাঞ্জিশন ছাড়া ট্রাভেল কার্ড ইয়ে করে, অফার করে। আমার মনে হয় যে, ওই ট্রাভেল কার্ড নিয়ে যাওয়া সব থেকে ভালো। তাছাড়া, উইল বি ইন এ বিগ ট্রাবল। কারণ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কোন জায়গাতে এক্সচেঞ্জ পাওয়া যায় না, স্পেশালি সাউথ আমেরিকাতে।

তারেক নূরুল হাসান: ঠিক আছে, আমরা আমাদের আলাপের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আপনার অ্যাডভেঞ্চারের গল্প এসবিএস বাংলার সাথে শেয়ার করার জন্য।

পাভেল সিদ্দিকী: থ্যাংক ইউ তারেক ভাই! আবার যদি চান্স হয় আবার কথা বলব অন্য এক বিষয় নিয়ে। আই হ্যাভ এ লিক টন্স অফ এক্সপেরিয়েন্স ইন অ্যাডভেঞ্চার। ধন্যবাদ তারেক ভাই।

END OF TRANSCRIPT

Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now