গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- আপনার স্টেট বা টেরিটরির জন্ম, মৃত্যু এবং বিবাহ নিবন্ধন বিভাগ (Registry of Births, Deaths & Marriages) আইনগতভাবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে।
- আপনি কোথায় থাকেন তার উপর নির্ভর করে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি পরিবর্তিত হতে পারে।
- কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন বিয়ের পরে, Registry of Births, Deaths & Marriages বা BDM-এর মাধ্যমে আপনার নাম পরিবর্তন করার কোন প্রয়োজন নেই।
- একবার আপনার নাম পরিবর্তন করলে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন সংস্থাকে অবহিত করার দায়িত্ব আপনার।
আপনি যদি নিজের দেওয়া নাম বা পদবি পরিবর্তনের কথা ভাবেন, তাহলে 'অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন' ফীচারের এই পর্বটি পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝতে সাহায্য করবে।
আপনার আইনগত নাম হলো সেটি, যা আপনার জন্ম সনদ, পাসপোর্ট বা ভিসার মতো পরিচয়পত্রে থাকে।
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা হন, তবে জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন দপ্তরের (Registry of Births, Deaths & Marriages বা BDM) মাধ্যমে আইনগতভাবে নাম পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
অ্যাক্সেস ক্যানবেরার বিডিএম (BDM) টিমের মুখপাত্র ডেরিস কিউবিন জানান, নানান কারণে মানুষ নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।

নাম পরিবর্তন কেন প্রয়োজন হয় ?
এর মধ্যে অনেকে অভিবাসনের পর নাম পরিবর্তন করেন, যেমন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট এলিয়ট ফক্স।
তিনি শৈশবে পরিবারসহ প্রাক্তন চেকোস্লোভাকিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করেন।
তিনি জানান, “আমরা যখন এসেছিলাম এবং অস্ট্রেলীয় অভিবাসন দপ্তরে আমাদের নাম নিবন্ধিত হয়, তখন অক্ষরের ওপরে থাকা উচ্চারণচিহ্ন মুছে দেওয়া হয়েছিল, কারণ ইংরেজি বর্ণমালায় এ ধরনের চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না। এর ফলে আমাদের নাম আসল উচ্চারণ অনুযায়ী বলা হতো না। অস্ট্রেলিয়ায় বড় হতে হতে আমি আমার নামের সঙ্গে পরিচয় খুঁজে পাইনি, আর তা আমাকে আত্মবিশ্বাসও দিত না।”
প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তিনি এমন একটি নাম নেন যা তাঁর পছন্দসই, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাঁর শিল্পীসত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে, কখনো কখনো প্রশাসনিক জটিলতা মেটাতেও নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
টাসমানিয়ার মাইগ্র্যান্ট রিসোর্স সেন্টারের স্যাটলমেন্ট কেস ম্যানেজার মেহরানগিজ তাবাতাবাই জানান, তিনি অনেক ক্লায়েন্টকে এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন।
তিনি বলেন, “মিয়ানমার থেকে আগতদের ক্ষেত্রে প্রায়শই একটি সমস্যার সৃষ্টি হয়—তাদের নামকরণের প্রথাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সাধারণত ভুলভাবে ধরে নেওয়া হয় যে নামের শেষ অংশটি পদবি। অথচ মিয়ানমারের নাগরিকরা ঐতিহ্যগতভাবে পদবি ব্যবহার করেন না।”
এরকম এক কিশোরী ক্লায়েন্টের দুই-অংশবিশিষ্ট প্রথম নাম ছিল এবং কোনো পদবি ছিল না। তার স্কুল নামের দ্বিতীয় অংশকে পদবি হিসেবে রেকর্ড করেছিল, যা নানা বিভ্রান্তির জন্ম দেয়।
নাম পরিবর্তন করার সময় কি কোন বিধিনিষেধ আছে?
নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আপনার স্টেট বা টেরিটরির উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
প্রথম ধাপ হলো আপনার স্টেট বা টেরিটরির জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন দপ্তরের ওয়েবসাইট দেখে নেওয়া।
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তবে আপনার জন্ম যেখানে নিবন্ধিত হয়েছে সেখান থেকেই আবেদন করা সবচেয়ে সহজ। তবে অন্য জায়গা থেকেও আবেদন করা সম্ভব।
উদাহরণস্বরূপ, এসিটি (ACT)-তে নাম পরিবর্তনের জন্য আপনার সেখানেই জন্ম হতে হবে অথবা সেখানে বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে, জানান ডেরিস কিউবিন।
বয়স অনুযায়ী শর্তও ভিন্ন হতে পারে।

আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদনের জন্য আপনাকে ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং পরিচয় প্রমাণপত্র (যেমন জন্মসনদ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স) জমা দিতে হবে। এটি সাধারণত অনলাইনে করা যায়।
কখনো আপনাকে নাম পরিবর্তনের কারণ জানাতে হতে পারে, সম্প্রতি আপনি নাম পরিবর্তন করেছেন কিনা বা কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড আছে কিনা সেটিও জানাতে হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আপনি সর্বোচ্চ তিনবার নাম পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে বিয়ে, তালাক বা পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য নয়।
এটি একটি গুরুতর সিদ্ধান্ত, এবং নতুন নাম নেওয়ার আগে ভালোভাবে ভেবে নিতে হবে, ব্যাখ্যা করেন ডেরিস কিউবিন।
তিনি বলেন, “আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক পথ বেছে নিতে স্থানীয় বিডিএম টিমের সঙ্গে কথা বলুন। এতে এমন কিছু বিষয়ও সামনে আসতে পারে, যা আগে ভাবেননি।”
এলিয়ট ফক্স ক্যানবেরা রেজিস্ট্রির মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন এবং তিনি নাম পরিবর্তনের সনদপত্র পেয়েছিলেন।
প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। আপনি কোথায় আবেদন করছেন তার ওপর নির্ভর করে ফি সাধারণত ২০০-৩০০ ডলারের মধ্যে হয়।
বিবাহ-পরবর্তী নাম পরিবর্তন
তবে বিবাহ-পরবর্তী নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো খরচ নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক নয়, যদিও অনেকে সঙ্গীর পদবি গ্রহণ করেন। আবার কিছু দম্পতি দুই পরিবারের পদবি মিলিয়ে হাইফেন দিয়ে নতুন নাম তৈরি করেন। এসব ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি সাধারণত সহজ হয়, জানান কিউবিন।
তালাক বা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর, অথবা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণে আপনি পূর্বের নামেও ফিরে যেতে পারেন।
তবে আপনি যদি বিদেশে বিয়ে করে থাকেন, অথবা বিদেশে জন্মগ্রহণ করেও অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ে করেন, তবে কিছু কাগজপত্র অস্ট্রেলিয়ায় স্বীকৃত নাও হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বিডিএম-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর যা করণীয়
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে নানান প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে। নতুন ইমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হতে পারে, জানান এলিয়ট।
এর মধ্যে রয়েছে মেডিকেয়ার, অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিস, সেন্টারলিঙ্ক, অস্ট্রেলিয়ান ইলেকটোরাল কমিশন, বীমা সংস্থা, সুপারঅ্যানুয়েশন ফান্ড এবং আইনগত উইল আপডেট করার প্রয়োজন।
এছাড়া আপনাকে নতুন পাসপোর্ট নিতে হবে। ভিসা থাকলে বা আবেদন করে থাকলে, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগকেও জানাতে হবে।
আপনার পরিস্থিতি যাই হোক, স্থানীয় জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন দপ্তরই আপনাকে পুরো প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনা দেবে।

অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবন নিয়ে আরও তথ্য ও পরামর্শের জন্য অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ড (Australia Explained) বা অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন পডকাস্ট সাবস্ক্রাইব করুন বা অনুসরণ করুন।
আপনার কি কোনো প্রশ্ন বা আলোচনার বিষয় আছে? আমাদের ইমেইল করুন: australiaexplained@sbs.com.au
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।









