মূল বিষয়
- জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের কথা মাথায় রেখে সরকারী সাহায্যের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
- সেন্টারলিংকের মতো বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করে সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া।
- এই পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা নির্ণয়ে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয়, এবং অপেক্ষার সময় ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন হয়ে থাকে।
- প্রোটেকশন অথবা হিউম্যানিটারিয়ান ভিসার অধিকারীরা অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের মতই আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন।
জীবনের কোনও না কোনও পর্যায়ে এসে প্রায় সকলেই সম্ভবত কোনও এক ধরনের সরকারী সহায়তা পাওয়ার জন্য যোগ্য হয়ে থাকেন।
হ্যাঙ্ক ইয়নজেন সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। এই সংস্থাটি সরকারের পক্ষ থেকে যোগ্য অস্ট্রেলিয়ানদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।
তিনি বলেন, সরকারী সাহায্য পেতে অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্যতার নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, আপনাকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

যোগ্যতা মূল্যায়ন করার সময় আপনার আয় ও ব্যয়, সম্পদের পরিমাণ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সমস্ত তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং তার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় আপনার প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ।
সরকারী বিভিন্ন সহায়তা সম্পর্কে তথ্য সহজে খুঁজে পেতে সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে এ সম্পর্কিত সকল তথ্য নথিবদ্ধ করে রেখেছে।
মি. ইয়নজেন বলেন, আপনি কী খুঁজছেন তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন নয়।
servicesaustralia.gov.au নামের সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইট ভিজিট করলে সেখান থেকে সরাসরি 'লাইফ ইভেন্ট' ক্যাটাগরি খুঁজে পাওয়া যায়।
সেন্টারলিংকের মাধ্যমে বিতরণ করা কিছু সাধারণ পেমেন্টের অন্যতম হচ্ছে জবসিকার পেমেন্ট।

মি. ইয়নজেন বলেন,
হতে পারে আপনি সত্যিই কাজ খুঁজছেন কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেন না। সে-ক্ষেত্রে আপনি জবসিকার পেমেন্টের জন্য যোগ্য হতে পারেন।
সরকারী সহায়তা প্রদানের হার নির্ভর করে যে আপনি অবিবাহিত বা কারও পার্টনার কিনা, অর্থাৎ যারা বিবাহিত বা ডি ফ্যাক্টো সম্পর্কের মধ্যে বাস করছেন, তারা - এবং আপনার সন্তান আছে কিনা তার ওপরে।
ইয়ুথ অ্যালাওয়েন্স হচ্ছে আরেক ধরনের পেমেন্ট যা ২৪ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী এবং যারা ফুল-টাইম পড়াশোনা করছেন বা শিক্ষানবিশ, অথবা ২২ বছরের কম বয়সী এবং কাজ খুঁজছেন এমন ব্যক্তিরা পেয়ে থাকেন।
অস্টাডি হচ্ছে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সের পূর্ণ-কালীন শিক্ষার্থীদের সমর্থন করার জন্য একটি আলাদা রকমের সহায়তা।
আবার হতে পারে আপনার একটি পরিবার রয়েছে এবং আপনি স্বল্প আয়ের উপর নির্ভর করেন। সে-ক্ষেত্রে ফ্যামিলি ট্যাক্স বেনিফিট নামে পরিচিত প্রকল্পের মাধ্যমে আপনি সরকারী সহায়তা পেতে পারেন।
মি. ইয়নজেন ব্যাখ্যা করে বলেন, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের মানুষের জন্যেই সরকারী সহায়তা রয়েছে।
এইজ পেনশন প্রকল্পের মাধ্যমে অবসর নেয়ার বয়সে পৌঁছে যাওয়া মানুষদের সহায়তা দেয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় ৬৭ বছর বা তার বেশি বয়সীরা সাধারণত অবসরে যেতে পারেন।

অবিবাহিত ব্যক্তি এবং দম্পতিদের জন্য অর্থ প্রদানের হার আলাদা হয়ে থাকে।
যাদের এখনও কাজ করার বয়স রয়েছে, কিন্তু শারীরিক সমস্যা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে যারা কাজ করতে পারেন না, তাদের জন্যেও সরকারী সহায়তা রয়েছে। এ সহায়তা পেতে হলে নিয়ম অনুসারে আবেদন করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, সরকার তখন ডিজেবিলিটি সাপোর্ট পেনশনের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে।
ডিজেবিলিটি সাপোর্ট পেনশনের সাথে সম্পর্কিত আরেকটি হলো কেয়ারার পেমেন্ট। এটি তাদেরকে সহায়তা দেয় যারা গুরুতর অক্ষমতা বা অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির পূর্ণ-কালীন যত্ন নিয়ে থাকে।
একটি অতিরিক্ত কেয়ারার অ্যালাওয়েন্স ওষুধ কিনতে বা কাউকে মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্টে নিয়ে যাওয়ার খরচ বহন করতে সহায়তা করে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দারা সেন্টারলিংকের মাধ্যমে এই পেমেন্টের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে নবাগত বাসিন্দাদের জন্যে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে যা নিউলি অ্যারাইভড রেসিডেন্ট’স ওয়েটিং পিরিয়ড হিসেবে পরিচিত। এর আওতায় নতুন বাসিন্দাদের সেন্টারলিংক পেমেন্ট পাওয়ার আগে চার বছর পর্যন্তও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার রিফিউজি কাউন্সিলের সিনিয়র পলিসি অফিসার শাহীন হোয়াইট বলেন, আরও কিছু ভিসা ক্যাটাগরির ব্যক্তিরাও সরকারী সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।
অ্যাসাইলাম সিকার বা আশ্রয়প্রার্থী ব্যক্তিদের কেউ কেউ স্ট্যাটাস রেজোলিউশন সাপোর্ট সার্ভিসেস বা এসআরএসএস-এর মাধ্যমে সহায়তা পেতে পারেন। এটি সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রোগ্রাম যা আশ্রয়প্রার্থী ব্যক্তি এবং ভিসার আবেদন করে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সহায়তা করে।
মি. হোয়াইট ব্যাখ্যা করে বলেন, এটি মূলত মৌলিক চাহিদা মেটাতে ন্যূনতম সহায়তার নিশ্চয়তা দেয়।
সহায়তা পাওয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে এবং যদি আপনি অপেক্ষার সময়সীমাও পূরণ করেন, তারপরে আপনার প্রাপ্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আপনার ব্যক্তিগত এবং আর্থিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
আপনি কী পরিমাণ সহায়তা পেতে পারেন তা জানতে সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। এই ওয়েবসাইটটি আপনাকে বর্তমানে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বা হার এবং অপেক্ষার সময়কাল সম্পর্কে নির্দেশনা দিবে।
আপনি যদি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় এসে থাকেন তবে অভিবাসী, শরণার্থী, নতুন আগত বাসিন্দা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য তথ্য পেতে ওয়েবসাইটে গিয়ে 'মুভিং টু অস্ট্রেলিয়া' খুঁজে দেখুন।
মি. ইয়নজেন বলেন,
আপনি আপনার নিজের ভাষায়ও তথ্য অনুসন্ধান করতে পারেন।
13 12 02 নম্বরে কল করলে বা সশরীরে গেলে সেন্টারলিংক অফিস প্রয়োজনে আপনার জন্যে ইন্টারপ্রেটারের ব্যবস্থা করে দিবে, যিনি আপনার ভাষায় কথা বলবেন।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।








