গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- হাঙরেরা সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
- সৈকতে নিরাপদ থাকার জন্যে নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের টহল দেয়া এলাকায় সাঁতার কাটা জরুরি
- সাঁতারের সময় হাঙরের আক্রমণের মুখোমুখি হওয়া ভীতিকর অভিজ্ঞতা, এ ক্ষেত্রে শান্ত থাকা ও ধীরে ধীরে সাঁতরে পিছু হটে আসা গুরুত্বপূর্ণ
অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক জগত অনেক রকম প্রাণীতে সমৃদ্ধ। এখানে হাঙরেরও অনেক প্রজাতি রয়েছে। যেমন, গ্রেট হোয়াইট শার্ক, টাইগার শার্ক, হ্যামারহেড শার্ক, বুল শার্ক-এর মত অসংখ্য প্রজাতি।
এই প্রাণীগুলি সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক কাজে আসে। কারণ এরাই শীর্ষ শিকারী হিসেবে খাদ্য-চক্র সচল রাখতে সক্রিয় থাকে।
ড. পল বুচার যিনি একজন হাঙর বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন, সমুদ্রের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে হাঙরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সৈকত ভ্রমণের আগেই যদি হাঙরের আচরণ এবং তাদের আবাসস্থল সম্পর্কে ধারণা নিয়ে রাখা যায়, তাহলে বিপদের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে।

ড. বুচার নিউ সাউথ ওয়েলস ডিপার্টমেন্ট অব প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজের প্রিন্সিপাল রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন।
তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা মূলত জোর দিচ্ছে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সমুদ্র সৈকতগুলিতে সাঁতার কাটতে যাওয়া মানুষদের নিরাপত্তা জোরদার করার ওপরে, যেন সাঁতারুদের হাঙরের সামনে পড়ার সম্ভাবনা কমানো যায়।
ড. বুচার বলেন, নিউ সাউথ ওয়েলসে প্রতি বছর মে মাস থেকে নভেম্বরের মধ্যে উপকূলের আশেপাশে হোয়াইট শার্ক, অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যে বুল শার্ক এবং বছরের যে কোনো সময় টাইগার শার্ক অনেক বেশি দেখা যায়।
হাঙরের বিচরণ আমাদের মহাসমুদ্রের প্রকৃতিরই একটি অংশ। ড. বুচার বলেন, সমুদ্রের কোনো অংশ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সেখানে হাঙরের বিচরণ নেই, এরকম শতভাগ নিশ্চয়তা আসলে কেউ দিতে পারে না।
আর সে-কারণেই হাঙরের আক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৈকত ভ্রমণের সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সৈকতে নিরাপদ থাকার জন্যে একই পরামর্শ দিয়েছেন ইমপ্যাক্ট ইকোলজিস্ট এবং সৈকত নিরাপত্তা গবেষক ড. জ্যাজ লয়েস, তিনি সার্ফ লাইফ সেভিং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা দলের শীর্ষ গবেষক।
সমুদ্রে সাঁতার দেয়ার সময় যদি দুর্ভাগ্যবশত আপনি হাঙরের মুখোমুখি হন, সে ক্ষেত্রে হাঙরের আচরণ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা নিয়ে রাখলে তা কাজে লাগতে পারে।
ড. পল বুচার বলেন, এটা মনে রাখা জরুরি যে হাঙরের আক্রমণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল, তবে সমুদ্রে থাকা অবস্থায় হাঙরের মুখোমুখি হলে কী করতে হবে তা জেনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

তিনি বলেন, হাঙরের আক্রমণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পানিতে নামার আগেও আপনি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন।
ড. লয়েস আরও বলেন, যে সৈকতে আপনি সাঁতার কাটতে বা সার্ফিং করতে যেতে চান, সেটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকে খোঁজ নিন।
অস্ট্রেলিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এটি সার্ফ লাইফ সেভিং অস্ট্রেলিয়ার মাধ্যমে সারা দেশের লাইফগার্ড এবং লাইফসেভারদের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের দ্বারা সৈকতে ভ্রমণকারীদের নানা রকম বিপদ থেকে রক্ষা করছে। অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে সাঁতার কাটার সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো লাল এবং হলুদ পতাকার মাঝের জায়গা এবং সার্ফ করার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো সৈকতের যে অংশে নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দিয়ে থাকে, তার আশে পাশের এলাকা।

হাঙর সম্পর্কিত দুর্ঘটনা কমাতে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি স্টেট ও টেরিটরির সরকারের নিজস্ব উপায় ও পদ্ধতি রয়েছে। যেমন, শার্ক-ট্যাগিং ও মনিটরিং প্রোগ্রাম, ড্রাম লাইন ও হাঙর প্রতিরোধক জাল স্থাপন করা থেকে শুরু করে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নজরদারি করা।
নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের শার্ক-ট্যাগিং প্রোগ্রামটি সারা বিশ্বের মধ্যেই এ ধরণের সবচেয়ে বড় প্রোগ্রাম বলে অনুমান করা হয়। ড. বুচার বলেন, হাঙরকে ট্যাগ করার অর্থ হচ্ছে যে সৈকতে বেড়াতে যাওয়া মানুষেরা সেখানকার পানিতে ট্যাগযুক্ত হাঙর থাকলে সাথে সাথেই সতর্কবার্তা পেতে পারে।

হাঙরের বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সতর্ক থাকা জরুরি, তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সমুদ্র জগতের এই শীর্ষ শিকারীকে তার প্রাপ্য মনোযোগ দেয়াটাই শ্রেয়। কারণ হাঙর কেবল সামুদ্রিক পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশই নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতিরও একটা অংশ।
আরও তথ্য জানতে দেখুন:
- স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যোগ দিতে আপনার স্থানীয় Surf Life Saving club -এ খোঁজ নিন
- ভিজিট করুন BeachSafe.org.au অথবা ডাউনলোড করুন Beachsafe app
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ার লিঙ্কে ক্লিক করুন।
এসবিএস রেডিও সম্প্রচার-সূচী হালনাগাদ করেছে, এখন থেকে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টায়, এসবিএস পপদেশীতে আমাদের অনুষ্ঠান শুনুন, লাইভ।
কিংবা, পুরনো সময়সূচীতেও আপনি আমাদের অনুষ্ঠান শোনা চালিয়ে যেতে পারেন। প্রতি সোম ও শনিবার, সন্ধ্যা ৬টায়, এসবিএস-২ তে।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
এ সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন: sbs.com.au/audio
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।









