আন্তরিকভাবে কোনও মহৎ কাজে বা উদ্দেশ্যে সাহায্য করতে পারা খুবই তৃপ্তিদায়ক হতে পারে। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন কোনো তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ সত্যিই বৈধ কিনা? আর আপনি নিজে যদি তহবিল সংগ্রহ করতে চান, তাহলে কীভাবে শুরু করবেন?
মূল বিষয়
- অস্ট্রেলিয়ায় কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করা যাবে, সে-সংক্রান্ত নিয়ম প্রতিটি স্টেট ও টেরিটরিতে ভিন্ন হতে পারে।
- তহবিল সংগ্রহের নামে প্রতারণা এড়াতে অনুদান দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দাতব্য সংস্থার পরিচয় ও বৈধতা যাচাই করুন। সন্দেহ হলে অনুদান দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- ছোট পরিসরের তহবিল সংগ্রহ এবং অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও তহবিল সংগ্রহ-সংক্রান্ত আইন ও লাইসেন্সের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আপনার ক্ষেত্রে কোন নিয়মগুলো প্রযোজ্য, তা আগে জেনে নেওয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ড সিরিজের এই পর্বে আমরা জানতে পারব, এ দেশে তহবিল সংগ্রহের নিয়মগুলো কী কী। আপনি যদি কোনো দাতব্য উদ্দেশ্যে অনুদান দিতে চান বা নিজেই অর্থ সংগ্রহ করতে চান, তাহলে এই তথ্যগুলো আপনার কাজে আসবে।
অস্ট্রেলিয়ায় তহবিল সংগ্রহের আইনগুলো বোঝা কিছুটা জটিল হতে পারে। কারণ, প্রতিটি স্টেট ও টেরিটরির নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ-সংক্রান্ত আইন রয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের অনুমোদন এবং অস্ট্রেলিয়ান কনজ্যুমার আইন ও গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইনের মতো অন্যান্য আইনও তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান চ্যারিটিজ অ্যান্ড নট-ফর-প্রফিটস কমিশন (ACNC) হলো অস্ট্রেলিয়ার দাতব্য সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থাগুলো যেন বৈধভাবে পরিচালিত হয় এবং তাদের দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করে, তা নিশ্চিত করাই তাদের কাজ।
তবে কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ACNC-এর সরাসরি কোনো তদারকি নেই। এটি প্রতিটি স্টেট বা টেরিটরির দায়িত্ব।
ACNC-এর কমিশনার সু উডওয়ার্ড এ ব্যাপারে বলেন,
আমাদের মূল কাজ হচ্ছে দাতব্য সংস্থাগুলোকে নিবন্ধিত করা এবং তারা যেন নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করে তা নিশ্চিত করা।
তবে ACNC-তে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু কোনো দাতব্য সংস্থা যদি সেখানে নিবন্ধিত থাকে, তাহলে বোঝা যায় যে সংস্থাটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে এবং সুশাসনের মানদণ্ড মেনে চলছে।
কমিশনার উডওয়ার্ড বলেন,
কোনো সংস্থা নিবন্ধিত থাকলে তার তথ্য যাচাই করা সহজ হয়।
সব নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা কিন্তু অনুদানের বিপরীতে কর-ছাড়যোগ্য রসিদ দিতে পারে না।
জাস্টিস কানেক্টের নট-ফর-প্রফিট ল’ সার্ভিসের আইনজীবী অ্যামি উইলিয়ামস বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো অনুদান তখনই কর-ছাড় পায় যখন সেটি এমন কোনো সংস্থাকে দেওয়া হয় যাদের ATO কর্তৃক ডিডাক্টেবল গিফট রিসিপিয়েন্ট স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে।

কোনো দাতব্য সংস্থার তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে আপনার উদ্বেগ থাকলে, আপনি আপনার স্টেট বা টেরিটরির সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ করতে পারেন।
কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ACNC-ও হস্তক্ষেপ করতে পারে। যেমন, কোনো সংস্থা সংগৃহীত সব অর্থের সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে ACNC এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে পারে।
ACNC-তে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগই তদন্ত করা হয়। তবে অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা ছাড়া তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সাধারণত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয় না।
কমিশনার উডওয়ার্ড আরও বলেন,
যে কোনও অভিযোগ করার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে ফরম দেওয়া আছে।
আপনার যদি মনে হয় কোনো তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ প্রতারণামূলক, তাহলে সেখানে অনুদান দেবেন না। বিষয়টি আপনার স্টেট বা টেরিটরির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অথবা জাতীয় Scamwatch সেবায় scamwatch.gov.au ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানাতে পারেন।
অনলাইনে অনুদান দেওয়ার সময় অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আছেন। তাড়াহুড়া করবেন না, সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না এবং তহবিল সংগ্রহকারীর পরিচয় যাচাই করে নিন।
কিন্তু যদি কেউ সরাসরি এসে অনুদান চান, তখন কী করবেন?
পিটার হিলস-জোনস পাবলিক ফান্ডরেইজিং রেগুলেটরি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এটি অস্ট্রেলিয়ায় সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহকারী দাতব্য সংস্থা ও এজেন্সিগুলোর একটি সংগঠন।
সরাসরি তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতারণার কিছু সতর্কসংকেত তিনি তুলে ধরছেন। যেমন, সাহায্য চাইতে আসা ব্যক্তি যদি ইউনিফর্ম পরা না থাকে, বা কোনো ফটো আইডি দেখাতে না পারে,অথবা যদি এককালীন বা শুধু ক্যাশ ডোনেশন চায়, তাহলে সতর্ক হয়ে যেতে হবে।
তহবিল সংগ্রহ-সংক্রান্ত আইন এবং আপনার স্টেট বা টেরিটরির সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য জানতে নিচের লিংকগুলো দেখুন:
- Australian Capital Territory
- New South Wales
- Northern Territory
- Queensland
- South Australia
- Tasmania
- Victoria
- Western Australia

সরাসরি তহবিল সংগ্রহের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে: রাস্তায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং শপিং সেন্টারের ভেতরে।
এ ধরনের তহবিল সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে আপনি কিছু নির্দিষ্ট আচরণ আশা করতে পারেন।
মি. হিলস-জোনস এ রকম কয়েকটি উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, তাদের খুবই ভদ্র আচরণ করতে হবে, বিরক্তিকরভাবে ডোনেশন চাইবে না। সবচেয়ে বড় কথা, অনুদানের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এবার ধরুন, আপনি নিজেই কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ করতে চান।
জাস্টিস কানেক্টের অ্যামি উইলিয়ামস বলছেন, সবার আগে আপনার স্টেট বা টেরিটরির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নেওয়া উচিত, আপনার লাইসেন্স লাগবে কি না এবং কোন নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।
তবে তিনি যোগ করেন,
ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পরিচিতজনদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ সাধারণত তহবিল সংগ্রহ-সংক্রান্ত আইনের আওতায় পড়ে না।

আপনি যদি অনলাইনে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন, তাহলে খুব সম্ভবত সেটি নিয়ন্ত্রিত তহবিল সংগ্রহের আওতায় পড়বে।
অ্যামি উইলিয়ামস অনলাইন তহবিল সংগ্রহের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
প্রথমত, এগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টেট ও টেরিটরির আলাদা আইন প্রযোজ্য হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সংগৃহীত অর্থ কোথায় ব্যয় হবে, অর্থাৎ তহবিল সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে দাতারা বিভ্রান্ত না হন।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।





