গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- অস্ট্রেলিয়ায় ভ্যাপিংকে "প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা" হিসাবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
- কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের তথ্য উদ্বেগজনক।
- ফার্মেসির বাইরে ভ্যাপিং পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হলেও কালোবাজারে বিক্রয় হওয়া এসব পণ্য কিশোর-কিশোরীদের জন্য সহজলভ্য।
- সমবয়সীদের চাপ এবং ভ্যাপিংয়ের স্বাস্থ্যগত প্রভাব উপলব্ধি না করতে পারাও কোন কোন কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি ত্যাগ করা কঠিন।
অস্ট্রেলিয়ায় ভ্যাপিং এর উপর ক্র্যাকডাউন চলছে, যাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার একটি "প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা" এবং "অনেক স্কুলে এক নম্বর আচরণগত সমস্যা" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০২২/২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিনজনের মধ্যে একজন ই-সিগারেট ব্যবহার করতো।
বেকি ফ্রিম্যান সিডনির স্কুল অফ পাবলিক হেলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক।
তিনি জেনারেশন ভ্যাপ প্রজেক্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এই গবেষণায় তরুণদের বিশ্বাস এবং ভ্যাপিং ব্যবহারের আচরণ নিয়ে তদন্ত করা হয় এবং দেখা যায় যে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের তথ্য ভালভাবেই নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ফার্মেসির বাইরে খুচরা দোকানে ভ্যাপিং পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিধান থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতা ভিন্ন। অধ্যাপক ফ্রিম্যান ব্যাখ্যা করেন, কালোবাজারে বিক্রয় হওয়া এসব পণ্য কিশোর-কিশোরীদের জন্য সহজলভ্য।
ভ্যাপিং পণ্যগুলি এখন বেশ কয়েক বছর ধরে রয়েছে।
প্রফেসর ফ্রিম্যান মনে করেন যে তরুণদের মধ্যে এগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির একটি কারণ হল এটি ধূমপানের বিকল্প বলে বাজারজাত করা হয়, যেটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় নয়। তবে তিনি যুক্তি দেন যে ভ্যাপিংয়ের বিষয়টি আসলে তা নয়।
ভ্যাপিংয়ের স্বাস্থ্যগত প্রভাব
প্রফেসর নিক জাওয়ার রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অফ জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স এক্সপার্ট অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সভাপতি। সংস্থাটি ধূমপান ত্যাগ করতে চায় এমন লোকদের সহায়তা করতে পেশাদার জনস্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য নির্দেশিকা তৈরি করে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এমনকি নন-নিকোটিন ভ্যাপগুলিও ই-সিগারেটের তরলকে বাষ্পীভূত করার সময় উত্পাদিত অ্যারোসলের কারণে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে, যা প্রাথমিকভাবে গ্লিসারিন এবং প্রোপিলিন গ্লাইকোল নিয়ে গঠিত।
প্রফেসর জাওয়ারও এই দাবিকে সমর্থন করেন যে বেশিরভাগ ভ্যাপিং পণ্যে নিকোটিনের উপস্থিত থাকে, এমনকি লেবেলে না উল্লেখ করা হলেও।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, কিশোর-কিশোরীদের এবং শিশুদের জন্য নিকোটিনের সংস্পর্শ উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে, ফলে তাদের বিকাশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
ভ্যাপিং ত্যাগ করা প্রতিটি কিশোর-কিশোরীর জন্য বিশেষ কিছু।
কুইট ভিক্টোরিয়ার পরিচালক র্যাচেল অ্যান্ডারসেন বলেন, ভ্যাপিং বা ধূমপান ছাড়ার কোনো একক উপায় নেই। কিন্তু মানুষ যখন আসলে এটি ছেড়ে দেয় তখন একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। নিকোটিন ছাড়ার প্রক্রিয়া অনেকটা একই এবং স্বাস্থ্য পেশাদাররা এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
প্রফেসর জাওয়ার বলেছেন যে ভ্যাপিং প্রোডাক্টের উপর অভিযানের প্রভাবে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সাহায্য চাওয়া বাড়তে পারে কিনা, তা লক্ষণীয়। কিছু তরুণ বয়সীদের জন্য, পরিবার এবং সহকর্মীদের সমর্থনই যথেষ্ট। এর বাইরে কেউ কেউ নিকোটিনের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে একজন পেশাদার চিকিত্সকের সহায়তা প্রয়োজন।

টিনএজারদের জন্য রয়েছে সহায়তা চ্যানেল
র্যাচেল অ্যান্ডারসেন বলেন যে সমবয়সীদের চাপ এবং ভ্যাপিংয়ের স্বাস্থ্যগত প্রভাব উপলব্ধি না করতে পারাও কোন কোন কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি ত্যাগ করা কঠিন।
ইউনিভার্সিটি অফ সিডনির প্রফেসর ফ্রিম্যান বলেন যে একজন ১২ বছর বয়সী সন্তানের মা হিসাবে স্কুলের কিশোর-কিশোরীদের ভ্যাপিংয়ের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে অনেক অভিভাবকের উদ্বেগ নিয়ে তিনি সহানুভূতিশীল।
তিনি বিশ্বাস করেন যে সন্তানদের ভ্যাপিং বন্ধ করতে সাহায্য করার জন্য দুটি মূল পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে: যেমন, ইতিবাচক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা চাওয়া।
মিজ অ্যান্ডারসেন সম্মত হন যে আপনার সন্তানকে দোষারোপ না করে ভ্যাপিংয়ের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে কথা বলা, নিরাপদে তাদের অভিজ্ঞতাগুলো শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও, পরামর্শের জন্য টিনএজারদের জন্য থাকা সমস্ত সহায়তা চ্যানেলগুলিও পিতামাতারা ব্যবহার করতে পারেন।

ভ্যাপিং ছাড়তে স্টেটগুলোতে সহায়তা পেতে ক্লিক করুন
- Australian Capital Territory
- New South Wales
- Northern Territory
- Queensland
- South Australia
- Tasmania
- Victoria
- Western Australia
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে
পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ, আমরা আমাদের প্লাটফর্ম বিস্তৃত করছি। এসবিএস সাউথ এশিয়ান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য।
এসবিএস বাংলা টিউন করুন এসবিএস অন ডিমান্ডে সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায়। দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য ভাষায় সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি শুনতেও অন ডিমান্ডে টিউন করুন।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুনএসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট
এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল।
উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।










