গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- ইন্ডিজিনাস এবং টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার অস্ট্রেলীয়রা বহু বৈচিত্র্যময় জাতি ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গঠিত।
- ইন্ডিজিনাস নেতৃত্বাধীন সংগঠন ও অনুষ্ঠানগুলো ফার্স্ট নেশনস বিষয়াবলি ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পথ তৈরি করে।
- নিজের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সচেতন থাকা মানে হলো শেখার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা, খোলা মনে শোনা, এবং সম্মান বজায় রেখে প্রশ্ন করা।
ইন্ডিজিনাস অস্ট্রেলিয়ানদের সম্পর্কে জানতে প্রথমে হয়তো অনিশ্চয়তা লাগতে পারে, কিন্তু এগুলোই এই জায়গাটি কীভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য জরুরি, আর আপনাকে নিজের জায়গা খুঁজে নিতে সাহায্য করবে।
অস্ট্রেলিয়ার ফার্ষ্ট নেশনস জনগণ ৬০,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ভূমিতে বসবাস করছেন এবং এর যত্ন নিচ্ছেন। এই সম্পর্কটি বোঝা এবং সম্মান করা আপনাকে আপনার নতুন বাসভুমিতে আরও স্থিতিশীল অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে।
'অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন' প্রতিবেদনের এই পর্বে, আপনি জানবেন সহজ এবং অর্থবহ কিছু উপায়। আপনি যেখানে-ই থাকুন না কেন, এবং আপনার ইংরেজি দক্ষতা বা পটভূমি যাই হোক না কেন, এর মাধ্যমেই ফার্ষ্ট নেশনস সংস্কৃতি ও সম্প্রদায় সম্পর্কে শেখা শুরু করতে পারেন।

নতুন কোন দেশে স্থায়ী বা দীর্ঘদিনের জন্য বাস করতে চলে আসা অনেক সময়ই চাপের মনে হতে পারে। অনেক অভিবাসী ইন্ডিজিনাস সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে চান, কিন্তু “ঠিক কোনভাবে” শুরু করবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন। কেউ কেউ ভুল কিছু বলে ফেলবেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন, আবার অনেকেই জানেন না কোথা থেকে শুরু করতে হবে।
তাহলে অর্থবহ প্রথম পদক্ষেপটি কেমন হতে পারে?
আমরা ইয়উরু (Yawuru) নারী শ্যানান ডডসনের কাছে জানতে চাই, যিনি দ্য হিলিং ফাউন্ডেশনের (The Healing Foundation) সিইও।
তিনি বলেন, যাত্রাটি শুরু হয় এই বোঝাপড়া দিয়ে যে “ইন্ডিজিনাস সংস্কৃতি” একটিমাত্র নয়, প্রকৃতপক্ষে অনেকগুলো আছে।
ইন্ডিজিনাস অস্ট্রেলিয়ানদের সাথে কীভাবে যুক্ত হবেন ?
এই প্রথম পদক্ষেপটি আপনি অনলাইনে, নিজের সময়ে, সহজ ইংরেজিতে করতে পারেন। যার মাধ্যমে জনগণের বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানা আপনাকে ভবিষ্যতে সরাসরি মানুষের সঙ্গে দেখা হলে আরও আত্মবিশ্বাসী ও তাদের সাথে মেশার জন্য আপনি প্রস্তুত, এমন অনুভব করতে সাহায্য করবে।
আপনি যখন এই বৈচিত্র্যটি বোঝার জন্য কিছুটা সময় নেবেন, তখন পরবর্তী পদক্ষেপ হলো আপনি যে কান্ট্রি বা ইন্ডিজিনাস ল্যান্ডের যে স্থানে এখন বাস করছেন, যে ভূমিতে হাঁটছেন, কাজ করছেন এবং পরিবার গড়ে তুলছেন, তা সম্পর্কে জানা।
“ট্র্যাডিশনাল ওনার্স (Traditional Owners)” এবং আপনার উপশহরের নাম লিখে একটি সহজ অনুসন্ধান করলে সাধারণত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। আপনার স্থানীয় কাউন্সিলের ওয়েবসাইটও দেখতে পারেন।
ইন্ডিজিনাস ইভেন্ট
যদি আপনি আঞ্চলিক বা রিজিওনাল এলাকায় থাকেন, এই ওয়েবসাইটগুলোতে প্রায়ই কমিউনিটি উৎসব, স্থানীয় ভ্রমণ, কর্মশালা বা পরিবার-বান্ধব নানা ইভেন্টের তালিকা থাকে।
আরও বিস্তৃতভাবে জানতে চাইলে, প্রতিটি স্টেট ও টেরিটরিতে ইন্ডিজিনাস সংগঠন রয়েছে, যারা সংস্কৃতি-ভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত প্রদান করে। এগুলো আপনাকে নিজের মত করে শেখার সুযোগ করে দেয়।
শ্যানান ডডসন আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলোও আপনার এই যাত্রার শুরুতে সহায়ক হতে পারে। সবকিছু অন্তর্ভুক্ত করা না হলেও, এগুলো ভালো উৎস।
আপনি হয়তো দলগত কার্যক্রমে যোগ দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। শ্যানান বলেন, এটি একটি চমৎকার উপায়।
অস্ট্রেলিয়াজুড়ে নানা কমিউনিটি অনুষ্ঠান রয়েছে, যেখানে সব পটভূমির মানুষকে স্বাগত জানানো হয়।
এসব অনুষ্ঠানে প্রায়ই সঙ্গীত, শিল্প, নৃত্য, খাবার এবং গল্প বলাসহ নানা কার্যক্রম থাকে, যা ভালো ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই উপভোগ করা যায়, এবং অনেক সময় পরিবারসহ অংশগ্রহণের উপযোগী।
সিডনির ইথিওপিয়ান কমিউনিটির আসিফা বিকিলির ইন্ডিজিনাস কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আসিফা বলেন, ফার্ষ্ট নেশনস সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া আপনাকে অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
NAIDOC সপ্তাহের সূচনা হয়েছিল ইন্ডিজিনাস এবং টরে' স্ট্রেইট আইল্যান্ডার সংস্কৃতিকে ইতিবাচক ও উন্মুক্তভাবে সকলের মাধ্যমে উদ্যাপনের উদ্দেশ্যে, শুধু ওই কমিউনিটিগুলোর জন্যই নয়, বরং বৃহত্তর অস্ট্রেলীয় সমাজের সবাই যেন তা একসঙ্গে উদ্যাপন করতে পারে।শ্যানান ডডসন, সিইও, দ্য হিলিং ফাউন্ডেশন (The Healing Foundation)
ইন্ডিজিনাস সংস্কৃতি নিয়ে ভুল কিছু বলে ফেললে
এটা ঠিক যে, ইন্ডিজিনাস সংস্কৃতি নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসীর জন্য ভুল করার ভয় থাকতে পারে। মিজ ডডসন বলেন, অভিবাসীদের অনেকেই কিংবা এমনকি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে আছেন তারাও ভুল কিছু করে ফেলবেন কি না তা ভেবে নার্ভাস হন।
অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সময় লাগে এবং বিশ্বাস তৈরি করতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হলো শোনা; এর জন্য বিশেষ কোনো জ্ঞান দরকার নেই।
কিন্তু সবকিছুই শুরু হয় একটি পদক্ষেপ থেকে, বলেন মিজ ডডসন।
তিনি বলেন, “আমার পরামর্শ হলো, এসে দাঁড়ানো, আর মন ও চিন্তা দুটোই খোলা রাখা।”
আপনি যদি সেখানে উপস্থিত হতে পারেন, সেটাই হবে মর্যাদার সাথে সম্পর্কগুলো গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।শ্যানান ডডসন, সিইও, দ্য হিলিং ফাউন্ডেশন (The Healing Foundation)

আপনি অস্ট্রেলিয়ায় ছয় মাস বা ছয় বছর, যতদিনই থাকুন না কেন, ইন্ডিজিনাস অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলা নিখুঁত হওয়ার ব্যাপার নয়। এটি উপস্থিত থাকা, কৌতূহলী থাকা এবং সম্মান প্রদর্শনের বিষয়।
আর অনেক নতুন অভিবাসীর জন্য, এটি এই ভূমিকে নিজের মনে করে ঐক্যের অনুভূতি অর্জনের এক দারুন উপায়ও হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে australiaexplained@sbs.com.au -এ আমাদের ইমেল করুন।
ফিচারটি শুনতে ক্লিক করুন উপরের অডিও প্লেয়ারে।
নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে।
এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন।
ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।










