মূল বিষয়সমূহ
- অস্ট্রেলিয়া একটি মেগাডাইভার্স দেশ, এবং ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এখানে এমন বহু প্রজাতি রয়েছে যা পৃথিবীর আর কোথাও নেই।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিলুপ্তির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক: প্রায় ২,০০০–এর বেশি স্তন্যপায়ী, পাখি ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
- সংরক্ষণকারী সংস্থা ও প্রাকৃতিক ইতিহাসভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করার মাধ্যমে সবাই অস্ট্রেলিয়ার মূল্যবান প্রাকৃতিক প্রাণবৈচিত্র্য ও আবাসস্থল রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
একটি দ্বীপ-মহাদেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘকালীন বিচ্ছিন্ন অবস্থান এমন এক অসাধারণ প্রাকৃতিক জগৎ গড়ে তুলেছে, যার জীববৈচিত্র্য পৃথিবীর আর কোথাও নেই।
তবু এই বিস্ময়কর পরিবেশ এখন বিভিন্ন ধরনের চাপে রয়েছে। প্রায় ২,০০০–এর বেশি স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে—আর স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিলুপ্তির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ইতোমধ্যেই বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক।
অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদজগতের ওপর বহু ধরনের চাপ রয়েছে, তবে এই অনন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাস্তবধর্মী নানা উপায়ে সহায়তা করতে পারে মানুষ।
বায়োডাইভারসিটি কাউন্সিলের সহ-সভাপতি এবং বার্ডলাইফ অস্ট্রেলিয়া–এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক হিউ পসিংহ্যাম বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠ্যের অধিকারী।
“এটি আংশিকভাবে এই কারণে যে অস্ট্রেলিয়া খুব দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিচ্ছিন্ন মহাদেশ ছিল।"
অস্ট্রেলিয়া ৫ কোটিরও বেশি বছর আগে অন্যান্য মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
“আর উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের বহু মারসুপিয়াল—কোয়ালা, ক্যাঙ্গারু, ওম্ব্যাট, নামব্যাট—এবং ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন মনোট্রিম, প্ল্যাটিপাস ও একিডনা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।”

ইন্ডিজেনাস ডেজার্ট অ্যালায়েন্সের ইয়িলকা/নঙ্গানইয়াতজারা/নারুঙ্গা নারী জেড ব্রোমিলো বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠীর জন্য কান্ট্রি কেবল ভূমি নয়—এটি পরিবার, সংস্কৃতি ও পরিচয়।
“কান্ট্রি আমাদের গল্প, আমাদের ড্রিমিং, আমাদের পূর্বপুরুষদের ধারণ করে, এবং এই দায়িত্বগুলো বহন করে নিয়ে যাওয়া সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ।“
অস্ট্রেলিয়ার ফার্স্ট নেশনস জনগণ হাজার হাজার বছর ধরে এই প্রজাতিগুলোর সঙ্গে সহাবস্থান করেছে, ভূমি ও তার ছন্দ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান আহরণ করেছে।
“ওরা কখন চলাচল করে, কখন প্রজনন করে, কখন ভালোভাবে টিকে থাকে, আর কখন কিছু ঠিক নেই—এই ধরণগুলো আমরা বুঝি।“

অধ্যাপক পসিংহ্যাম বলেন,
অস্ট্রেলিয়ার অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ শুধু আমাদের চারপাশে থাকা বন্যপ্রাণ ও উদ্ভিদ প্রজাতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সব অস্ট্রেলিয়ানের স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্যও জরুরি।
“সুস্থ ইকোসিস্টেম—বন, হ্রদ, তৃণভূমি—এসবই মানবজাতির জন্য নানা সেবা দেয়। এগুলো বিশুদ্ধ বায়ু দেয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমায়, এবং আমাদের কিছু প্রধান শিল্পের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে—যেমন পর্যটন ও কৃষি।“
ঝুঁকিতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণ প্রজাতিগুলোর একটি হলো গ্রেট ডেজার্ট স্কিঙ্ক, যা ইন্ডিজেনাস জনগণের কাছে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেমনটি মিজ ব্রোমিলো বলেছেন। ।
“গ্রেট ডেজার্ট স্কিঙ্ক বা ত্যকুরা হলো ছোট একটি কমলা রঙের টিকটিকি, যা মাটির নিচে পারিবারিক গর্ত-ব্যবস্থায় বাস করে।“

কোনো প্রজাতি যখন বিলুপ্ত হয়ে যায়, তা শুধু পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হয় না, বরং এটি একধরনের সাংস্কৃতিক ক্ষতি।
“সেই প্রজাতিগুলোর সঙ্গে যুক্ত জ্ঞান ম্লান হয়ে যাবে। গল্প, চর্চা এবং সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়বে। মরুভূমিতে একটি কথা আছে: কান্ট্রি সুস্থ থাকলে মানুষও সুস্থ থাকে।“
অস্ট্রেলিয়া এখন এক গুরুতর জীববৈচিত্র্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিলুপ্তির হার।
অধ্যাপক পসিংহ্যাম বলেন, শিয়াল ও বুনো বিড়ালের মতো আগ্রাসী শিকারি প্রাণীর প্রভাব, আবাসস্থল ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তন এর প্রধান কারণ।
কিথ ব্র্যাডবি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষণ সংস্থা গোন্ডোয়ানা লিংক লিমিটেড–এর প্রধান, যারা রাজ্যেরদক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি আবাসস্থল পুনঃসংযোগে কাজ করছে।
“এটি এক ট্র্যাজেডি যে আমার সন্তানরা সেই পুরোনো মানুষদের মতো ক্যাম্প করতে পারে না, যাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, এবং যাদের ক্যাম্পফায়ারের চারপাশে একসময় প্রচুর বন্যপ্রাণীর চোখের বৃত্ত দেখা যেত।“
অধ্যাপক পসিংহ্যাম বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় জীববৈচিত্র্য হারানোর পেছনে তিনটি বড় হুমকি কাজ করছে, যার শুরু হচ্ছে নগর উন্নয়ন ও কৃষির জন্য আবাসস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে।

জলবায়ু পরিবর্তনও অস্ট্রেলিয়ার জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি।
মি. ব্র্যাডবি বলেন, আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য হুমকির সম্মিলিত প্রভাব বহু অস্ট্রেলিয়ান বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতিকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।
অধ্যাপক পসিংহ্যাম বলেন, কিন্তু আমরা চাইলে সবাই মিলে অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণ ও উদ্ভিদ রক্ষায় সাহায্য করতে পারি।
“আপনি চাইলে আপনার এলাকায় কোনো সংরক্ষণ গোষ্ঠী বা স্থানীয় গ্রুপে যোগ দিতে পারেন, এমনকি নিজের বাগানেও যেখানে ফাঁকা জায়গা আছে সেখানে দেশীয় গাছ ও ঝোপ লাগাতে পারেন।“
স্থানীয় কমিউনিটি গ্রুপ বা পরিবেশবিষয়ক অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে মানুষের সংরক্ষণ কাজে যুক্ত হওয়ার বহু উপায় রয়েছে, বলেন মি. ব্র্যাডবি।
মিজ ব্রোমিলো বলেন, মানুষ যে কান্ট্রিতে বাস করে, তার যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব সবারই ভাগ করে নেওয়া উচিত।
আরও তথ্যের জন্য দেখুন:
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।









