গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- পেশা পরিবর্তন করতে চাইলে সরাসরি সহায়তা এবং সরকারি কিছু রিসোর্স আছে
- অভিবাসীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতা নিয়ে আসেন, তবে এরপরেও তাদের হয়তো আরও কিছু প্রশিক্ষন বা স্থানীয় অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতে পারে
- বর্তমান শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে
অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ডের এই পর্বে আমরা দেখব, অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার পরিবর্তন কীভাবে করা যায়, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য কোথায় পাওয়া যায়, কী ধরনের সহায়তা রয়েছে, এবং যদি ইংরেজি আপনার প্রথম ভাষা না হয়, তাহলে কীভাবে এই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া যায়।
এছাড়াও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানব, কোন খাতে চাকরি বাড়ছে এবং কোন দক্ষতার চাহিদা বেশি।
অস্ট্রেলিয়ান কর্মীদের মধ্যে পেশা পরিবর্তনের হার কতটা স্বাভাবিক?
আপনি যদি মনে করেন নতুন কোনো পেশায় যাওয়ার সময় এসেছে, তাহলে আপনি একা নন।
২০২৪ সালের একটি জরিপ বলছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতি দুইজন কর্মীর একজন একই বিষয় ভাবছেন।
অনেকের জন্য ক্যারিয়ার পরিবর্তন মানে নতুন করে শুরু করা নয়, বরং আগে যা শিখেছেন তার ওপর নতুন করে ভিত্তি গড়ে তোলা।
ক্যারিয়ার কোচ অ্যালিস চেং বলেন, এই পরিবর্তন এখন আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, কোভিড মহামারির সময় মানুষ ঘরে বসে তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছিল, যার ফলে ক্যারিয়ার পরিবর্তন এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

শেখা এবং নতুন করে শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই
অনেকের ধারণা, কম বয়সে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করা সহজ।
কিন্তু চেং বলেন, বয়স বা জীবনের পর্যায় কোনো বাধা নয়, চাইলে যে কোনো বয়সেই পরিবর্তন করা যায়।
তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আসা অভিবাসীদের অনেক সময় স্থানীয় অভিজ্ঞতার অভাব থাকে, যা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নিজের দক্ষতা ও প্রতিভার ওপর বিশ্বাস রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ভয় অনেক সময় মানুষকে পিছিয়ে দেয়, বিশেষ করে যখন ক্যারিয়ার পরিবর্তন ঝুঁকিপূর্ণ বা অনিশ্চিত মনে হয়।
কিন্তু এটি একবারে বড় কোনো সিদ্ধান্ত হতে হবে এমন নয়। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা যায় এবং নতুন ক্ষেত্র আগে পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব।
সরকারি সেবার মাধ্যমেও সহায়তা পাওয়া যায়।
আপনি আপনার স্টেট বা টেরিটোরির নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে পুনরায় দক্ষতা অর্জন, ভোকেশনাল শিক্ষা এবং স্থানীয় চাকরির প্রবণতা সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন।
ভিক্টোরিয়া এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু অঞ্চলে ফ্রি ক্যারিয়ার, প্রশিক্ষণ এবং চাকরি সহায়তার জন্য এক জায়গায় সব সেবা পাওয়া যায়।
আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি, যেসব শত শত মানুষকে আমি কোচিং দিয়েছি, যাদের অধিকাংশেরই ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষা, তারা সাধারণত মনে করে ইংরেজিই তাদের বাধা, কিন্তু আসলে সেটি তাদের মানসিক বাধা।এলিস চেং
ভিক্টোরিয়ান স্কিলস অথরিটির সিইও ক্রেইগ রবার্টসন বলেন, এই কেন্দ্রগুলো শুধু টেইফ (TAFE) শিক্ষার জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত এবং স্থানীয় চাকরির চাহিদা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে।

অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য ও পরামর্শ আমি কোথায় পেতে পারি?
সরাসরি সহায়তার পাশাপাশি অনলাইন টুলও খুব কাজে আসে।
নিচের লিঙ্কগুলো থেকে বিভিন্ন স্টেট ও টেরিটোরিগুলোতে কি কি সহায়তা আছে তা দেখতে পারেন -
সরকারি ওয়েবসাইটগুলো অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজার সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তনের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে।
এর মধ্যে একটি হলো yourcareer.gov.au, যেখানে আপনি নতুন পেশা খুঁজে দেখতে পারেন, দক্ষতার ঘাটতি বুঝতে পারেন এবং কী ধরনের প্রশিক্ষণ দরকার তা জানতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রবণতাগুলো কী কী?
অটোমেশন এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে আপস্কিলিং বা নতুন দক্ষতা অর্জন এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যারা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখেন, তাদের চাহিদা বেশি।
আপনি যদি নতুন দক্ষতায় বিনিয়োগ করতে চান, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (বা AI) সম্পর্কিত কোর্স বা সার্টিফিকেশন বিবেচনা করতে পারেন।
ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড বিজনেস স্কুলের ড. ক্যারোলিন নাইট বলেন, বর্তমানে অনেক শিল্পক্ষেত্রেই এআই দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।
প্রযুক্তি শুধু কাজের ধরনই নয়, কাজের স্থানও বদলে দিচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রেই এখন হাইব্রিড কাজ অর্থাৎ অফিস ও বাসা থেকে কাজ করা একরকম স্থায়ী হয়ে গেছে।
প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার উন্নতির ফলে এখন ঘরে বসে কাজ করা অনেক বেশি সহজ হয়েছে, এ নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটেছে।ডঃ ক্যারোলিন নাইট
ড. নাইট বলেন, এখন মানুষ কাজের ক্ষেত্রে বেশি ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তা আশা করে এবং প্রযুক্তির উন্নতির কারণে বাসা থেকে কাজ করা সহজ হওয়ায় তারা এই সুবিধা চাইতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

আমি কীভাবে বুঝবো আমার পেশা পরিবর্তন করা প্রয়োজন ?
শেষ করার আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।
সেটি হচ্ছে, মানুষ বিভিন্ন কারণে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করে। কেউ নতুন সুযোগ, বেশি বেতন বা সন্তুষ্টির জন্য, আবার কেউ নেতিবাচক কর্মপরিবেশ কিংবা বার্নআউট বা কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে।
যদি আপনি এমন পরিস্থিতিতে থাকেন, ড. নাইটের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ আছে
তিনি বলেন, এমনটা দুঃখজনক যে কেউ একটি ভালো ক্যারিয়ার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় শুধুমাত্র অতিরিক্ত চাপ বা খারাপ পরিবেশের কারণে। আপনার এমন হলে আপনি আপনার ম্যানেজারের সাথে কথা বলুন, আর এতে যদি সমস্যা আরো বাড়ে, তাহলে অন্যত্র চাকরির কথা ভাবুন।
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবনে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আরও মূল্যবান তথ্য ও পরামর্শ পেতে অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ড (Australia Explained) পডকাস্টটি সাবস্ক্রাইব করুন বা অনুসরণ করুন।
আপনার কি কোনো প্রশ্ন বা বিষয়ের ধারণা আছে?
ইমেইল করুনঃ australiaexplained@sbs.com.au
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
এই লিঙ্কে ক্লিক করে নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
Read more about SBS’s use of AI







