জ্বালানির দামের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার প্রভাব কি আপনিও অনুভব করছেন? আর তাই কি গাড়ি বদলে ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি কেনার কথা ভাবছেন? আপনি একা নন। অস্ট্রেলিয়ায় ইভির বিক্রি বাড়ছে, আর সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনাও এই পরিবর্তনকে উৎসাহিত করছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার গাড়ি চালকদের জন্য এই পরিবর্তন কতটা বাস্তবসম্মত?
জ্বালানির দাম সুস্থির না থাকায় ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ইন্ডাস্ট্রি ডাটা-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া প্রতি ছয়টি গাড়ির মধ্যে একটি ছিল ইলেকট্রিক গাড়ি।
হুসেইন দিয়া সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির পরিবহন প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ের অধ্যাপক।
তিনি বলেন,
ইভি কেনার প্রাথমিক খরচ এখনও পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির তুলনায় বেশি।
তবে বাজারে চাহিদা ও বিকল্প বেড়ে যাওয়ায় দামও কমেছে।
ইভি কেনার সময় আপনার স্টেট বা টেরিটরিতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনাগুলো সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত।
যারা ‘স্যালারি প্যাকেজিং’ ব্যবস্থার আওতায় কাজ করেন, তারা ইভি লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে কর-ছাড়ও পেতে পারেন।
এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন রয়্যাল অটোমোবাইল ক্লাব অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার যানবাহন ও জ্বালানি বিভাগের ব্যবস্থাপক অ্যালেক্স ফরেস্ট।
তিনি বলেন,
আপনার যদি নোভেটেড লিজ থাকে, তাহলে ফ্রিঞ্জ বেনিফিটস ট্যাক্সে ছাড় পাওয়া যায়।
পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির তুলনায় ইভি চালানোর খরচ অনেক কম।
ধারণা করা হয়, চালকেরা বছরে জ্বালানি খরচে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন।
অধ্যাপক দিয়া এ ব্যাপারে বলেন, প্রতি কিলোমিটার চলার হিসাবে বিদ্যুতের খরচ পেট্রোলের তুলনায় অনেক কম। আর যেহেতু ইভির যান্ত্রিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে সহজ, তাই রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও কম।
তবে মনে রাখতে হবে, পাবলিক চার্জিং স্টেশনে গাড়ি চার্জ করলে খরচ তুলনামূলক বেশি হয়। কারণ সেখানে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য বাড়িতে চার্জ দেওয়ার চেয়ে বেশি।
অনেকেই ভেবে থাকেন, বর্তমান বাজারে ইভি-কে একবার চার্জ করা হলে তা দিয়ে কত দূর পর্যন্ত যাওয়া যেতে পারে। সাধারণ মডেলগুলো একবার চার্জে ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। তবে সমস্যা দেখা দেয় যখন ইন্টার-স্টেট ভ্রমণ করতে হয়।
আপনি যদি অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন, তাহলে আলাদা ইভি চার্জার বসানোর জন্য ভবন পরিচালনাকারী স্ট্রাটা কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগতে পারে।
তবে অ্যালেক্স ফরেস্টের মতে,
অনেক চালকের জন্য সাধারণ গৃহস্থালি বিদ্যুৎ সংযোগই যথেষ্ট।
অস্ট্রেলিয়ায় ইভির ইতিহাস এখনও ২০ বছরেরও কম। ফলে ব্যবহৃত বা সেকেন্ড-হ্যান্ড ইভির বাজার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
তবে গত কয়েক মাসে ব্যবহৃত ইভির প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে এবং পুনর্বিক্রয় মূল্যও এখন প্রায় পেট্রোলচালিত গাড়ির সমপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।
অন্য যেকোনো নতুন গাড়ির মতোই, ইভি কেনার আগে বিক্রয়-পরবর্তী সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।
সম্ভাব্য ক্রেতাদের ব্যাটারির ওয়ারেন্টি সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া উচিত।
অ্যালেক্স ফরেস্ট বলেন,
সুসংবাদ হলো ইভির বাজারে এখন যথেষ্ট প্রতিযোগিতা রয়েছে, আর এর সুবিধা পাচ্ছেন ক্রেতারাই।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট অনুসরণ করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা কোন বিষয়ে ধারণা দিতে চান ? australiaexplained@sbs.com.au-এ আমাদের একটি ইমেল পাঠান।





