মূল বিষয়:
- অস্ট্রেলিয়ায় আপনি বিনা খরচে বিভিন্ন রিসাইক্লিং ও ই-বর্জ্য সংগ্রহের জায়গায় আপনার বাড়ির পরিত্যক্ত বৈদ্যুতিক সামগ্রী ফেলে দিতে পারবেন।
- লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি বর্জ্য হিসেবে ফেলার সময় আলাদা সতর্কতার প্রয়োজন হয়।
- আপনার নিকটস্থ এলাকায় পুরনো কিংবা অব্যবহৃত টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী রিসাইকল করার জন্যে সঠিক স্থান খুঁজে পেতে দেখুন recyclingnearyou.com.au
অস্ট্রেলীয়রা প্রচুর পরিমাণে বৈদ্যুতিক সামগ্রী কেনা ও ব্যবহার করে থাকে। প্রতি বছর এ-দেশে উৎপন্ন হওয়া ই-বর্জ্যের পরিমাণ থেকে এই ধারণা পাওয়া যায়।
ই-বর্জ্য শব্দটির বর্জ্য অংশের কল্যাণে বোঝা যায় যে এই সামগ্রীগুলির কোনো ব্যবহার উপযোগিতা নেই। তবে এই সামগ্রীগুলি থেকে বিপজ্জনক অংশ বাদ দেয়া হলে অন্য ধাতব অংশসহ আরও কিছু মূল্যবান উপকরণ সেগুলিতে থেকে যায়, যা যথাযথভাবে রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যেতে পারে।
ডিপার্টমেন্ট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ, এনার্জি, দ্য এনভার্নমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারের জন্যে প্রস্তুত করা সর্বশেষ জাতীয় বর্জ্য প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০-২১ সালের সময়কালে অস্ট্রেলিয়ায় সর্বমোট ৫ লক্ষ ৩১ হাজার টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে।
রেবেকা গিলিং প্ল্যানেট আর্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ই-বর্জ্যের পরিমাণ সম্পর্কে তিনি বলেন,
অস্ট্রেলিয়ানরা গড়ে ২০ কেজির বেশি ই-বর্জ্য তৈরি করে, যা বৈশ্বিক গড় সাত কিলোর চেয়ে অনেক বেশি।
আমাদের ব্যবহার্য অনেক কিছুই ই-বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। টোস্টার, কিংবা সোলার প্যানেল, এবং যা কিছু বিদ্যুতে চলে, তার সবই প্রায় ই-বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
আমাদের বাড়ির সাধারণ আবর্জনার সাথে এগুলো না মেশানোর কারণ অনেক। পরিবেশগত উদ্বেগ তো রয়েছেই, সেই সাথে রয়েছে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও।
বর্জ্য পরিশোধনাগারে আগুন লাগার জন্যে মাঝে মাঝে ছোট কোনো ব্যাটারিই যথেষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়।

ধারণা করা হয় যে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহৃত ব্যাটারির প্রায় ৯০ শতাংশই ল্যান্ডফিল বা ভূমিতে গিয়ে পড়ে। এবং তার ফলে সেগুলি থেকে বিষাক্ত পদার্থ গিয়ে জমা হয় ভূমিতে।
কিন্তু যদি সঠিকভাবে রিসাইক্লিং করা যায়, তাহলে ব্যাটারির ৯৫ শতাংশ উপাদানই পুনরায় ব্যবহারোপযোগী করা সম্ভব।
স্টেট ও টেরিটরির কর্তৃপক্ষরা বি-সাইকল নামের একটি সংস্থার সাথে জোট বেঁধেছে, এটি মূলত ফেডারেল সরকার সমর্থিত একটি প্রকল্প। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সুপারমার্কেট ও খুচরা দোকান এবং কম্যুনিটিতে ব্যাটারি রিসাইকল করার জন্যে ড্রপ-অফ পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে।
তবে বি-সাইকল প্রতিষ্ঠিত স্থানগুলোয় সব ধরনের ব্যাটারি রিসাইকল করা যায় না। বড় আকারের ব্যাটারি, যেমন গাড়ির ব্যাটারি অথবা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্যে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সাধারণত বৈদ্যুতিক বাইক ও স্কুটারে ব্যবহৃত হয়।
আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্সের অধ্যাপক তিয়াইন মা বলেন, আমরা যা ভাবি তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক প্রতিদিনের ব্যবহার্য সামগ্রীতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়।

অধ্যাপক মা বলেন,
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে সবচেয়ে মারাত্মক ঝুঁকি হচ্ছে আগুন লাগার ঝুঁকি, কারণ লিথিয়াম নিজেই একটি অত্যন্ত বিস্ফোরক ধাতু।
আর সে-কারণেই পরিত্যক্ত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি কোথায় রাখা হচ্ছে বা কীভাবে বর্জ্য হিসেবে ফেলা হচ্ছে, সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়া জুড়ে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও সেগুলোর আনুষঙ্গিক জিনিসসহ বৈদ্যুতিক সামগ্রীগুলির পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি প্রোডাক্ট-স্টুয়ার্ডশিপ প্রকল্প চালু রয়েছে।
এই প্রকল্পগুলির অধীনে এই ধরনের পণ্য নির্মাতা এবং আমদানীকারকদের সেগুলির রিসাইক্লিং নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার পেছনে অর্থায়ন করতে হয়।

প্ল্যানেট আর্কের রেবেকা গিলিং বলেন, ন্যাশনাল টেলিভিশন অ্যান্ড কম্পিউটার রিসাক্লিং স্কিমের অধীনে পুরনো টিভি ও কম্পিউটার বিনা খরচে রিসাইক্লিং করা যায়।
মিজ গিলিং আরো বলেন, এই স্কিমের অধীনে কম্পিউটার ডিভাইসের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে রিসাইক্লিং-এর পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার আগেই সেগুলো থেকে সমস্ত তথ্য মুছে ফেলা হবে।

একই কথা প্রযোজ্য সরকার সমর্থিত ‘মোবাইল মাস্টার’ নামক প্রোডাক্ট-স্টুয়ার্ডশিপ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও, যেগুলি মূলত মোবাইল ফোন রিসাইক্লিং করে থাকে।
লুইস হাইল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশনের সিইও, যেটি শিল্প-নেতৃত্বাধীন রিসাইক্লিং প্রকল্প পরিচালনাকারী শীর্ষ সংস্থা।
নিজের মোবাইল ফোন হালনাগাদ করার এবং পুরনো ফোনটি রিসাইকল করার সবচেয়ে ভালো উপায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
সবার আগে পুরনো ফোনের তথ্য নতুন ফোনে স্থানান্তরিত করে ফেলা জরুরী। আমাদের ওয়েবসাইটে এ-বিষয়ক নির্দেশাবলী দেয়া রয়েছে।
ফোনের সংগে ব্যবহৃত অন্যান্য আনুষঙ্গিক ডিভাইসও একই প্রকল্পের অধীনে রিসাইকল করা যায়। সাধারণত বিনা খরচে পোস্টের মাধ্যমে অথবা সরাসরি ড্রপ-অফের মাধ্যমে এগুলো সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
মোবাইল ফোনের ব্যাটারি যদি ফোনের ভেতরেই থাকে তাহলে সেগুলিও ‘মোবাইল মাস্টার’ প্রকল্পের মাধ্যমে রিসাইকল করা সম্ভব।
অন্যথায় আলগা ব্যাটারিগুলো নির্ধারিত বি-সাইকল প্রকল্পের মাধ্যমে রিসাইক্লিং এর জন্যে প্রেরণ করা উচিৎ বলে জানান মিজ হাইল্যান্ড।

যে কোনো বৈদ্যুতিক সামগ্রী অথবা অন্য যে কোনো ধরণের পরিত্যক্ত গৃহস্থালী সামগ্রী সঠিক উপায়ে কীভাবে রিসাইকল করা যায়, সে-সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে ও ড্রপ-অফের জন্যে ঠিকানা জানতে দেখুন প্ল্যানেট আর্কের ওয়েবসাইট।
তাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা recyclingnearyou.com.au
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারে ক্লিক করুন।








