মূল বিষয়
- গবেষণা বলছে, তরুণদের ক্ষেত্রে মদ্যপান শুরু করার বয়স যত দেরিতে হয়, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত পান করার সম্ভাবনা তত কমে।
- অস্ট্রেলিয়ায় অ্যালকোহলবিষয়ক আইনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ, ‘সেকেন্ডারি সাপ্লাই’ আইন, এবং নির্দিষ্ট পাবলিক স্থানে মদ্যপানের উপর নিষেধাজ্ঞা।
- অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতিতে কারও বাসায় নিমন্ত্রণ থাকলে নিজে মদ নিয়ে যাওয়া (BYO) প্রত্যাশিত আচরণ, তবে বার বা রেস্টুরেন্টে 'শাউট'-এর মাধ্যমে পালা করে মদ কেনা খুব সাধারণ রীতি।
অস্ট্রেলিয়ায় মদ্যপান নিয়ে সরকারি নীতিমালা রয়েছে যা বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য—মদ্যপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো।
এই নির্দেশিকা অনুসারে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সপ্তাহে ১০টি স্ট্যান্ডার্ড ড্রিঙ্কের বেশি এবং দিনে ৪টি স্ট্যান্ডার্ড ড্রিঙ্কের বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে বার্তাটি পরিষ্কার: “আপনি যত কম পান করবেন, ক্ষতির ঝুঁকি তত কম হবে।”
অস্ট্রেলিয়ায় একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড ড্রিঙ্ক’ বলতে বোঝায় ১০ গ্রাম বিশুদ্ধ অ্যালকোহলবিশিষ্ট পানীয়—যেমন একটি ছোট বিয়ার, এক গ্লাস ওয়াইন বা একটি স্পিরিট শট। তবে মনে রাখতে হবে—অনেক পানীয়েই একের বেশি স্ট্যান্ডার্ড ড্রিঙ্ক-এর সমপরিমাণ অ্যালকোহল থাকে।

FARE বা ফাউন্ডেশন ফর অ্যালকোহল রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন-এর হেলথ প্রোগ্রামস ডিরেক্টর ক্রিস্টি কোকোটিস বলেন, “যারা এই নির্দেশিকা অনুসরণ করেন, তাদের অ্যালকোহলজনিত রোগ বা দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সম্ভাবনা একশ জনে এক জনেরও কম। তবে ঝুঁকি একেবারে নেই তা নয়।”

অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে—প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন সুপারিশকৃত সীমার চেয়ে বেশি মদ পান করেন।
লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ফেলো এবং সেন্টার ফর অ্যালকোহল পলিসি রিসার্চ-এর ডেপুটি ডিরেক্টর হচ্ছেন অ্যামি পেনেই। তিনি বলেন,
অনেক অস্ট্রেলিয়ানের কাছে মদ্যপান কিছু নির্দিষ্ট সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তবে কোভিড-প্যান্ডেমিক পরবর্তী সময়ে দেশের সামগ্রিক অ্যালকোহল সেবনের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা বিশ্বে তরুণদের মধ্যে মদ্যপানের হার কমছে।
ড. পেনেই বলেন, “তরুণদের মধ্যে অ্যালকোহল নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক নেতিবাচক। আগের মতো এটিকে আর ‘কুল’ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার চিহ্ন মনে করে না তারা। বিশেষ করে নাবালকদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক প্রবণতা।”

অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ বছরের নিচে কারও জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার বা ক্লাবে মদ্যপান করা বা কেনা বেআইনি।
ইয়ুথ ল অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে একটি কমিউনিটি লিগাল সেন্টার যারা ২৫ বছরের কম বয়সীদের বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাদের সিনিয়র সলিসিটর কেট রিচার্ডসন জানান:
বার, ক্লাব কিংবা অ্যালকোহল স্টোরে আইডি দেখানো বাধ্যতামূলক।
যদিও অ্যালকোহলের বয়স সংক্রান্ত আইনগুলো পুরো অস্ট্রেলিয়াতেই এক, তবে অন্যান্য আইন যেমন—পাবলিক প্লেসে মদ্যপান—রাজ্য বা টেরিটরি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ: নিউ সাউথ ওয়েলস-এ পাবলিক প্লেসে মাতাল ও বিশৃঙ্খল আচরণ দণ্ডনীয়। কিন্তু ভিক্টোরিয়া-তে শুধু নেশাগ্রস্ত হওয়া আইনত দোষনীয় নয়।
স্থানীয় কাউন্সিলগুলোও নিজেরা এলাকাভিত্তিক কিছু নিয়ম চালু করতে পারে। যেমন, নির্দিষ্ট কোনো জায়গাকে ‘অ্যালকোহল-মুক্ত এলাকা’ ঘোষণা করা।
মিজ রিচার্ডসন বলেন, “কোনো বিশেষ দিনে নির্দিষ্ট স্থানে ভিন্ন নিয়ম হতে পারে। তাই কোথায় আছেন ও কী নিয়ম চালু আছে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।”

সেকেন্ডারি সাপ্লাই আইন, অর্থাৎ অন্যের মাধ্যমে নাবালকদের কাছে মদ পৌঁছানো নিয়েও স্টেটভেদে ভিন্ন আইন রয়েছে।
কিছু স্টেটের নিয়ম অনুযায়ী কেবলমাত্র পিতামাতা বা অভিভাবক নিজেরা তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা পোষ্যকে মদ দিতে পারেন। আবার কিছু স্টেটে নিয়ম রয়েছে, অন্য কেউও তাদের মদ এনে দিতে পারে কেবল যদি তাদের অভিভাবকদের অনুমতি থাকে। তবে এসব ক্ষেত্রেও অবশ্যই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
মিজ রিচার্ডসন বলেন, “অনেক বাবা-মা দুশ্চিন্তায় থাকেন—তাদের সন্তান বন্ধুর বাড়ির পার্টিতে যাচ্ছে, সেখানে কেউ মদ সরবরাহ করবে কিনা। আইনগুলো এখানে স্পষ্ট করে কে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক। ১৮ বছরের কেউ বন্ধু হলেই হবে না—এটা হতে হবে পিতামাতা বা অভিভাবক।”

তরুণদের জন্যে কখন থেকে মদ্যপান শুরু করা উচিত হতে পারে—এ প্রসঙ্গে ড. পেনেই বলেন,
গবেষণা বলছে, যতটা সম্ভব দেরিতে শুরু করাই ভালো, এবং অন্তত ১৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
ন্যাশনাল মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিলের নীতিমালা ও সরকারী আইনের সাথে এই পরামর্শ মিলে যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আসা মানুষদের কয়েকটি ‘অ্যালকোহল এটিকেট’ বা ভদ্রতা/ রীতিনীতি জানা দরকার।
এদের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত একটি রীতি হলো BYO—মানে “Bring Your Own”। এর মানে হলো, আপনার যদি কোনো BYO ইভেন্টে নিমন্ত্রণ থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে যে এই পার্টিতে আপনাকে নিজেই মদ নিয়ে যেতে হবে, হোস্ট কিছু দেবে না।
ড. পেনেই বলেন, সাধারণত এরকম রীতিই সবাই অনুসরণ করে থাকে। তবে পাবে বা বারে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে অন্যের জন্যে ড্রিঙ্ক কেনার রেওয়াজও রয়েছে অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে।
সবশেষে, এটা মনে রাখা জরুরি যে মদ্যপান বহু রোগ এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি।
FARE-এর মিজ কোকোটিস অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারের সাম্প্রতিক তথ্যের দিকে ইঙ্গিত করেন।
তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় ড্রাগ-সংক্রান্ত চিকিৎসার প্রধান কারণ ছিল অ্যালকোহলই।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ার বাটনে ক্লিক করুন।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মদ্যপানজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাহলে জাতীয় হটলাইনে যোগাযোগ করুন, এটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে: 1800 250 015
জরুরি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন Lifeline: 13 11 14
অস্ট্রেলিয়ায় এবং আপনার রাজ্য বা টেরিটরিতে অ্যালকোহল সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন Department of Health-এর ওয়েবসাইট।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।







