Australia Explained: খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যেভাবে মেনে চলবেন

GettyImages-2202444629.jpg

It's important that you tell the restaurant staff that you have a food allergy

খাদ্যাভ্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়াকে বলা হয়ে থাকে বিশ্বের ‘অ্যালার্জি ক্যাপিটাল’। দেশটির জনগোষ্ঠী বৈচিত্র্যময় হওয়ার কারণে মানুষ তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, নৈতিকতা, স্বাস্থ্যগত চাহিদা ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনেক ক্ষেত্রেই খাবারের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে।


খাদ্যসংক্রান্ত ধর্মীয় বিধিনিষেধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে নৈতিক অবস্থান, অথবা স্বাস্থ্যভিত্তিক খাবারের পছন্দ— এরকম নানা কারণে সম্ভবত আমরা সবাইই খাবার নিয়ে কোনো না কোনো বিধিনিষেধ মেনে চলি, অথবা এমন কাউকে আমরা চিনি যারা বিধিনিষেধ মেনে চলেন।

অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ডের এই পর্বে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন খাবারের লেবেল, সার্টিফিকেশন বা সনদ এবং বিভিন্ন সহায়ক উৎস সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবেন, যাতে সচেতনভাবে খাবার বেছে নেওয়া সহজ হয়।

আজকের পর্ব শুরু করা যাক খাদ্যে অ্যালার্জি দিয়ে—এ বিষয়টি উপেক্ষা করলে অবস্থা গুরুতর, এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে অন্তত ১ জনের খাদ্যে অ্যালার্জি থাকে; এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত হলো ডিমে অ্যালার্জি। আর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অন্তত প্রতি ৫০ জনে ১ জনের খাদ্যে অ্যালার্জি থাকে।

এই কারণেই মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য দ্রব্যে পরিষ্কার ও স্পষ্ট লেবেলিং থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ইনগ্রিড রোশ ন্যাশনাল অ্যালার্জি কাউন্সিলে কর্মরত একজন প্র্যাকটিসিং ডায়েটিশিয়ান, যিনি খাদ্য অ্যালার্জি বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ।

তিনি জানান,

ভোক্তারা যেন সহজে উপাদান শনাক্ত করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই 'ফুড স্ট্যান্ডার্ডস অস্ট্রেলিয়া নিউ জিল্যান্ড' প্লেইন ইংলিশ অ্যালার্জেন লেবেলিং চালু করেছে।

খাদ্যে কী কী উপাদান রয়েছে তার বিবরণ অবশ্যই লেবেলে স্পষ্টভাবে দেখা যায় এমন স্থানে থাকতে হবে—যা সাধারণত হয়ে থাকে প্যাকেটের পেছনের দিকে।

এতে ব্যবহৃত প্রতিটি উপাদানের তালিকা থাকে, যেখানে সাধারণ খাদ্য অ্যালার্জেনগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

GettyImages-2161809042.jpg
Cereals that contain gluten—so wheat, rye, barley and oats—must also be listed on the label to advise those with Coeliac disease and gluten intolerance.

সাধারণত দেখা যাক চিনাবাদাম ও ট্রি নাটস—যেমন বাদাম, কাজু, হ্যাজেলনাট ও ম্যাকাডেমিয়া— এগুলো প্রতিটি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়, কারণ কেউ কেউ একটিতে অ্যালার্জিক হলেও অন্যটিতে নাও হতে পারেন।

একইভাবে ক্রাস্টেশাও আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত থাকে—কারণ কেউ চিংড়িতে অ্যালার্জিক হলেও ঝিনুকে নাও হতে পারেন।

এ ছাড়া গ্লুটেনযুক্ত শস্য—যেমন গম, রাই, বার্লি ও ওটস—লেবেলে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, যেন সিলিয়াক রোগে আক্রান্ত ও গ্লুটেন অসহিষ্ণু ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য পান।

কোনো পণ্য গ্লুটেন-ফ্রি হলেও তা সব সময় প্যাকেটে স্পষ্টভাবে লেখা নাও থাকতে পারে। উপাদানের তালিকাই জানিয়ে দেবে খাবারটিতে আসলে গ্লুটেন আছে কি না।

তবে অ্যালার্জি ছাড়াও খাদ্যসংক্রান্ত অন্য অনেক বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হয়।

অ্যালার্জির বাইরে নানা কারণে মানুষ খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলে—এর মধ্যে ধর্মীয় অনুশীলনও রয়েছে।

ধরা যাক, আপনি কোশার খাদ্যবিধি মেনে চলেন।

কোশার অস্ট্রেলিয়ার চিফ অব মার্কেটিং অ্যান্ড লজিস্টিকস শোশ ল্যান্ডাউ বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় তারা কোশার সনদ প্রদানকারী দুইটি প্রধান সংস্থার একটি—তাই তাদের লোগোর দিকে খেয়াল রাখতে বলেন তিনি।

Young People Eating Together
Halal dining can be more challenging than shopping for halal products, and businesses are sometimes reluctant to display the Halal logo on their premises. Credit: FreshSplash/Getty Images

কোশার অস্ট্রেলিয়া অ্যাপে সম্প্রতি বারকোড স্ক্যান করার একটি নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

মিজ ল্যান্ডাউ বলেন, এর ফলে ভোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত দোকানের বদলে সাধারণ সুপারমার্কেটেই কেনাকাটা করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রায় তিন শতাংশ মানুষ হালাল খাদ্যবিধি অনুসরণ করেন, এবং এই খাতটি দ্রুত আরও বড়ো হচ্ছে।

ড. মুহাম্মদ খান ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার স্বীকৃত হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হালাল অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি গ্রোসারি দোকানে কেনাকাটার সময় ভোক্তাদের বিশ্বস্ত হালাল কর্তৃপক্ষের সনদ-লেবেলের দিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন।

হালাল অ্যাপ যেমন হালাল অ্যাডভাইজর ভোক্তাদের নানা ধরণের সহায়তা দিয়ে থাকে, যদিও এগুলো হালাল অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত নয়।

ড. খান বলেন,

ভোক্তাদের নিজেদেরই তথ্য যাচাই করে নেয়া উচিত, তবে 'হালাল অস্ট্রেলিয়া' সাহায্য করার জন্য সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

গ্রোসারির দোকানে কেনাকাটা এক ধরণের ব্যাপার, কিন্তু বাইরে গিয়ে খাবার খাওয়ার সময় বিধিনিষেধ থাকা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ধরনের পরিকল্পনার দরকার পড়ে।

যদি আপনার খাদ্য-অ্যালার্জি থাকে, তবে সেই দোকানের স্টাফদের জানিয়ে রাখতে ভুলবেন না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Allergenic foods in bowls
Allergenic foods in bowls, still life. Credit: SCIENCE PHOTO LIBRARY/Getty Images/Science Photo Libra

মিজ রোশ বলেন, যে-সময় ব্যস্ততা কম থাকে সেরকম সময়ে যাওয়া ভালো, যেন স্টাফদের সঙ্গে কথা বলা যায়।

তিনি বলেন,

রেস্তোরাঁ সাবধানে নির্বাচন করুন, সহজ উপাদানের খাবার অর্ডার করুন, এবং ক্রস-কন্টামিনেশনের ঝুঁকি এড়াতে ব্যুফে-স্টাইল খাবার এড়িয়ে চলুন।

কোশার খাবারের জন্য রেস্তোরাঁ খুঁজতে গিয়ে সাধারণত যে কোনো জায়গায় গিয়ে কোশার খাবার অর্ডার করা যায় না। এ-ক্ষেত্রে পুরো রেস্তোরাঁকেই কোশার সনদপ্রাপ্ত হতে হবে, এবং কোশার অস্ট্রেলিয়া অ্যাপে এধরণের রেস্তোরাঁর একটি বিস্তৃত তালিকা আছে।

ড. খান বলেন, হালাল খাবারের জন্য রেস্তোরাঁয় বা বাইরে খাওয়া গ্রোসারি কেনাকাটার চেয়ে একটু কঠিন হতে পারে, এবং মালিকরা কখনও কখনও তাদের প্রতিষ্ঠানে হালাল সনদ লোগো দেখাতে অনিচ্ছুক থাকেন।

তবে সবসময় নিজেরা তথ্য যাচাই করে নেয়াই সবচেয়ে নিরাপদ, বিশেষ করে এখন যেহেতু এই বিষয়ে অনেক ধরণের টুলস যেমন অ্যাপ বা ওয়েবসাইট রয়েছে।

দরকারী তথ্যের জন্য দেখুন:

অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবনে স্থায়ী হওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং টিপসের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জানুন’ পডকাস্ট অনুসরণ করুন।

আপনার কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পডকাস্টে শুনতে চাইলে  australiaexplained@sbs.com.au  -এ আমাদের ইমেল করুন।


Share

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now