মূল বিষয়সমূহ
- অনুষ্ঠানের পরিবেশ নির্ধারণ করে দিতে সাহায্য করে ড্রেস কোড।
- ড্রেস কোডের ব্যাপারে অনিশ্চিত হলে হোস্ট বা আয়োজককে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভালো।
- অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত সবচেয়ে প্রচলিত আনুষ্ঠানিক ড্রেস কোড হলো ‘ব্ল্যাক টাই’।
- ‘ক্যাজুয়াল’ পোশাকের মূল হলো বৈচিত্র্য বা কনট্রাস্ট, যেখানে ডেনিম পরিধানও গ্রহণযোগ্য।
প্রায়ই দেখা যায় কোনও পার্টি বা অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণপত্রে ড্রেস কোডের উল্লেখ থাকে। সেখানে লেখা থাকতে পারে ‘Black tie’ বা ‘Smart casual’।
ড্রেস কোড মূলত হোস্ট বা আয়োজকদের প্রত্যাশা বুঝতে সাহায্য করে এবং অনুষ্ঠানের পরিবেশ বা গুরুত্ব ঠিক করে দেয়। কারণ, যেটিকে আমরা অত্যধিক সাজসজ্জা মনে করি, অন্য কারও চোখে সেটাই আবার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সাজও মনে হতে পারে।
তাই যেকোনো আয়োজনে যাওয়ার আগে একটু খোঁজখবর নেওয়া জরুরি— বিশেষ করে যখন কোনও ড্রেস কোড উল্লেখ থাকে না।
আর যখন কী পরা উচিত তা নিয়ে আমরা অনিশ্চিত থাকি, সেটা আয়োজককে জিজ্ঞেস করতে লজ্জা নেই বলেই জানাচ্ছেন ফ্যাশন লেবেল মাস্তানির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, কুদরাত মাক্কার।
আমি এটা কষ্ট করেই শিখেছি। আমি মনে করি ভারতীয় পটভূমি থেকে আসায়, ঐতিহাসিকভাবে আমরা বিয়েতে অতিরিক্ত সাজগোজ করেই যাই, কিন্তু সেটা করি কারণ সবাই অতিরিক্তই সাজে। তাই আমাদের মনে হয় না যে আমরা বেশি সাজছি। কিন্তু আমি মনে করি অস্ট্রেলিয়ায় স্বভাবগতভাবে সবাই তুলনামূলকভাবে কম সাজে।কুদরাত মাক্কার
এ কারণেই ড্রেস কোডের প্রয়োজন হয়।
একটি সহজ দরকারি তথ্য
তবে সবচেয়ে প্রচলিত ড্রেস কোডগুলো সম্পর্কে জানার আগে আমরা মেলবোর্নের সুপরিচিত টেইলর জোশুয়া টন-এর বক্তব্য মাথায় রাখতে পারি।
তিনি বলেন, ড্রেস কোড সম্পর্কে কিছুই জানা না থাকলেও কিছু সাধারণ নিয়ম আমরা মেনে চলতে পারি।
মেলবোর্নভিত্তিক পার্সোনাল স্টাইলিস্ট লিসা স্টকম্যান মানুষকে ফ্যাশন ও পোশাক–পরিচ্ছদ নিয়ে পরামর্শ দেন—আর ড্রেস কোড নিয়েও তাঁর পরিষ্কার ধারণা আছে।
সাধারন ড্রেস কোডগুলো যেমন
পার্সোনাল স্টাইলিস্ট লিসা স্টকম্যান বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত সবচেয়ে আনুষ্ঠানিক ড্রেস কোড যেটি দেখা যায় তা হলো ‘ব্ল্যাক টাই’।
এটি একটি মার্জিত ও পরিশীলিত পোশাকবিধি, যা বিয়ে, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান এবং দাতব্য গালা ইভেন্টে জনপ্রিয়।
এর পরেই আসে ‘ফরমাল’, যাকে অনেক সময় ‘ব্ল্যাক টাই অপশনাল’ও বলা হয়।
এটি ব্ল্যাক টাই-এর তুলনায় বেশ নমনীয় একটা বিধি, তবে এর ব্যাখ্যা কিছুটা অনির্দিষ্ট হওয়ায় অনেক সময় একটু অস্পষ্ট লাগে। বিয়ে, আনুষ্ঠানিক ডিনার এবং কর্পোরেট ইভেন্টে এই পোশাকবিধি বেশ প্রচলিত।

পুরুষদের জন্য—একটি স্যুট এবং কলার দেওয়া শার্টকে উপযুক্ত পোশাক হিসেবে ধরা হয়, বলেন মিজ স্টকম্যান।
‘ককটেল’ এবং ‘সেমি-ফরমাল’—এই দুই ধরনের পোশাকবিধি বেশ পরিচিত, বিশেষ করে বিয়ে, ককটেল পার্টি, এনগেজমেন্ট, অফিস ফাংশন আর বড় আকারের জন্মদিনের মতো অনুষ্ঠানে।
সেমি-ফরমাল ধরা হয় একটু সংযত ও ক্লাসিক ধাঁচের, আর ককটেল স্টাইলে সাধারণত আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবের ছোঁয়া থাকে।
সেমি-ফরমালের তুলনায় ককটেল পোশাকবিধি একটু বেশি আনন্দ ও উচ্ছলতা প্রকাশ করে—এবং ব্যক্তিত্ব প্রকাশের দারুণ সুযোগ করে দেয়।
তবে পোশাকের সংগ্রহ কম হলে বা কী পরবেন বুঝে না উঠতে পারলে, জোশুয়া টন মনে করেন—একটি ভালো মানের স্যুটই বেশির ভাগ ফরমাল ড্রেস কোডে নিরাপদভাবে মানিয়ে যায়।
গয়না, টাই বা পকেট স্কোয়ারের মতো অ্যাক্সেসরিজ সহজেই আপনার পোশাককে আরও ফরমাল মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।
এর চেয়েও কম আনুষ্ঠানিক হলো ‘স্মার্ট ক্যাজুয়াল’। লিসা স্টকমানের মতে, এই ড্রেস কোডটা একটু অস্পষ্ট—কারণ এটি দৈনন্দিন পোশাক (যেমন পার্কে গেলে যা পরতেন) এবং আরও ফরমাল কোনো কিছু—এই দুইয়ের মাঝামাঝি জায়গায় পড়ে।

সবশেষে আছে ‘ক্যাজুয়াল অ্যাটায়ার’, যা সব ড্রেস কোডের মধ্যে সবচেয়ে অনানুষ্ঠানিক।
এখানে অনুষ্ঠানের উপলক্ষ্যটাই মুখ্য—এটা কি অফিসের কোনও স্বাভাবিক দিন, নাকি বন্ধুদের সাথে বারবিকিউ? উপলক্ষ্য অনুযায়ী পোশাকই ঠিক করে দেয় আপনি ঠিকমতো মানিয়ে যাবেন কি না।

জোশুয়া টন ক্যাজুয়াল বা তার ব্যক্তিগত পছন্দের সেমি-ক্যাজুয়াল পোশাকবিধিতে একটি সহজ নিয়ম মেনে চলতে পছন্দ করেন—যত কম ফরমাল অনুষ্ঠান, তত বেশি বৈচিত্র্য বা কনট্রাস্ট আমাদের পোশাকে আনা যায়।

আমরা “অড স্যুট” বলি এমন পোশাকগুলোকে, যেমন: স্পোর্টস জ্যাকেট, আলাদা প্যান্ট—মানে কাপড় বা ফ্যাব্রিক মিলছে না এমন পোশাকের সংমিশ্রণ।জোশুয়া টন
পোশাকে আপনার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাইলে
আপনি যদি আপনার পোশাকে আপনার সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে চান, তাহলে কী করবেন?
কুদরাত মাক্কার বলেন, সংস্কৃতি প্রকাশ করার মানে এই নয় যে আপনাকে অবশ্যই ট্র্যাডিশনাল কোনো পোশাক পরতে হবে। বরং, ছোট ছোট কিছু জিনিস ব্যবহার করেই আপনি এটি করতে পারেন।

যদি আপনি ড্রেস কোড মেনে চলতে না পারেন
স্বভাবতই যদি আপনি ড্রেস কোড মেনে চলতে না পারেন, তাতে করে দুনিয়া উলটে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
সব শেষে জোশুয়া টন জোর দিয়ে বলেন, আমন্ত্রণ পেয়ে সেটায় সাড়া দিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেই আয়োজক আপনার কদর করবেন।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।
ফিচারটি শুনতে ক্লিক করুন উপরের অডিও প্লেয়ারে।
নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে।
এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন।
ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।










