গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- বায়োব্লিটজ আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
- আগ্রহী যে কেউ বায়োব্লিটজের সাথে জড়িত হতে পারেন।
- বায়োব্লিটজের সময় সংগৃহীত তথ্য বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের ব্যবহারের জন্য একটি জীববৈচিত্র্য ডাটাবেজে আপলোড করা হয়।
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোন উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে তা জানতে বিজ্ঞানীরা সেখানে জরিপ ও গবেষণা পরিচালনা করেন।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়া অনেক বড় একটি দেশ, তাই নাগরিক বিজ্ঞান নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সহায়তায় বৈজ্ঞানিক তথ্য বা ডাটা সংগ্রহ এবং শ্রেণিবদ্ধ করতে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে সাধারণ জনগণের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পগুলি আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বাড়াতে এবং পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের আরও ভাল ধারণা অর্জন করতে সহায়তা করতে পারে, এবং এর মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি কী করে পরিবেশের আরও ভাল যত্ন নেয়া যায়।
বায়োব্লিটজ হচ্ছে একটি নাগরিক বিজ্ঞান কার্যক্রম যেখানে আগ্রহী জনগণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থানে কতগুলি উদ্ভিদ এবং প্রাণীর প্রজাতি রয়েছে সে তথ্য রেকর্ড করতে বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি অনুসন্ধানে অংশ নিয়ে থাকে।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূলে, সংরক্ষিত এলাকার পশুচিকিত্সক ডেভিড এডমন্ডস ওয়ালপোল নামক অঞ্চলে বসবাস করেন, যেখানে তিনি ওয়ালপোল ওয়াইল্ডারনেস বায়োব্লিটজ কার্যক্রমের সমন্বয় করে থাকেন।
ওয়ালপোল অঞ্চলের মতো, অস্ট্রেলিয়ায় আরও অনেক বিশাল অঞ্চল রয়েছে যেগুলি সম্পর্কে আমাদের এখনও অনেক কিছু জানা বাকি। বায়োব্লিটজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কম্যুনিটির মানুষেরা নিজেদের আরও কাছে আসতে পারে। এটি পরিবেশ সম্পর্কে নতুন তথ্য যোগায় যা বৈজ্ঞানিক কাজে অনেক বেশি সহায়তা করতে পারে।

আগ্রহী যে-কেউ এই বায়োব্লিটজ কার্যক্রমে জড়িত হতে পারেন, যেগুলি সাধারণত স্থানীয় সম্প্রদায়, সংরক্ষিত অঞ্চলের ব্যবস্থাপক, ল্যান্ডকেয়ার বা প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের সাথে যুক্ত মানুষদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাকৃতিক অঞ্চল চিহ্নিত করে যতটা সম্ভব সেখানকার জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত তথ্য নথিভুক্ত করে থাকে।
এই কাজে জড়িত হওয়ার জন্যে বাইরে ঘোরাঘুরিতে আগ্রহ থাকার পাশাপাশি আর যা প্রয়োজন তা হলো পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, গভীর কৌতূহল এবং একটি স্মার্টফোন।
বায়োব্লিটজে অংশ নেয়ার সময় সংগৃহীত তথ্য বিভিন্ন উপায়ে রেকর্ড করা যেতে পারে। সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ও সহজ পদ্ধতি হচ্ছে আইন্যাচারালিস্ট (iNaturalist) নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা।
বায়োব্লিটজের সময় আইন্যাচারালিস্ট সাইটে জমা দেওয়া তথ্যগুলি অ্যাটলাস অব লিভিং অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইট ডাটাবেজেও সংরক্ষিত হয়। এই জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত অনলাইন ডাটাবেজটি সবার বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত।

মেলিসা হাও একজন পরিবেশবিদ, যিনি ওয়ালপোল অঞ্চলের কাছাকাছি বসবাস করেন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানী, ভূমি সংরক্ষক, ট্র্যাডিশনাল কাস্টডিয়ান, আদিবাসী রেঞ্জার এবং কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কাজ করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন যে, পূর্ববর্তী ওয়ালপোল ওয়াইল্ডারনেস বায়োব্লিটজের সময়, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া মিউজিয়ামের বিজ্ঞানীরা যারা অমেরুদন্ডী প্রাণীদের সম্পর্কে গবেষণা করে থাকেন, যেমন- মাকড়সা, কৃমি এবং শামুকের মতো প্রাণীদেরও কীভাবে সেই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
বায়োব্লিটজ কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কাজে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
ডেভিড এডমন্ডসের মত মানুষদে্র জন্যে ওয়ালপোল অঞ্চলের মত এলাকায় বায়োব্লিটজ কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি স্থানীয় পরিবেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার একটি ধারণা দিতে পারে।

আর শুধু তাই নয়, তিনি মনে করেন এই কার্যক্রমের ফলাফল আরও গভীরও হতে পারে।
এভাবেই বিজ্ঞানী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে একত্রিত করে, একটি বায়োব্লিটজ কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভেতরে উদ্ভিদ এবং প্রাণীর প্রজাতিদের সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আরও বাড়িয়ে তোলে যা পরিবেশ ও প্রকৃতিরও অনেক কাজে আসে।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।







