'ওয়ান নেশন' (One Nation) এমন একটি নীতি প্রস্তাব করেছে যার মাধ্যমে বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটিয়ারা জরুরি বিল পরিশোধের জন্য তাদের সুপারঅ্যানুয়েশন তহবিলের (অবসরকালীন সঞ্চয়) একটি অংশ তুলে নিতে পারবেন।
সরকার সুপারঅ্যানুয়েশন তহবিলের একটি অংশ তুলে নেয়ার প্রস্তাব নাকচ করেছে; অন্যদিকে বিরোধী দল ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং সুদের হার আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
আবাসন সংক্রান্ত সংকট মোকাবেলায় 'ওয়ান নেশন'-এর এই বড় ধরনের প্রস্তাবের প্রভাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
দলের নেত্রী পলিন হ্যানসন বলেছেন, তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ভাড়াটিয়া এবং যারা গৃহঋণের (মর্টগেজ) কিস্তি পরিশোধ করছেন, তারা সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য তাদের সুপারঅ্যানুয়েশন তহবিলের তিন শতাংশ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলছেন, "এটি তাদেরই অর্থ, এটি সরকারের অর্থ নয়। যদি এর মাধ্যমে তারা মাথার ওপর ছাদ ধরে রাখতে পারেন বা নিজেদের বাড়িটি রক্ষা করতে পারেন, তবে তা গুরুত্বপূর্ণ।"
সরকার 'ওয়ান নেশন'-এর এই নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে; তাদের মতে, এর ফলে লক্ষ লক্ষ অস্ট্রেলীয় আরও দরিদ্র হয়ে পড়বেন এবং বিদ্যমান সুপারঅ্যানুয়েশন ব্যবস্থাটি ধ্বংস হয়ে যাবে।
বিরোধী দলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চান, যদিও আবাসন ও গৃহহীনতা বিষয়ক বিরোধী দলীয় ছায়া মন্ত্রী অ্যান্ড্রু ব্র্যাগ জানিয়েছেন যে, এর জবাবে কোয়ালিশন (বিরোধী জোট) তাদের নিজস্ব সুপারঅ্যানুয়েশন নীতিগুলো পর্যালোচনা করছে।
তিনি বলেন, গৃহঋণের বোঝা কমাতে সুপারঅ্যানুয়েশন তহবিল ব্যবহারের মতো বিকল্প ব্যবস্থাগুলো এমন অস্ট্রেলীয়দের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে যারা নিজস্ব বাড়ি ছাড়াই অবসরে যান।
সিনেটর ব্র্যাগের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী জিম চামার্স অভিযোগ করেছেন যে, কোয়ালিশন 'ওয়ান নেশন'-এর নীতিকেই অনুসরণ করছে।
লিবারেল সিনেটর পল স্কার বলেছেন, নীতিতে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে এবং কোয়ালিশন বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখছে; তবে যেকোনো সম্ভাব্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই অত্যন্ত জরুরি।
গ্রিনস দলের নেত্রী লারিসা ওয়াটার্স বলেছেন, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে অস্ট্রেলীয়দের তাদের সুপারঅ্যানুয়েশন তহবিলের সাথে আপস করতে বাধ্য করা উচিত নয়।
তবে 'ওয়ান নেশন'-এর অর্থ বিষয়ক মুখপাত্র বার্নাবি জয়েস তাদের অবস্থানে অনড় থেকেছেন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলীয়দের নিজেদের সঞ্চয় ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ এনেছেন।
'ওয়ান নেশন'-এর এই প্রস্তাব কার্যকর হলে, প্রায় ৯১,০০০ ডলার আয়কারী একজন পূর্ণকালীন কর্মী সপ্তাহে প্রায় ৪৪ ডলার তোলার সুযোগ পাবেন।
আর ১,৬৮,০০০ ডলার যৌথ আয়বিশিষ্ট একটি পরিবার সপ্তাহে প্রায় ৮২ ডলার ফেরত পেতে পারে।
এই প্রস্তাবটি ভাড়াটিয়া এবং বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, অর্থনীতিতে আরও অর্থপ্রবাহ বাড়ানো হলে তা মুদ্রাস্ফীতি উসকে দেবে। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে ঋণ পরিশোধের খরচ ও বাড়ি ভাড়া, উভয়ই বেড়ে যাবে।
'অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউট'-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ম্যাট গ্রুডনফ বলেন, এই নীতিটি শেষ পর্যন্ত জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
তিনি বলছেন, "এই নীতিটি জনপ্রিয় হতে পারে। বর্তমানে মানুষের প্রকৃত আয় (real wages) কমে যাচ্ছে। তারা আর্থিক সংকটের চাপ অনুভব করছে। দুর্ভাগ্যবশত, এই নীতিটি আসলে কোনো উপকারে আসবে না। তাই যদি এমনটা ঘটে, তবে রিজার্ভ ব্যাংক উদ্বিগ্ন হয়ে সুদের হার আরও বাড়িয়ে দেবে।"
তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে পরিবর্তন প্রয়োজন, তবে রাজনীতিবিদদের সমাধানের জন্য অন্য কোনো পথের সন্ধান করা উচিত।
দেশের সুপার ফান্ড সদস্যদের শীর্ষ সংগঠন 'সুপার মেম্বারস কাউন্সিল' (Super Members Council) বলছে, 'ওয়ান নেশন'-এর এই প্রস্তাবটি কেবল স্বল্পমেয়াদী একটি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে শুধু, তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী মিশা শুবার্ট বলেন, এই নীতির ফলে একজন সাধারণ অস্ট্রেলীয়র অবসরকালীন তহবিল থেকে হাজার হাজার ডলারের ক্ষতি হতে পারে।
তিনি বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সুবিধাবঞ্চিত বা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো এমন একটি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেবে, যার দিকে বিশ্বের অন্যান্য অনেক উন্নত দেশ এখন ঈর্ষার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
পুরো ফিচারটি শুনতে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
এই লিঙ্কে ক্লিক করে নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
Read more about SBS’s use of AI





